Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

টাইম স্কোয়ারে অর্ধনগ্ন নারীদের প্রদর্শন বন্ধে টাস্কফোর্স

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: পেনিসিলভেনিয়ার হ্যারওভার শহরের জন ও কেথি ওয়াটস টাইমস স্কোয়ারে বসে মদ খাচ্ছিলেন আর নারীদের মূকাভিনয় উপভোগ করছিলেন। বেশিরভাগ দিনই বিকেল বেলা এরকম অনেক পুরুষই ডজনখানেক নগ্ন নারীর মহড়া দেখতে টাইমস স্কোয়ারে ভিড় করেন।

পর্যটকদের সাথে ছবি তুলে টাকা আয় করেন এই নারীরা। ২১ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে পেনিসিলভেনিয়ার হ্যারওভার শহরে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু টাইমস স্কোয়ার থেকে নগ্নতা দূর করতে নিউইয়র্কের মেয়র উচ্চ পর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছেন।

এরপর থেকেই অর্ধনগ্ন নারীদের আর দেখা মিলছে না। শুক্রবারই মেয়র ডি ব্ল্যাসিও এ বিষয়ে তার অবস্থান পুর্নব্যক্ত করে জানান, টাইমস স্কোয়ারে অর্ধনগ্ন নারীদের উপস্থিতি বন্ধ করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন উপায় নিয়ে ভাবা হচ্ছে। যার মধ্যে প্রয়োজনে ওই স্থানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

মেয়র বলেন, টাইমস স্কয়ারে এসব নগ্ন-অর্ধনগ্ন নারীদের উপস্থিতি ‘বিরক্তিকর’ এবং তারা যেভাবে অর্থ উপার্জনের পথ বের করেছিলেন তা আমার কাছে পুরোপুরি অনুপযুক্ত মনে হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি টাইমস স্কোয়ারে অর্ধনগ্ন হয়ে শরীরে রং মেখে ও বিভিন্ন সুপারহিরোর পোশাকে সেজে অনেক মহিলাই আসেন। এরাই পর্যটক আকর্ষণ করে তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ও ছবি তুলে অর্থ উপার্জন করেন। কর্তৃপক্ষ বারবার সাবধান করলেও তাঁদের এই কর্মকান্ড বন্ধ হয়নি।

মেয়র বিল ডি ব্ল্যাসিও, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম ব্র্যাটন ও প্ল্যানিং কমিশনার কার্ল ওয়েইসব্রডের নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেশ করার কথা। এরই প্রতিবাদে গো টপলেস, ফ্রি দ্য নিপল স্লোগানে ২৩ আগস্ট রবিবার বিশ্বের ৬০টি শহরের রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার নগ্নবক্ষা নারী অধিকার কর্মী। তাদের দাবি পুরুষদের মতোই নারীদেরকেও জনসম্মুখে নগ্নবক্ষে চলা-ফেরার সমঅধিকার দিতে হবে।

বিশ্বব্যাপী আয়োজিত এই নগ্নবক্ষ বিক্ষোভের সবচেয়ে বড় সমাবেশটি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। সম্প্রতি সেখানকার টাইমস স্কোয়ারে বেড়াতে আসা লোকদের কাছে একদল নারীর নগ্ন হয়ে বখশিশ আদায়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ টাইমস স্কোয়ারে নগ্ন ও অর্ধনগ্ন নারীদের আনা-গোনা নিষিদ্ধের ব্যাপারে আলোচনা করছিল। আর তাতেই নারী অধিকার কর্মীরা নতুন করে এই নগ্নবক্ষা বিক্ষোভের আয়োজন করে।

নিউইইয়র্ক সিটির গো টপলেস গ্রুপের নেতা অভিনেত্রী এবং মডেল র্যা চেল জেসি বলেন, বিশ্বব্যাপী রবিবারের নগ্নবক্ষা বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরুষদের মতো নারীদেরও জনসম্মুখে খোলা বুকে চলাফেরার অধিকার আদায় করা। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রকাশ্যে নগ্নবক্ষে চলাফেরা করার স্বাধীনতার ব্যাপারে নারী ও পুরুষদের মাঝে সমতা স্থাপন করা, নারীদের বুককে উম্মুক্ত করা।

তার নেতৃত্বে রবিবার নিউইয়র্কের মধ্য ম্যানহাটনে ৩০০ নগ্নবক্ষা নারী বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানবাহন চলাচলও বন্ধ করে দেয়।

প্রসঙ্গত, নিউইয়র্কের রাস্তায় নারীদের নগ্নবক্ষে বের হওয়াটা সেই ১৯৯২ সাল থেকেই বৈধ। কিন্তু নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্ল্যাসিও এবং পুলিশ কমিশনার বিল ব্র্যাটন এখন অর্ধনগ্ন ও নগ্নদেহে রঙ্গের আবরণ লাগিয়ে নারীদের টাইমস স্কয়ারে আনা-গোনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব তুলেছেন। আর এর বিরুদ্ধেই নগ্নবক্ষে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নারী অধিকার কর্মীরা। টাইমস স্কয়ারের ওই নগ্ন নারীরা টাকার বিনিময়ে পর্যটকদের সঙ্গে ছবির জন্য পোজ দিত। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কিউমো একে পর্নোগ্রাফির সঙ্গে তুলনা করে এর বিরোধীতা করেছেন।

শুধু নিউইয়র্কই নয় বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশ কয়েকটি নগরীসহ রবিবার বিশ্বব্যাপী ৬০টি শহরে ‘গো টপলেস ডে’ উপলক্ষে অসংখ্য ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দফতর হোয়াইট হাউসের সামনে এক নারী পুরো নগ্ন হয়ে স্ট্যাচু অব লিবার্টির ভঙ্গিতে দাড়িয়ে ছিলেন।

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অন্তত ৫০ জন নগ্নবক্ষা নারী শহরের প্রধান সড়ক রয়্যাল মাইল প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সড়কের পাশে তারা প্রায় দুই ঘন্টব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট করেন। এসময় পথচারি ও দোকানিরা হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে থাকেন। গো টপলেস আন্দোলনের উদ্যোক্তারা নারী-পুরুষ উভয়কেই ২৩ আগস্টে নারীর সমঅধিকার আদায়ের ৯৫তম বার্ষিকীতে ‘নগ্নবক্ষ গর্ব নিয়ে জেগে ওঠার এবং সমঅধিকার স্থাপনে সাংবিধানিক সংশোধনী আনার দাবি ব্যক্ত করার আহবান জানায়।

নগ্নবক্ষা আন্দোলনের মুখপাত্র র্যানচেল জেসি বলেন, শত শত বছর ধরে বিরাজমান লিঙ্গ অসমতা এবং পুরুষদের নিরঙ্কুশ শাসনই এই গ্রহের প্রধান প্রধান ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী। সমাজের জন্য যা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। এখন পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে। শরীরকে নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে পারলেই নারীদের মুক্তি মিলবে ও ক্ষমতায়ন হবে। বক্ষ ও দেহকে মুক্ত করলে মনও মুক্ত হয়। যার পরিণতিতে আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা পুনঃস্থাপিত হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close