আরববিশ্ব জুড়ে

বৃটিশ বাহিনী আরো ড্রোন হামলা চালাবে সিরিয়ায়

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ইউকের রয়েল এয়ার ফোর্স গোপনে আরো ড্রোন হামলা চালাতে কোনো ধরনের সঙ্কোচবোধ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বৃটিশ ডিফেন্স সেক্রেটারী মাইকেল ফলেন। সোমবার রয়েল এয়ারফোর্সের ড্রোন হামলায় সিরিয়ায় দুজন বৃটিশ আইএস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের নিশ্চয়তার পর মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন ডিফেন্স সেক্রেটারী।

বৃটিশ আইএস যোদ্ধাদের উপর সিরিয়ায় রয়েল এয়ারফোর্সের ড্রোন হামলার ঘটনা আইনসিদ্ধ উপায়ে আত্ম সমর্থনের একটি অংশ বলেও জানিয়েছেন তিনি। আরএএফের ড্রোন হামলায় দুই বৃটিশ জিহাদী নিহতের খবর প্রকাশের পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ড্রোন হামলার আইন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলা হয়।

এদিকে ডিফেন্স সেক্রেটারীর এ ঘোষণায় সিরিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য বৃটিশ আইএস যোদ্ধাদের পরিবারে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ডিফেন্স সেক্রেটারী মাইকেল ফলেন বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহ বা মাসের ভেতরে নতুন কোনো সন্ত্রাসী আস্তানায় হামলার খবর আসতে পারে। এ পরিকল্পনায় বৃটিশ জিহাদীরা হিট লিস্টে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

ইসলামি স্টেইটে অবস্থানরত কার্ডিফের ২০ বছর বয়সী নাসের এবং ১৭ বছর বয়সী আসিল মুতাহানা রয়েল এয়ার ফোর্সের ড্রোন হামলার শিকার হতে পারেন বলে ধারণা করছেন তাদের বাবা আহমেদ মুতাহানা।

গত আগষ্ট মাসে সিরিয়ার রাক্কা শহরে রয়েল এয়ার ফোর্সের ড্রোন হামলায় আইএসের দুই ব্রিটিশ জিহাদী রিয়াদ খান এবং রুহুল আমিন নিহত হন। ২১ বছরের রিয়াদ কার্ডিফ এবং রুহুল স্কটল্যান্ডের এবার্দিনের বাসিন্দা। গত ২১ শে আগষ্ট এ হামলা চালায় রয়েল এয়ার ফোর্স। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন এ হামলার অনুমতি দিয়েছেন বলে সোমবার পার্লামেন্টে নিশ্চিত করেন। সিরিয়ায় রয়েল এয়ারফোর্সের এটি প্রথম ড্রোন হামলা। রিয়াদের পরিবারের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার আইনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ হামলার বিস্তারিত প্রকাশের দাবী জানিয়েছেন।

এদিকে যদিও সরকার বলছে, সশস্ত্র হামলা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য সহজাত আত্মপক্ষ সমর্থনের অংশ হিসাবে জাতিসংঘের আর্টিক্যাল ৫১-এর ধারা অনুসারেই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে লেবার মনে করছে হামলার নেপথ্য কারণসহ বিস্তারিত সংসদের ইন্টেলিজেন্স এবং সিকিউরিটি কমিটির তদন্ত করা উচিত। একই দাবী জানিয়েছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্র্টিও।

২০১৩ সালে সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে এয়ার স্ট্রাইকে যাবার জন্য সংসদে এমপিদের মতামত চেয়েছিল বৃটিশ সরকার। তখন এমপিরা সরকারের এ প্রস্তাবকে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু গত বছর সেপ্টেম্বরে আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এয়ার স্ট্রাইকে যাবার পক্ষে সংসদে ভোট দেন বৃটিশ এমপিরা। এখানে শর্ত ছিল বৃটিশ বাহিনী শুধু ইরাকে আই এসকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। সিরিয়ায় নয়। এ কারণেই সিরিয়ায় রয়েল এয়ার ফোর্সের ড্রোন হামলা নিয়ে আইনী বৈধতার প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ থেকে পূর্বানুমতি না নিলেও আইএসের হুমকি বৃটেনের জন্য নিরাপদ নয় মনে হলে এখনও সরকার চাইলে সংসদ থেকে এ হামলার বৈধতা নিতে পারবে। তবে এর আগে সরকারকে সিরিয়ার আইএস যোদ্ধারা যে বৃটেনের জন্য হুমকি ছিল বা আছে তা প্রমাণ করতে হবে।

গত ৪ বছরে সরকার এবং বিদ্রোহীদের সশস্ত্র গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২শ হাজার সিরিয়ান সর্বস্ব হারিয়ে পার্শ্ববর্তী লিবিয়া, ইরাক এবং তুরস্কে জাতিসংঘের শরনার্থী শিবিরে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছেন। ৪ বছরের গৃহযুদ্ধের মাঝেই ইসলামি স্টেইট সংক্ষেপে আইএসের হামলা শুরু হয়। এদিকে গত মাসে মার্কিন বাহিনীর অপর ড্রোন হামলায় জুনায়েদ হোসেন নামে আরেক বৃটিশ তরুন নিহন হয়েছেন বলেও জানা গেছে। গত ২৪শে আগষ্ট রাক্কা শহরে এ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close