ফিচার

আজ বঙ্গবীর ওসমানীর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী: মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। তিনি ১৯১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

ওসমানীর পৈতৃক নিবাস বালাগঞ্জ থানার দয়ামীর গ্রামে। তাঁর পূর্বপুরুষ শাহ নিজাম উদ্দিন ওসমানী হযরত শাহজালাল (রঃ) এর ৩৬০ জন সঙ্গীর অন্যতম একজন সঙ্গী। তাঁর পিতা মরহুম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ছিলেন তৎকালীন বৃটিশ সরকারের অধীনে আসামের ডেপুটি ম্যাজিষ্টেট। তাঁর মাতা জোবেদা খাতুন ছিলেন একজন আদর্শ ও ধর্ম পরায়ণ উজ্জল চরিত্রের রমনী। ওসমানীর নানার বাড়ি বিশ্বনাথ থানার রায়কেলী গ্রামে।

বাল্যকালে ওসমানীর আদরের নাম ছিল আতা। পরিবারের বয়োজ্যৈষ্ঠরা এই নামেই ডাকতেন। মায়ের কঠোর শাসনের মধ্যে ওসমানী শৈশব জীবন অতিবাহিত হয়। গৃহ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিজগৃহে ওসমানী প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ওসমানীর বড় এক ভাই ও এক বোন ছিলেন। ওসমানী ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। বড় ভাই মরহুম নূরুল গণি ও বোন মরহুমা সদরুন্নেছা খাতুন ছিলেন বয়সে তাঁর চেয়ে অনেক বড়। মায়ের প্রতি ছিল ওসমানীর অসীম শ্রদ্ধা। ওসমানীকে শামনের মধ্যে রাখলেও আদরের কোন ত্রুটি ছিল না স্নেহময়ী মায়ের।

ওসমানী প্রথম ১৯২৯ সালে আসামের কটন স্কুলে ভর্তি হন ও পরে সিলেট সরকারী হাই স্কুল থেকে ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। ইংরেজীতে বিশেষ পারদর্শীতার জন্যে প্রিটোরিয়া পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৩৪ সালে উচ্চ শিক্ষার্থে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউ.এ,টিসি’র সার্জেন্ট ও পোষ্টারিয়েল মনিটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্যার সৈয়দ হলের অন্যতম উপদেষ্টাও ছিলেন।

এছাড়া তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় আসাম বেঙ্গল ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে লক্ষৌর সার্ভেন্স অব ইন্ডিয়া সোসাইটি হলে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রথম নিখিল ভারত সম্মেলনে ওসমানী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান করেন এবং সম্মেলনের বিষয় নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯১৮ সালে কলা বিভাগ থেকে ডিগ্রী লাভের পর ভূগোলে এম এ প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীণ হন এবং শেষ পর্ব পরীক্ষার পূর্বে ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে বৃটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করেন।

১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমী থেকে সামরিক শিক্ষা লাভ করে বৃটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশন প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বৃটিশ সাময়িক বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর নিযুক্ত হন। তিনি মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

১৯৪৬ সালে বৃটিশ সেনাবাহিনীর ইষ্টার্ন কমান্ড সিলেকশন কমিটি কর্তৃক উচ্চ শিক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদের অধ্যায়নের জন্যে যোগ্য বলে মনোনীত হন এবং ১৯৪৭ সালে ষ্টাফ কলেজ প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় বৃটিশ ও ভারতীয় সেনা বাহিনী অফিসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী নম্বর পেয়ে উর্ত্তীণ হন। তিনি আই সি এস এ মনোনীত হন কিন্তু সৈনিক জীবনকেই পছন্দ করেন। তাই তিনি আই সি এস এ যোগদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি লেফট্যান্যান্ট কর্ণেলের পদে উর্ত্তীণ হন। তিনি কোয়েটা ষ্টাফ কলেজ থেকে পি এস সি, ডিগ্রী লাভ করেন।

