সিলেট থেকে

সিলেটে রাজনের এলাকায় আবারো আরেক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আবারো সিলেটে শিশু শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সদরের ঘোপালে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে ঘোপালস্থ ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরীর সংলগ্ন পুকুর কাম বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিক শিশুর নাম- মোঃ আকমল হোসেন (১১)। সে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার পাহাড়পুর (পূর্ব রাজনপুর) গ্রামের দিনমজুর মোঃ এখলাছ মিয়ার পুত্র। এ ঘটনায় নিহত আকমলের পিতা এখলাছ মিয়া বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামী করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নং- ১৩ (২১-০৮-১৫)।

মামলার আসামীরা হচ্ছে-শহরতলীর টুকেরবাজার ঘোপাল এলাকার লন্ডনী বাড়ি ও ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরীর মালিক হাজী মোঃ ওহাব আলী (৫৫) ও গোলাপগঞ্জ থানার ফুলসাইন্দ গ্রামের মৃত হাসিবের পুত্র বর্তমানে ঘোপাল ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরীর মিস্ত্রি আব্দুর রহমান (৪০)। তবে, এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার দুপুর আড়াই টার দিকে পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে শিশু আকমল হোসেনের লাশ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে। শুক্রবার মাগরিবের পর নামাজের জানাযা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত আকমলের ৪ ভাই ও ২ বোন। ভাইদের মধ্যে আকমল তৃতীয়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে জালালাবাদ থানার এলাকার ঘোপালস্থ ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে শিশু আকমল হোসেন ২ বছর ধরে ১৩শ’ টাকা বেতনে চাকুরী করে আসছিল। ঘটনার ৫/৬ দিন পূর্বে ফ্যাক্টরীর মালিক হাজী মোঃ ওহাব আলী ও মিস্ত্রি আব্দুর রহমানের কাছে আকমলের পিতা এখলাছ মিয়া বকেয়া বেতনের টাকা চাইতে গিয়ে তাদের সাথে তার কথাকাটাকাটিসহ মনোমানিল্য সৃষ্টি হয়। এর পর থেকে মালিক ওহাব ও মিস্ত্রি আব্দুর রহমান শিশু আকমল হোসেনকে নির্যাতন করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে তাকে আঘাত করা হয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন পুলিশ ওসমানী হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গের হিমাগারে রেখে দেয়। এদিকে ওইদিন রাত সোয়া ৮ টার দিকে ছেলের খবর পেয়ে নিহত আকমলের পিতা ওসমানী হাসপাতালে ছুটে গিয়ে আকমলের মাথা থেতলানো,মুখ মন্ডলের ডান পাশে ফুলা ও কান ও নাক দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে বলে দেখতে পান।

অন্য একটি সূত্র জানায়, শিশুটির পরিবারের আরো কয়েকটি সদস্য ওই ফ্যাক্টরীতে কাজ করে। ওই দিন কাজশেষে আকমলসহ আরো দুটি শিশু পার্শ্ববর্তী পুকুরে সাঁতার কাটতে নামে। পুকুরের পাশে রয়েছে শৌচাগার। ওই শৌচাগার ভেঙ্গে গেলে শিশুটি নিচে পড়ে যায়।

এরপর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওসমানী হাসপতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেনু চন্দ্র দেব জানান, মামলাটির আসল রহস্য উদঘানের জন্য তদন্ত চলছে। মামলার আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে গত ৮ জুলাই শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close