ইউরোপ জুড়ে

সাগর পাড়ে পড়ে আছে সেই ছোট্র শিশিুটির নিথর দেহ: তাতেও মন গলেনি ইউরোপের নেতাদের

শীর্ষবিন্দু নিউজ: অভিবাসী নিয়ে ভয়াবহ হুমকির মুখে ইউরোপ। আর বিশ্বজুড়ে এখন যে ছবি বারবার দাগ কাটতে সবার মনে সেই ছোট্র শিশুটির ছবি। ব্রিটেনের নতুন সকাল কি এই অসহায় শিশু আর মানুষগুলোর পাশে আশার আলো হয়ে উঠতে পারেনা ? অবশ্যই পারে- সেজন্যে চাই একটুখানি উদ্যোগ- ডেভিড ক্যামেরন এবার একটা কিছু হলেও করবেন

ইউরোপে পাড়ি দেয়ার জন্য বাবা মা জীবনের তাগিদে, হতে পারে শিশুটিকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে উন্নত ও সুস্থ্য এবং নিরাপদ জীবনের আশায় নিজ ভুমি ছেড়ে শিশুটিকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ইউরোপে ঢুকার আশায়। কাগজে কলমে, বক্তব্যে, বিবৃতিতে জেনে এসেছিলেন, বিশ্ব মানবাধিকারের সূতিকাগার এই ইউরোপ।কিন্তু মা বারা জানা ছিলোনা, মানবাধিকারের ধবব্জাধারীদের মানবাধিকার রক্ষার মুখের বুলি শুধু ঐ তৃতীয় বিশ্বের জনগনের জন্যে না যতোটুকু দরদ, আহ্লাদ দেখানো, ততোটুকু দরদ সেই জনগনের জীবন মান উন্নয়নের ও নিরাপত্তা বিধানের জন্যে নয়। না হলে একটি অবুঝ কোলের শিশু সাগরের পাড়ে উত্তাল পানিতে ভেসে উঠলো।

তারপরেও ইউরোপের সেই বিশ্ব নেতাদের টনক নড়লোনা। কতোটুকু টুকরো টুকরো আর পানিতে তলিয়ে গেলে এই নেতাদের টনক নড়বে, বিবেকে দাগ কাঠবে- সেটা আল্লাহই জানেন। ইউরোপের নেতাদের এই কি মানবতার জন্য দরদ?

সিরিয়া সহ আফ্রিকার দেশে দেশে যে নারকীয় সন্ত্রাস আর ধবংসলিলা চলছে, এই মানুষগুলো সেখানে কি করে বাঁচবে? বাঁচার তাগিদে যার যা আছে, তাই নিয়ে এক কাপড়ে এরা ইউরোপের উদ্দেশ্যে সাগরের উত্তাল জোয়ার বাঁধা পেরিয়ে ছুটে আসছে।এতোটুকু আশায়, মানবাধিকারের নেতারা অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

আসাদের মতো স্বৈরাচারদের হয় সামলাও, নাহলে অসহায় নিরীহ মানুষগুলোকে আশ্রয় দেও।জাতিসংঘ সহ সবাই বলছে এদের প্রতি একটু সদয় হও- অথচ এরা আজ নীরব। বিশ্বের বড় নেতা ওবামা, ডেভিড ক্যামেরন এরা আজ নিরব আর নানা কৌশলী খেলায় মত্ত। ইউরোপের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ইউরোপের দরজা এই অসহায় মানুষদের জন্য সীমিত হলেও খুলে দেয়ার কথা বলছেন।

আজকে সাগরের পানিতে ভেসে উঠা শিশুটির ছবি প্রকাশ করে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেট লিখেছে, আমরা জানি এমন ছবি প্রকাশ সঠিক নয়, কিন্তু আমরা বাধ্য। ডেভিড ক্যামেরন ও ব্রিটেনের জন্য এই ছবি বলছে, আর নয়, এখন এক্ট করার সময়।

লেবার দলের নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্ধিতাকারী ইওভেট কোপার গতকাল বলেছিলেন, ব্রিটেনের ১০,০০০ রিফিউজি গ্রহণ করা উচিৎ আর আজকে এই ছবি দেখে বলছেন এখনই আমাদের কাজ করা উচিৎ, আর সময় ক্ষেপন নয়, এখন কোন পলিসি নয়।

এখন পর্যন্ত ডেভিড ক্যামেরন তার দলীয় কৌশল আর পলিসি নিয়েই আছেন। এখনো কি এই ব্রিটিশ নেতার হ্নদয়ে দাগ কাটবেনা? লিবডেম পার্টির টিম ফারান সাহসিকতার সাথে তাই বলেছেন, আর সময় নয়, এখনই ডেভিড ক্যামেরনের জন্য এতা ওয়েক-আপ কল।টাইম টু এক্ট নাও।

এখন পর্যন্ত কনজারভেটিভ নেতৃত্ব কোন বিবৃতি দেয়নি। একজন মা যখন সর্বশেষ ভাবে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে ডুবন্ত নৌকার পাটাতন ধরে হলেও নিজ সন্তানটিকে উচু করে ধরে বাচিয়ে রাখতে, তখনো যখন নিরুপায় হয়ে শিশু সন্তানটি সাগরের পানিতে ভেসে যাচ্ছে আর সেই ছবি দেখার পর আর কি অপেক্ষা করার সময় আছে, হে ডেভিড ক্যামেরন- গণতন্ত্রের পূজারী এবার জেগে উঠো- এবার কিছু একটা করো।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close