লন্ডন থেকে

লন্ডনে সাহিত্য সংগঠন সংহতির ২৫ বছর পূর্তি উদযাপিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার সংগঠন সংহতি সাহিত্য পরিষদ পথচলার দীর্ঘ ২৫ বছর পাড়ি দিয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার লন্ডনে আয়োজিত রজতজয়ন্তী উৎসবে স্বরচিত কবিতা পাঠ করলেন প্রবাসের কবিরা।

পূর্ব লন্ডনের টয়েনবি হলে অনুষ্ঠিত ‘সংহতির’ এই উৎসব হয়ে ওঠে প্রবাসী কবি সাহিত্যিকদের মিলনমেলা। তাঁদের কবিতায় বারবার উঠে এলো বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। বাদ যায়নি বাংলার মাটি ও মানুষের কথা। সুদূর পশ্চিমা দেশে বসতি গড়লেও তাঁদের হৃদয়ে কেবলই বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বের পরিচালনা করেন দিলু নাসের, মুনিরা পারভিন, ইকবাল বুলবুল, শামীম শাহান, রেজওয়ান মুরুফ ও শতরূপা চৌধুরী। স্থানীয় সময় রাত ১১টায় পর্যন্ত চলে সাহিত্যপ্রেমীদের এই মিলনমেলা।

স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেলুন আর কবুতর উড়িয়ে উদ্বোধন হয় সংহতির রজতজয়ন্তী উৎসবের। সেখান থেকে র‌্যলি নিয়ে বাংলা টাউন প্রদক্ষিণ করে সাহিত্যপ্রেমীরা সমবেত হন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজনস্থল টয়েনবি হলে। এখানে অতিথিরা রজতজয়ন্তীর কেক কেটে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ফারুক আহমদ রনি বলেন, সংহতির প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৯ সালে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে লালন করার প্রয়াস থেকে বিলেত পাড়ি দেওয়া সাহিত্যপ্রেমীদের উদ্যোগে সংগঠনটি যাত্রা করেছিল। যা আজ ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করল।

অনুষ্ঠানে পলল নামে একটি সাহিত্যভিত্তিক ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়। পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সংহতির নব গঠিত ঢাকা, সিলেট, কলকাতা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও দুবাই শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দকে।

প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনে সাহিত্য চর্চার মতো কঠিন কাজ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় সংহতির প্রশংসা করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। বাংলা সাহিত্যে আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন কবি শোয়াইব জিবরান। আর বাংলা সংস্কৃতিতে অকৃত্রিম অনুভূতির পরশ খুঁজে পাওয়ার কথা জানান যুক্তরাজ্যের মূলধারার কবি স্টিফেন ওয়াটস।

প্রবাসে বাংলা সাহিত্য সংগঠনের এ জয়যাত্রা উদ্যাপনে বাংলাদেশ থেকে আসা কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশকে যে কত ভালোবাসেন সংহতির রজতজয়ন্তী উৎসব তারই প্রমাণ দিচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নবান প্রবাসীদের সম্ভাবনার কথা শোনান।

আনিসুল হক বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ শিশু স্কুলে যায়। এই শিক্ষার মধ্যেই আছে বদলে দেওয়ার অকল্পনীয় শক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের আবিষ্কার আর খেলার মাঠে ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেই আছে অসম্ভবকে জয় করার অসীম ক্ষমতা। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কৌতুক করতেও ছাড়েননি এই কথা সাহিত্যিক।

অতিথিদের বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি ও ছড়া পাঠ করেন কবি নূরুল হক, শামীম আজাদ, আতাউর রহমান, মইনুর রহমান, মুনিরা পারভিন, শহিদুল ইসলাম সাগর, আফসানা আহমদ, দিলু নাসের, আবু তাহের, মজিবুল হক মনি ও শাহ শামীম আহমদসহ অন্যান্য প্রবাসী কবিরা।

যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা বাঙালি নতুন প্রজন্মের শিশু শিল্পীদের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী শেখ রানা, বাদশা বুলবুল, গৌরী চৌধুরী ও মিতা তাহের। ১০৮ তারের ক্লাসিক্যাল বাদ্যযন্ত্র সন্তুরে তোলা জনপ্রিয় সব গানের সুরে দর্শকদের বিমোহিত করেন কলকাতা থেকে আগত সন্তুর শিল্পী কুনাল সাহা।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সংহতির পক্ষ থেকে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের হাতে গুণীজন সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা পদক পেয়েছেন ইংরেজি সাহিত্যের কবি স্টিফেন ওয়াটস ও কবি সালেহা চৌধুরী। কবি জিবারন আহমদ, গীতিকার শেখ রানা, কণ্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুল, সন্তুর শিল্পী কুনাল সাহা, কানাডা থেকে আগত কবি আব্দুল হাসিব ও আমেরিকা থেকে আগত কবি জিয়া উদ্দিনকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা পদক। মরহুম তাসাদ্দুক আহমদকে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close