তিনি সেনাবাহিনীতে চাকুরীকালীন বিভিন্ন ধরণের দূরদর্শিতা ও সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হন। তিনি তাঁর নিয়ম শৃংখলা ও চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য সিনিয়র অফিসারদের নজর কাড়তে সক্ষম হন। তিনি ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ই.পি.আর) অতিরিক্ত কমান্ড্যান্ট, ১৯৫৬ সালের মে মাসে মিলিটারী ও অপারেশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর এবং ১৯৫৭ সালে তিনি কর্ণেল হিসেবে উন্নীত হন। ১৯৬১ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেনাবাহিনীর ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীতে ওসমানী ছিলেন একজন আদর্শ, সৎ চরিত্র ও নিষ্ঠাবান সৈনিক। বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করেও কর্মে নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত ছিলেন। সামরিক বাহিনীর সুনাম ও খ্যাতির চেষ্টায় আপ্রাণ পরিশ্রম করতেন। ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বৈশিষ্টপূর্ণ ঐতিহ্য রক্ষায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজাগ।

তিনি মাত্র দু’টি ব্যাটালিয়ান থেকে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সংখ্যা ছয়টিতে বৃদ্ধি সহ সেনাবাহিনীতে বাঙ্গালীর সংখ্যা ২ থেকে ১০ এর অধিক করা এবং বাঙ্গালীদের জন্যে নির্দিষ্ট সংখ্যা অনুপাতে কমিশন ও অফিসার পদসহ সর্বস্তরে বাঙ্গালী সিনিয়রদের জন্য পদ সংরক্ষণ করেন। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় বাংলা কবিতা ‘চল চল চল’ কে পাকিস্তান ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মার্চ সঙ্গীত হিসাবে অনুমোদন লাভে সফল হন।

এছাড়া পাকিন্তান সামরিক বাদ্যযন্ত্রে সরকারী ভাবে ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ ও ‘গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির পথ’ বাংলা গান প্রচলন হয় তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। সেনাবাহিনীর শহীদ পরিবারের বিকলাঙ্গ ও প্রাক্তন সৈনিকদের মঙ্গলের এবং সুখের প্রতি ওসমানীর আগ্রহ ছিল বেশী। তাদের মঙ্গলার্থে তিনি সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন। বেঙ্গল রেজিমেন্ট তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিল। এজন্যে তাঁকে Father of the regiment বলা হয়।

সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করার পর ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মন্ত্রীসহ উচ্চ পদের লোভ পেয়েও গ্রহণ করেননি। ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন এবং আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তানের বৃহত্তর নির্বাচনী এলাকা বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ এই চারটি থানা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকা থেকে চারজন প্রতিদ্বন্দীকে বিপুল সংখ্যক ভোটে পরাজিত করে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর একটি কমান্ডো তাঁর ঢাকাস্থ বনানীর বাসাতে আক্রমন করে। ওসমানী ভাগ্যক্রমে রক্ষা পান এবং ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি নৌকা যোগে ও পায়ে হেঁটে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যুদ্ধরত ব্যাটেলিয়ানের সাথে মিলিত হন।

১৯৭১ সালের ১২ই এপ্রিল মুজিব নগর গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠনের সাথে সাথেই ওসমানীকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীসহ মুক্তি বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিয়োগ করা হয়। তিনি দায়িত্ব প্রাপ্তির পর দ্রুত নিয়মিত বাহিনী গঠন ও বিরাট গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। অসীম সাহস ও অক্লান্ত পরিশ্রসের সাথে চরম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করেন। তাঁর দুরদর্শিতা ও অসীম দক্ষমতার জন্য মাত্র নয়মাসে মুক্তিবাহিনী এক বিরাট সাফল্য লাভ করে। জাতির প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্ণেল এম এ জি ওসমানী পি এস সি কে জেনারেল পদে উন্নীত করেন এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকরী হয়।

