অন্য পত্রিকা থেকে

শেফদের শর্ট টাইম ভিসা ইস্যুর জন্য ডেভিড ক্যামেরনের কাছে আবেদন করছেন এনাম আলী

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: রন্ধন শিল্প বিশেষ করে বাংলাদেশী ও ভারতীয় খাবার ব্রিটিশ জনগনের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লোভনীয় এক কারি হিসেবে ব্যাপক স্বীকৃত রয়েছে। বাংলাদেশী টিক্কা মসল্লা, জালফ্রেজি, ডোপেয়াজা, মোগলাই, কুরমা আর ভারতীয় হারিয়ালি খানা পিনা ব্রিটিশ জনগনের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সকল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং বলা যায় টিক্কা মসল্লা এখন তাদের জাতীয় একপ্রকারের কারি।

হালের ব্রিটেনে এই রন্ধন শিল্পে দক্ষ শেফের অভাবে রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ে সেক্টর মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন। এমনকি অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট সেজন্য বন্ধও হয়ে গিয়েছে। ডজন-হাজার খানেক বন্ধ হওয়ার পাইপ লাইনে। অথচ এই শিল্পে ১০০,০০০ হাজারের উপরে লোক কর্মরত এবং বছরে এই সেক্টর থেকে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ড আয় হয়ে থাকে বা সরকার রাজস্ব পেয়ে থাকে।সেই হিসেবে এই সেক্টর অবশ্যই স্বীকৃত এবং ট্রাডিশনাল ব্যবসায়ের মতো নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দাবীদার। অথচ নির্মম বাস্তব সত্য হলো ব্রিটেনে এই সেক্টর এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতও নয়।

তারউপর মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে শেফ সংকটের কবলে পড়ে এখন এই সেক্টর বড় ধরনের এক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যেই নানা সংস্থা থেকে এর সমাধানের লক্ষ্যে নানান দাবী দাওয়া ও বক্তব্য এবং লবিং করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান কঠিণ ইমিগ্রেশন নীতির কারণে এই সংকট সমাধানের পরিবর্তে আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

আজ থেকে ১০ বছর আগে এনাম আলী এমবিই যখন কারী এওয়ার্ড প্রবর্তন করেন, তখন থেকে এই এওয়ার্ড ধীরে ধীরে মূলধারায় ব্যাপক সাড়া জাগাতে শুরু করে, যার ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে এই কারী অস্কার খ্যাত এওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে এই শিল্পের সমস্যার সাথে নিজেদের সংহতির সাথে বেশ সংবেদনশীল মনোভাব প্রদর্শন করেছিলেন।

তখনকার এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এনাম আলী যখন এই সেক্টরে দক্ষ শেফ আমাদানীর ব্যাপারে দাবী জানিয়েছিলেন, ডেভিড ক্যামেরন তখন বলেছিলেন, “এখানে ইমিগ্রেশনের প্রশ্ন জড়িত এবং এ সেক্টরে দক্ষ শেফের প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক “।কিন্তু এই পর্যন্তই রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এই সেক্টরের সমস্যার ক্ষেত্রে সমাধানের সফট টাচ ছিলো- যা এখনো অধরাই রয়ে আছে।

[youtube id=”xGjqXMRcXsU” width=”600″ height=”350″]

এনাম আলী বসে নেই। তিনি এখন ভারতীয় উপমহাদেশ সহ সর্বত্র চসে বেড়াচ্ছেন, গ্রাউন্ড ওয়ার্কের বাস্তব ভিত্তিক তথ্য এবং সেই সাথে লিয়াজোর জন্য আবশ্যকীয় যে মিডিয়া কাভারেজ সেজন্যে দক্ষিণ এশিয়ার ঐ প্রান্ত থেকে টেমসের পার পর্যন্ত সুর তুলেছেন- এই সমস্যার সমাধান চাই- এই সেক্টরের লক্ষ লক্ষ লোকদের জীবন জীবিকা এবং শত হাজারো লাখো পাউন্ডের বিনিয়োগের নিরাপদ রিটার্ণ ও অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকারের উদ্যোগের জন্য লবিং করছেন। যার প্রমাণ আমরা পাই গত তিনদিন ধরে এনাম আলী ইকোনোমিক টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, এনডিটিভি, টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল সব ক্ষেত্রে প্রচারণা জোরে শোরে শুরু করেছেন- একটাই আওয়াজ শেফ আনার সুযোগ দিতে হবে।

এনাম আলী ইকোনোমিক টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টেলিগ্রাফ, বিবিসি সহ সব জায়গায়ই একটাই আবেদন করছেন, যদি দক্ষ শেফ আনার সুযোগ না দেয়া হয়, তাহলে এই সেক্টর বন্ধ হয়ে যাবে। এ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কেন রাখতে হবে সেই সব ব্যাখ্যাও তিনি দিচ্ছেন। ইমিগ্রেশনের অজুহাতে যদি অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে প্রসেসিং সহ সব কিছু সহজীয় করতে আরো দু তিন বছর সময় লেগে যাবে, যদি তাই হয় তাহলে এই দু-তিন বছরে এই শিল্পের রেস্টুরেন্টগুলো শেফের অভাবে একে একে বন্ধ হয়ে যাবে। আবার বিকল্প ব্যবস্থায় এখান থেকে শেফ ইতোমধ্যেও প্রোপারলি তৈরি করাও যাচ্ছেনা, সেটাও সময় সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যকরী হচ্ছেওনা।

২০১৩ সালে কারি এওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে ডেভিড ক্যামেরনের বক্তব্য- সেজন্যে এনাম আলী চান, স্বল্প-মেয়াদী ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু করে এই মুহুর্তে স্বল্প মেয়াদী সমাধান আর লংটার্ম হিসেবে এই সেক্টরের জন্যে দক্ষ শেফের আনার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন আইন রিলাক্স করা। এনাম আলী তাই এই দাবীর জন্যে যাবতীয় পেপারওয়ার্ক তৈরিতে ব্যস্ত। তিনি এই আবেদন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে, কমন্স সভার লিডার ক্রিস গ্রেলিং বরাবর এপ্লিকেশন জমা দিবেন। এনাম আলীর বিশ্বাস একটা সলিউশন বেরিয়ে আসবে।

ইকোনোমিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার কাছে এনাম আলী বলেছেন, একজন শেফ ট্রেনিং এর জন্য দরকার পড়ে তিন বছর সময়। এই তিন বছর সময়ের মধ্যে শতাধিক রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দরকার দ্রুত পদক্ষেপ।

এনাম আলী আরো বলেন, ২০১৩ সালে ডেভিড ক্যামেরন বলেছিলেন দক্ষ শেফের জন্য তিনি হেল্প করবেন। সেঈ সূত্রে তিনি মনে করেন সময় এসেছে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের শেফ আনয়নের সেই হেল্পের।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close