ইউরোপ জুড়ে

আয়লানকে কোলে নিতেই নিজের ছেলের মুখটা ভেসে উঠেছিল

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সমুদ্রের তীর থেকে আয়লান কুর্দিকে কোলে তুলে নিয়েই এক মুহূর্তের জন্য নিজের ছেলের মুখটা ভেসে উঠেছিল তাঁর সামনে। তুরস্কের এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাত্কার দেওয়ার সময় এ কথা জানালেন

তিনি যেন সে দিনের সেই দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাঁর কোলে আয়লানের দেহ। এই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, প্রথমে শিশুটিকে দেখে ভেবেছিলাম বেঁচে রয়েছে। আমি ওর দিকে এগিয়ে যাই। কিন্তু কোলে তোলার পরেই বুঝতে পারি ও আর বেঁচে নেই। মুহূর্তেই ভেঙে পড়েছিলাম।

তিনি জানান, তাঁরও ছ’বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সমুদ্রে ভেসে আসা আয়লানকে দেখে এক মুহুর্তে তাঁর ছেলের মুখটি ভেসে উঠেছিল। পুলিশ নয়, এক জন বাবা হিসেবেই সে দিন আয়লানকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন সিপ্লাক। এ কথা বলতে বলতে তিনি কিছুটা বিহ্বল হয়ে পড়েন। বলেন, ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না সেই মর্মান্তিক দৃশ্য।

তাঁর এই ছবি বিশ্ব জুড়ে সমালোচনার যে ঝড় তুলেছে এ কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন সিপ্লাক। তিনি বলেন, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছিলাম। এক জন পুলিশ হিসাবে তিনি সে দিন কর্তব্য পালন করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু কথার মধ্যে কোথাও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার বাইরেও এক জন বাবা হিসাবে দৌড়ে গিয়েছিলেন আয়লানের কাছে। প্রার্থনা করেছিলেন শিশুটি যেন বেঁচে থাকে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে কানাডায় বোনের বাড়ি পালাচ্ছিলেন আবদুল্লা। রবারের নৌকা ভাড়া করে সমুদ্রপথে যাওয়ার সময় বিশাল বড় ঢেইয়ের মুখে পড়ে উল্টে যায় নৌকাটি। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি আবদুল্লা। তাঁরই এক ছেলে আয়লানের দেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল সমুদ্রের তীরে। ছোট্ট শিশুটিকে সে দিন কোলে তুলে নিয়েছিলেন তুরস্কের এক পুলিশ আধিকারিক মেহমেট সিপ্লাক। ছোট শিশুটির এই মর্মান্তিক পরিণতি গোটা বিশ্বকে কাঁদিয়েছিল। সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় সোশ্যাল সাইটগুলিতে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close