অন্য পত্রিকা থেকে

লন্ডনে হুমকির মুখে বাঙালী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যবসা জমে উঠার অপেক্ষায় লন্ডনের গ্রোসারী শপ এবং বস্ত্র ব্যবসায়ীরা। যদিও অনেকেই বলেছেন গেলো রমজানে তাদের ব্যবসা আশানুরূপ হয়নি।

এদিকে ইস্ট লন্ডনের বাঙালী পাড়ার ব্যবসায়ীরা জানালেন, হাইস্ট্রীট সুপারস্টোরগুলোতে এশিয়ান ফুডের সমাহার এবং বিশেষ কোনো উপলক্ষ্য ছাড়াও এশিয়ান বস্ত্র কেনার প্রতি অনাগ্রহই বেচাকেনার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে না থাকতে পেরে বাঙালী মালিকানাধীন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখেও আছে। এ জন্য অবশ্য বেচাকেনা কমের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।

টাওয়ার হ্যামলেটসের সর্বমোট জনসংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশ বাঙালী। বাঙালী জনসংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইস্ট লন্ডনের এ এলাকায় বাঙালী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। বাংলা টাউনের রেষ্টুরেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি বেথনালগ্রীন এবং হোয়াইটচ্যাপল এলাকায় গ্রোসারী এবং বস্ত্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে থাকেন বাঙালী ব্যবসায়ীরা। টাওয়ার হ্যামলেটসহ গ্রেটার লন্ডনে বর্তমানে প্রায় ৭০টি গ্রোসারী দোকান রয়েছে বাঙালী মালিকানাধিন।

আর পুরো ইউকেতে আছে প্রায় ১ হাজারের বেশি। কিন্তু হাইস্ট্রীটে টেসকো, সেইসন্সবারি এবং আজদা, লিডলসহ সুপারস্টোরগুলোর শাখা বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব সুপারস্টোরে এথনিক ফুড বিক্রি শুরু করায় হুমকির মুখে পড়েছে এশিয়ান বা বাঙালী গ্রোসারীগুলো।

প্রায় ২০ বছরের পুরনো বাংলা টাউন ক্যাশ এন্ড কারির ডাইরেক্টর জানালেন, সব জাতের এশিয়ান ফুড এখন টেসকো, আজদা এবং সেইন্সবারীতে পাওয়া যায়। এমনকি এথনিক ফুডের উপর ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ছাঁড় দেয়া হয়। এ কারণে সার্ভিস, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি এবং মূল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছে বাঙালী মালিকানাধীন গ্রোসারীগুলো।

অন্যদিকে টাওয়ার হ্যামলেটস বা গ্রেটার লন্ডনে তৈরী পোষাক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বাঙালী মালিকানাধীন এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একেবারে কম নয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনালগ্রীনের আমানা লন্ডনের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আকবর হোসেন জানালেন, নতুন প্রজন্মের এশিয়ান বা বাঙালী মেয়েরা শাড়ী এব সেলোয়ার কামিজ পড়তে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না বলেই এ ব্যবসা কমছে। বিয়ে স্বাদীতে ম্যাচ মেকিংয়ের কারণেই ঠিকে আছে তাদের ব্যবসা।

এ দ্ইু ব্যবসায়ীর কাছে প্রশ্ন ছিলো বাঙালী মালিকানাধীন গ্রোসারী ও বস্ত্র ব্যবসা ধ্বসে আর কী কী কারণ থাকেত পারে? এর জবাবে কাস্টমার সার্ভিস এবং ব্যবসা পরিচালনায় অনভিজ্ঞতার পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটসের পার্কিং সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তারা। বস্ত্র ব্যবসায় সাধারণত নতুন বিনিয়োগকারী সংখ্যা খুব দেখা যায়। পুরনো ব্যবসায়ীরাই তাদের ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করে চলছেন। এর সেক্টরে কাস্টমার সার্ভিসে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহিলা বেশি থাকেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের মেয়েদের দেখায় যা। যদিও তারা এশিয়ান কাপড় ব্যবহারে এতোটা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না।

অন্যদিকে গ্রোসাসী সেক্টরে ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই বিনিয়োগ করেন থাকেন। আর এক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা কতটুকু আছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অনেক নতুন বিনিয়োগকারীকে কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বা মালিকানা বদল করতে দেখা যায়।

এছাড়া গ্রোসারীতে বিশেষ করে যারা টিলে বা ক্যাশ কাউন্টারে থাকেন তাদের কাস্টমার সার্বিসের অনভিজ্ঞতার বিষয়টিও এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। টিলে যারা থাকেন, তারা অত্যন্ত আনস্মার্ট, নিরসমুখে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাস্টমারকে নূন্যতম হায়-হ্যালো বলতেও দ্বিধাবোধ করেন তারা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, টেসকো, আজদা এবং সেইন্সবারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হলে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং কাস্টমাসর সার্ভিস কতোটা জরুর?

বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের লন্ডন রিজিয়নের চেয়ার বশির আহমদ জানালেন, ব্যবসায় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, কাস্টমার সার্ভিসেও বিনিয়োগ করতে হবে। নতুন ব্যবসা শুরুর সময় এক্সিট রুটটাও বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে কোনো কারণে নতুন এ ব্যবসাটি ছেড়ে দিতে হলে কতোটা কম লোকসান দিয়ে ব্যবসা ছাড়তে হবে এ কারণে নতুন ব্যবসা শুরুর আগে লোকেশনসহ নানান কিছু আগেই বিবেচনা করে সেখানে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে সবার আগে যে ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন সেই ব্যবসা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহনের কথা উল্লেখ্য করে তিনি আরো বলেন, নিজে এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা বদল করে আমেরিকান ফার্স্টফুড ব্যবসা শুরুর আগে তাকে প্রায় ৬ সপ্তাহ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসা উন্নতিতে পার্কিং সুবিধা সহায়ক হলেও টাওয়ার হ্যামলেটস ইনার সিটির অংশ হওয়ায় এখানে এর চেয়ে ভালো পার্কিং সুবিধা আর হবে না বলেও মনে করেন বশির আহমদ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close