অন্য পত্রিকা থেকে

তারেক রহমানকে কারা চালায়

নিউজ ডেস্ক: বছর দুয়েক আগের ঘটনা। বিএনপির এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক মেয়র গিয়েছিলেন লন্ডনে। চেষ্টা করলেন দলের নীতিনির্ধারক নেতা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। কিন্তু সাক্ষাৎ পেলেন না। একইভাবে দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য ফিরে এসেছিলেন লন্ডন থেকে।

তারেক রহমান তার পছন্দের নেতাদের বাইরে কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন না। তবে সর্বশেষ সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় মাঠ পর্যায়ের নেতাদের ফোন করেছিলেন লন্ডন থেকে। চেষ্টা করেছিলেন তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে। কিন্তু এতেও বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিস্মিত হয়েছিলেন। কারণ, তাদের সঙ্গে দলের সেকেন্ড ম্যানের সাধারণ যোগাযোগটুকুও নেই।

বিএনপির এক প্রবীণ নেতা আক্ষেপ করে বললেন, কার রাজনীতি করি, কিছুই বুঝি না। বিএনপির ভিতরে নানামুখী হতাশা রয়েছে। তার একটি হলো, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংগঠনিক নেতাদের দূরত্ব। এখনো হাওয়া ভবনের সেই কর্মকর্তারাই রয়েছেন তারেক রহমানের সঙ্গী হিসেবে। তারেক রহমানের আশেপাশে ঘুরে-ফিরে সেই হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই আধিপত্য। এখনো তারাই তারেক রহমানকে চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, তারেক রহমানের বক্তৃতা-বিবৃতি, পরামর্শ দেওয়াসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হাওয়া ভবনের এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে তাদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত আরও পাঁচ উপদেষ্টা। বিএনপিতে যারা অপরিচিত মুখ বলে আলোচিত। অবশ্য এদের একজন যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন বেশকিছু দিন। বাকিদের সবাই বিএনপির আদর্শের বাইরে। এদের কেউ জাসদ, কেউ বাম বা অন্য আদর্শের সঙ্গে জড়িত বলেও জানা গেছে। তারেক রহমান তাদের ওপরই আস্থাশীল।

জানা যায়, তারেক রহমানের উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম, হুমায়ুন কবীর ও মাহদী আমিন। এর মধ্যে ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েমকে ইতিমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে তারেক রহমানের চারজন উপদেষ্টা রয়েছেন।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বিবৃতি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বিএনপির বৈদেশিক দূত ও বিশেষ উপদেষ্টা জাহিদ এফ সরদার সাদী ও ডা. মজিবর রহমান মজুমদারকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারাও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানা গেছে। কংগ্রেসের ছয় সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন এ দুই উপদেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ওই দুই উপদেষ্টাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন।

জানা যায়, হাওয়া ভবনের সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশই লন্ডনমুখী হয়ে ভিড় করছেন তারেক রহমানের আশেপাশে। বিশেষ করে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ এর আগে-পরে যারা দেশ ছেড়ে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের বেশির ভাগই এখন লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছেন। দৈনিক দিনকাল পত্রিকার এক সময়ের মফস্বল সম্পাদকের সহকারী তৌহিদুল ইসলাম ওরফে আশিক ইসলাম এখনো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাঝে-মধ্যে যুক্তরাজ্যে এসে তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারেক রহমানকে নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ের মূল উদ্যোক্তাও তিনি।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কলকাতায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের কাউন্সিলর প্রেসের দায়িত্ব পালনকারী সালেহ শিবলি ও পুলিশের সাবেক এএসপি গিয়াসউদ্দিন রিমনও এখনো তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন। সূত্র জানায়, হাওয়া ভবনের তৎকালীন স্বঘোষিত মুখপাত্র আশিক ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়ী হিসেবে সেটেলড হলেও সম্প্রতি লন্ডনে একটি বাসা ভাড়া করে প্রায়ই সেখানে এসে থাকছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

বছর দুয়েক আগে তিনি কয়েকজন কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে তারেক রহমানের নামে ইংরেজিতে একটি বই লিখে সে বইয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেন। এ নিয়েও বিএনপিতে নানা সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঢাকায় অবস্থান করেও তারেক রহমানের অলিখিত উপদেষ্টার ভূমিকায় রয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন ও সাবেক ছাত্রদল নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবালেরও লন্ডনে যাতায়াত রয়েছে। তিনিও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে খ্যাত। লন্ডনে গিয়ে বিভিন্ন সময় তারেক রহমানকে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম জয়, সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ অনেকেরই তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তারা দেশ-বিদেশের নানা খবরাখবর তারেক রহমানের কাছে পৌঁছান।

এ ছাড়াও ঢাকায় হাওয়া ভবনের আরও বেশকিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তারেক রহমানের বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদান করে থাকেন। সূত্র জানায়, হাওয়া ভবনের সেই সময়ের কর্মীদের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না তারেক রহমান।

জানা যায়, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদও তারেক রহমানের অঘোষিত উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করছেন। লন্ডনে অবস্থান নেওয়া তারেক রহমানের সার্বিক বিষয় দেখভাল করেন মূলত তারাই। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগসহ তার আর্থিক বিষয়ও অনেক ক্ষেত্রে তারাই দেখভাল করে থাকেন।

এ ছাড়া সদ্য ঘোষিত যুক্তরাজ্য বিএনপির ছয়টি আঞ্চলিক শাখার নতুন কমিটি-ব্রেডফোর্ট, কভেস্ট্রি, লুটন, সোয়ানসি, কোলচেস্টার ও শেফিল্ডের শীর্ষ নেতারাও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। এসব নেতা ও উপদেষ্টার প্রভাবই তারেক রহমানের ওপর সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। যদিও তাদের অধিকাংশেরই বিএনপির মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close