ফিচার

দাদা, অনেক দেরি হয়ে গেছে: বিচারবর্হিভুত হত্যা, অসভ্যতা ও অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি

‘প্রলয় হলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না’ এই শিরোনামে কিছুদিন আগে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। ওই নিবন্ধে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিষয়ে উদ্বেগ-আশঙ্কা প্রকাশ করে এর মাশুল যে একদিন গোটা জাতিকে দিতে হবে সে কথা উল্লেখ করেছিলাম।

আজ যেন সেই আশঙ্কারই বাস্তব প্রমাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন খানিকটা বিরতির পর ফের শুরু হয়েছে বন্দুকযুদ্ধ-ক্রসফায়ার। এ যেন বিচারবর্হিভুতভাবে মানুষ হত্যার এক ভিন্ন কৌশল। গেল কয়েকদিন থেকে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকার পাতায় কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখতেই দেখা যাচ্ছে- মানুষ মরছে নির্যাতনে, না হয় বন্দুকযুদ্ধে। এই মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

এটা কোনোমতেই যেন থামছে না। এতে সহজেই অনুমেয়- বর্তমানে দেশে নাগরিক তথা মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটা নাজুক । এর আগেও দেশে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তবে এবার নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে গণপিটুনি, নির্যাতন ও বন্দুকযুদ্ধ। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ হতাহত হচ্ছে । এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি ।

প্রতিটি ঘটনার পরপরই কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাষ্ট্রের হর্তাকর্তারা চুপসে যাচ্ছেন । ফলে এদের যেন কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- আইন প্রক্রিয়ায় অপরাধ দমনে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রকর্তৃক বিচারবর্হিভুত হত্যার মতো পথ বেছে নেয়া। গত কয়েকদিনে সকালে ঘুম থেকে উঠেই শোনা যাচ্ছে বন্দুকযুদ্ধে এক যুবক বা সন্ত্রাসী কিংবা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই মিলছে তার পরিচয়, জানা যাচ্ছে নিহত ব্যক্তিটি কোনো দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল, না হয় তার নাম দেয়া হচ্ছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী।

আশ্চার্যজনক হলেও সত্য, ওইসব বন্দুকযুদ্ধে হতাহতের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একই ধরনের বক্তব্য- অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীদের সাথে বন্দুযুদ্ধের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

এ যেন প্রজাতন্ত্রের সেবক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের মহোৎসব চলছে। তবে একটি বিষয় অবাক হওয়ার মতো যে, এই বন্দুকযুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যও হতাহত হচ্ছে না। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে এই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।

অবশ্য নিহতদের পরিবারের দাবি, পুলিশ-র্যা ব ধরে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করছে। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কয়েক বছর থেকে মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহল নিন্দা-উদ্বেগ প্রকাশ করে আসলেও শাসকগোষ্ঠীর টনক নড়েনি।

অবশেষে গেল কয়েকদিনে এমনই কয়েকটি ঘটনা খোদ শাসক দলের মাঝেই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়া গত মঙ্গলবার র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তবে হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এটা বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরজুকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসও একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এছাড়া সম্প্রতি মাগুরায় ছাত্রলীগের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় একজন নিহত ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ওই নারীর পেটে থাকা শিশুটি গুলিবিদ্ধ হবার ঘটনায় মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের নেতা মেহেদী হাসান দুই দিন আগে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। কুষ্টিয়াতেও যুবলীগের এক নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার গাজীপুরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাইদুল ইসলাম (৩৫) নামে বাড্ডার ৯৭ ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নিহত হয়। দুদিন আগে রাতে তাকে আটক করে গোয়েন্দারা।

এসব ঘটনায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন আ’লীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমাধান নয়। তিনি বলেন, মোকাবিলা করতে যে পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে, আমার ধারণা এ পদ্ধতি ঠিক নয়। এক্সট্রাজুডিশিয়াল কিলিংয়ে কাজ হবে না।

বরং ছাত্রলীগকে তার আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে এবং দেশ গড়ার কাজে তাকে লাগাতে হবে। ওই পথে পরিবর্তন করতে হবে।’ আ’লীগের নেতা ও সরকারের মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পিটিয়ে শিশু হত্যা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এ ঘটনা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই অবস্থানের ক্ষেত্রে নিজেদের দলের কেউ জড়িত থাকলেও, তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে না।

সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অবশ্যই সরকারের জিরো টলারেন্স, সে যেই দলেরই হোক। এটা পরিষ্কার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে বক্তব্য না দিয়ে মামলা করা হলে, সেই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে পারে। এসব ব্যাপারে কেউ যদি মামলা করে, জুডিশিয়াল এনকোয়ারি বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে পারে। তবে তা আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে।’

তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসমূহ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘ সময় প্রতিবাদ করে আসছে। আওয়ামী লীগও বিরোধী দলে থাকার সময় প্রতিবাদ জানিয়েছে; কিন্তু আ’লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় গেল সাড়ে ছয় বছরে সংঘটিত কোন বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডেরই বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়নি।

ছাত্রলীগের নেতা আরজু নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমাধান কিনা, সে প্রশ্ন এ মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

অবশ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দাবি করেছেন, হাজারীবাগের ঘটনাসহ সব ঘটনায় বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। তবে এসব ঘটনা যে শুধু এই সরকারের আমলেই ঘটছে তা বলার সুযোগ নেই। অতীতে যেমন রক্ষিবাহিনী গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজ শিকদারকে হত্যার মধ্যদিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি বিগত বিএনপি সরকার ২০০৪ সালে র্যাব-চিতা ও কোবরার নামে এলিট ফোর্স সৃষ্টি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথকে সুপ্রশস্ত করে।