১৯৭২ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং গণ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ১২ই এপ্রিল জেনারেল ওসমানী বাংলাদেশ সরকারের জাহাজ চলাচল আভ্যন্তরীণ ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ ব্যবস্থার পূনর্বাসন ও সুষ্ঠু জাহাজ ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলেন আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জেনারেল ওসমানী বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ এই দুটি থানার সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তিনি শতকরা ৯৪ টি ভোট লাভ করেন।

১৯৭৪ সালের জুলাই মাসে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় বাকশাল গঠনের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের সদস্য পদ ও আওয়ামীলীগের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালের ২৯শে আগষ্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির অনুরোধে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব অবৈতনিক হিসাবে পালন করেন। এই সময় তিনি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি এবং সামরিক শক্তির অবকাঠামো নির্ধারণ করেন ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা দূরকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।

তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পুনগঠিত করেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও পুনর্বাসন সহ সমস্যাবলী দূরীকরণের ব্যবস্থা করেন। জাতি সংকটময় অবস্থার সম্মুখীন হলে ওসমানী রক্তপাত ও গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে মহান দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওসমানী জাতীয় জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি বিরোধীদল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ওসমানী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৭৯ সালে জনগণের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যে অপরিহর্য সামরিক আইন সহ নিবর্তনামূলক কালাকানুন বাতিলের দাবিতে জেনারেল ওসমানীর জাতীয় জনতা পার্টি নির্বাচন বর্জন করে।

১৯৮১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮২ সালে দেশে সামরিক আইন জারী এবং রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ হলেও স্পষ্টবাদী ও নীতিপরায়ণ ওসমানী সোচ্চার ছিলেন। তিনি জনগণের হৃদয়ে ঠাই করেছিলেন আপোষহীন ব্যাক্তিত্ব হিসাবে। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে

১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৬ বছর বয়সে তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০শে ফেব্রুয়ারী ওসমানীর মরদেহ সিলেটে নিয়ে আসা হয়।

সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেনারেল ওসমানীর বিশাল নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী শাহজালাল (রঃ) এর দরগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে মায়ের পাশে লাশ সমাহিত করা হয়। প্রতিদিন বহু লোক আসেন কবর জিয়ারত করতে। তারা অশ্রু সজল নয়নে কবরের পাশে দাঁড়ান।

বৈচিত্র জীবনের অধিকারী ওসমানীর জীবন ছিল শৈশব থেকেই রুটিন বাঁধা। তিনি আদর্শ, দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের ছিলেন এক অনন্য প্রতীক। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। তিনি ছিলেন কিংবদন্তীর এক মহানায়ক। তাঁর শখ ছিল মৎস্য ও জন্তু শিকার। জীবনের প্রথম দিকে তিনি সিনেমা ও যাত্রা দেখতে পছন্দ করতেন।

তিনি ছিলেন একজন চৌকষ স্কোয়ার্স গলফ খেলোয়ার ও দক্ষ অশ্বারোহী। ছবি তোলা ও অবসর সময়ে বই পড়া ছিল তাঁর শখ। তিনি সরিলা কুকুর পুষতেন। ওসমানী ছিলেন চিরকুমার। তাঁর শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত সিলেট শহরের নাইওরপুলে তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্যে সরকারী উদ্যোগে ওসমানী যাদুঘর গড়ে উঠেছে।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী জাতির কাছে একটি প্রিয় নাম। তিনি বীরত্ব, কর্তব্য, নিষ্ঠা ও চারিত্রিক গুণাবলীর জন্যে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন মুক্তিসংগ্রামের উত্তাল দিনগুলোর জ্বলন্ত ইতিহাসে। অগ্নিপুরুষ ওসমানী এক মহান আদর্শের প্রতীক।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্নিবাণ শিখায় ভাস্কর। ওসমানী আছেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে, ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন বাংলার মুক্তির ইতিহাসে। আমাদের নব প্রজন্মের সামনে এই বীর সন্তানকে মর্যাদার সাথে তুলে ধরার জন্যে সোচ্চার কণ্ঠে দাবী রাখছি বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হোক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close