অন্য পত্রিকা থেকে

গোমর ফাঁস: এরশাদের জিওডি অ্যাওয়ার্ড জাতিসংঘের নয়, তৃতীয় শ্রেণির একটি সংগঠনের

নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য ৩য় গ্লোবাল অফিসিয়ালস ডিগনিটি অ্যাওয়ার্ড (GOD Award)-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তবে পুরস্কারটি জাতিসংঘের নামে প্রচারিত হলেও আদতে এটি জাতিসংঘের নয়। পুরস্কারটি দিচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়াস্থ উই কেয়ার ফর হিউম্যানিটি (WCH) নামের একটি নন প্রফিট অরগানাইজেশন।

এরশাদ বলেন, তারা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে আমি কিছুই চূড়ান্ত করিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত এরশাদ জাতিসংঘের পুরস্কার গ্রহণ করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মহাসচিব বান কি মুন এই পুস্কার তুলে দেবেন- তথ্যটি ঠিক নয়। মূলত, এই জিওডি অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানি জাতিসংঘের একটি হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। এটি উই কেয়ার ফর হিউম্যানিটি (WCH) নামের একটি নন প্রফিট অরগানাইজেশন দিয়েছে।

এর আগে প্রথম পুরস্কারবিতরণী অনুষ্ঠান হলিউডের একটি অডিটরিয়ামে এবং দ্বিতীয়বার বেভারলি হিলটন হোটেলে আয়োজিত হয়েছিল। আর এই তৃতীয়বার পুরস্কার বিতরণ করা হবে জাতিসংঘের একটি হলরুমে। এর আগে গত এরশাদের প্রেস ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতিসংঘের একটি পুরস্কার গ্রহণ আগামী ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি।

পুরস্কার দাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যালো-ই-এর প্রিন্সেস মারিয়া আমর। তিনিই অ্যাওয়ার্ডটির প্রবর্তক। প্রিন্সেস মারিয়া আমর ফিলিপাইন থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়েছেন। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, ব্যালো-ই হচ্ছে ফিলিপাইনের লানাও-দেল-নর্ত প্রদেশের তৃতীয় শ্রেণির একটি পৌর এলাকা। যার জনসংখ্যা ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ৫০ হাজার।

জানা গেছে, পুরস্কার দাতা প্রতিষ্ঠানটির টিকানা হচ্ছে WE CARE FOR HUMANITY, 18743 S. Pioneer St. Ste. 205, Artesia, California 90701। আরও জানা যায়, অ্যাওয়ার্ডটি এবার বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের জন্য এরশাদসহ বিশ্বের ২৫ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। বলিউডের অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা ও জাম্বিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট কেনেথ ডেভিড কুয়ান্ডাসহ (Kenneth David Kaunda) ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশের ২৫ জনকে এই অ্যাওয়ার্ডটি দেওয়া হচ্ছে।

এরমধ্যে এরশাদসহ ৭ জনকে দেওয়া হবে আজীবন সম্মাননা। এদিকে, এই আন্তর্জাতিক মানের এই পুরস্কারের ফেসবুকে পেজে লাইক সংখ্যা ১২৯৫। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের নিয়ে পুরস্কারটির নামে ফেসবুক পেজে তাদের জীবন-বৃত্তান্তসহ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

তবে জিওডি অ্যাওয়ার্ড কর্তৃপক্ষের পোস্টারে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য এরশাদকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।অ্যাওয়ার্ড ও সংগঠনের লোগোর সঙ্গে জাতিসংঘের লোগোর মিল থাকলেও, এর সঙ্গে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশানের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পুরস্কারটি বিষয়ে বলতে পারেননি জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুও।  তিনি বলেন, এখনও জানি না। স্যারের সঙ্গে আজ দেখা হয়নি। আমি একটি বিয়েতে আছি। পুরস্কারটি জাতিসংঘের কি না, জানতে চাইলে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, এটা কারা দিচ্ছে, তা জানানো হবে। একটু অপেক্ষা করো।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close