ফলে কোনো রাজনৈতিক দলই এর দায় এড়াতে পারে না। বিগত দিনে শেখ মুজিব থেকে শুরু করে জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা সবার আমলেই বিচারবর্হিভুত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নির্যাতনে মানুষ হত্যা যেমন কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মিদের কিংবা অন্য অপরাধীকে হত্যা করা হচ্ছে সেটাও গ্রহণযোগ্য নয়।

কারণ যারা মারা যাচ্ছে, এরা একেবারেই প্রান্তিক পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের বিচারের আওতায় আনতে যথেষ্ট পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার সঙ্গে কখনওই পরিবারের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া এভাবে একটি অপরাধ দমন করতে গিয়ে আরেকটি অপরাধের জন্ম দেয়া এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তেমনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নামে রাষ্ট্র কর্তৃক নাগরিকের প্রাণহাণি কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না। এসব ঘটনায় বলা যায়-আমাদের রাষ্ট্র ক্রমশ অমানবিক হয়ে উঠছে। রাজনীতিবিদরাও ক্রমশ নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। ক্ষমতা দখলের জন্য মানুষকে যেমন মারতে পারছে, তেমনি ক্ষমতার মসনদ স্থায়ী করতে প্রতিপক্ষ এমন কি নিজ দলের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে গুলি করে হত্যাও করা হচ্ছে।

আমরা যতদূর জানি, র্যাব যখন সৃষ্টি হয়েছিল, তখন আ’লীগ বিরোধী দল ছিল। তৎকালীন বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে র্যাবকে দিয়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সূচনা করেছিল বলে অভিযোগ ছিল আ’লীগের, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধেরও অঙ্গীকার ছিল তাঁর।

যদিও ক্ষমতায় বসার পর সে অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা যায়নি।বরং সেটা আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের দেয়া তথ্য মতে, গত সাত মাসেই ১১৮জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। জুলাই মাসেই বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ৭জন নাগরিক।

তবে বিচারবর্হিভুত হত্যা এগুলোই নতুন নয়, ২০১৪ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১২৮ জন, এছাড়া ২০১৩ সালে ৭২ জন, ২০১২ সালে ৯১ জন, ২০১১ সালে ১০০জন, ২০১০ সালে ১১৩জন, ২০০৯ সালে ২২৯ জন, ২০০৮ সালে ১৭৫ জন, ২০০৭ সালে ১৮০ জন এবং ২০০৬ সালে ৩৫২ জন বিচারবহির্ভুত হত্যার শিকার হন।

বলা যায়, আজ রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসনের অভাবেই এ সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে । অন্যথা কেউ এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার পেত না। রাষ্ট্রে যখন আইনের শাসন সুনিশ্চিত হয়, তখন একদিকে যেমন অপরাধ প্রবণতা কমে আসে, অন্যদিকে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রয়োজন হয় না।

রাষ্ট্রে আজ নাগরিকরা নিরাপত্তাহীন। বর্তমানে ঘরের বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে এসব হত্যাকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, রাষ্ট্র এর দায় এড়াতে পারে না। আর সরকার ও আইন শৃংখলা বাহিনী যেভাবেই এসব হত্যাকাণ্ডকে বৈধ করার চেষ্টা করুক না কেন-ক্রসফায়ারের নামে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না।

বর্তমানে বিচারবহির্ভুত হত্যায় মানুষ হত্যার ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটা নাজুক। এখানে মানুষের জানমালের স্বাভাবিক নিরাপত্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার অধিকারের বিষয়টি সংকোচিত হয়েছে। জোর করে ক্ষমতা দখল যেমন গণতান্ত্রিক রীতি নয়, তেমনি জনমতকে উপেক্ষা করে জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। ‘গণতন্ত্র’ মানে নিছক নির্বাচন নয়, রাষ্ট্রগঠনের-প্রক্রিয়া ও ভিত্তি নির্মাণের গোড়া থেকেই জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিশ্চিত করা।

জনগণের সেই ইচ্ছা ও অভিপ্রায় রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বক্ষেত্রে নিশ্চিত করা না গেলে তাকে কোনোভাবেই ‘গণতন্ত্র’ বলা যায় না। আর ব্যক্তির যে-মর্যাদা অলঙ্ঘনীয়, প্রাণ, পরিবেশ ও জীবিকার যে-নিশ্চয়তা বিধান করা ছাড়া রাষ্ট্র নিজের ন্যায্যতা লাভ করতে পারে না এবং যে সব নাগরিক অধিকার সংসদের কোনো আইন, বিচারবিভাগীয় রায় বা নির্বাহী আদেশে রহিত করা যায় না- সেই সব অলঙ্ঘনীয় অধিকার অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি।

তাই যদি কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করাটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ কিন্তু বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রীতি হতে পারে না। এতে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস না পেয়ে বরং প্রতিহিংসাকে উৎসাহিত করে।

এতে অপরাধ প্রবণতা আরো বেড়ে যেতে পারে। আর গণতান্ত্রিক পরিবেশ যেখানে নেই, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিক ঘটনা। মানবাধিকারের সুরক্ষার জন্য যেমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ অত্যাবশ্যক, তেমনি গণতন্ত্র সফলের জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাই সরকারের প্রতি আহবান রাখবো, অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে অপরাধীদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সেই সাথে বিচারহীনতা তথা দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসব বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের সাথে যারাই জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা হোক। আইনের শাসন কায়েম করে নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা হোক, তবেই আশা করা রাষ্ট্রে শান্তি ফিরে আসবে।

সবশেষে, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তদের উদ্দেশ্যে বলবো- দাদা, প্রতিবাদ অনেক দেরি হয়ে গেছে।এরপরও আপনাদের উপলব্ধিকে সাধুবাদ জানাই।

লেখক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গবেষক ও কলাম লেখক । ই-মেইল:sarderanis@gmail.com

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close