জাতীয়

বিদেশিদের মুদ্রা ও সম্পত্তির তথ্য দিতে আইন পাস

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে অবস্থানরত অন্য দেশের নাগরিকদের হাতে থাকা বিদেশি মুদ্রা এবং বিদেশে তাদের সম্পত্তির তথ্য চাওয়ার বিধান রেখে একটি আইন পাস হয়েছে সংসদে। রোববারের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৫ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে বাংলাদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ও অন্য দেশের নাগরিকদের হাতে থাকা বিদেশি মুদ্রা বা বৈদেশিক সিকিউরিটিজ সম্পর্কিত তথ্য এবং বিদেশে তাদের স্থাবর বা অন্য সম্পত্তির বিষয়ে তথ্য চাইতে পারবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের এজেন্ট হিসাবে কাজের জন্য লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শাখা অফিস বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপনের ক্ষেত্রে আগেই বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর নিয়ম আর থাকবে না। বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমোদন নিয়েই এখন এ ধরনের অফিস চালু করা যাবে। তবে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

গত জুলাইয়ে অর্থমন্ত্রী আইন সংশোধনের প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পরীক্ষার পর তা ফেরত আসে। বিলের সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সময় জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম এবং স্বতন্ত্র সদস্য হাজি মো. সেলিম আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা তুলে ধরেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকে। কিন্তু আমরা যারা আছি তারা কী ঘোড়ার ঘাস কাটতে আছি? মন্ত্রিসভা কী ঘোড়ার ঘাস কাটতে আছে? এখানে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা জানেন, কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমলাতন্ত্রকে কীভাবে ধরতে হয়, তা আমরা জানি।

বৈদেশিক মুদ্রা ও সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৪৭ সালে এই আইনটি করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৬ ও ২০০৩ সালে দুই দফা সংশোধন করা হয়। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে আইনটি প্রয়োগে কোনো অস্পষ্টতা না থাকলেও বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ছিল। তা দূর করতেই এই সংশোধন। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কারেন্সি, সিকিউরিটিজ, এক্সচেঞ্জ, অ্যাকাউন্ট, ট্রানজেকশনস, সার্ভিসেস, ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ট্রানজেকশনস, গুডস- এসব শব্দের সংজ্ঞাও হালনাগাদ করা হয়েছে।

এই আইন বাংলাদেশের সব নাগরিক ও বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আইন সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক লেনদেনের প্রকার ও আকার এবং নিষ্পত্তির পরিসর অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনটি সংশোধন করা না হলে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হবে এবং যুগোপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close