ফিচার

মিনা ট্রাজেডি এবং রাজপরিবারের দায় অথবা মিনা ট্রাজেডি এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

আমরা জানি, হজ ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্ব পালন করা ফরজ। যা পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে উল্লেখ রয়েছে।এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাৎসরিক সম্মেলনও বটে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জন্মের পর শিশু যেমন নিষ্পাপ থাকে, হজ পালনকারীও অনুরূপ হয়ে যায়।’ অন্য হাদিসে আছে ‘শয়তান আরাফার দিন হতে অধিক লজ্জিত ও অপদস্থ আর কোনো দিন হয় না, কেননা ওইদিন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ ও অসংখ্য কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’

শুধু তাই নয়, কোরআন-হাদীস ও ইসলামের ইতিহাস মতে, কাবাঘরে সর্বপ্রথম হজ আদায় করে পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও নবী আদম (আ.); এরপর নূহসহ ইসলামের অন্যান্য নবী-রাসূলগণও হজ্জ্ব পালন করেন। যতদূর জানা যায় তাতে, ইব্রাহিম (আ:) এর সময় থেকেই হজ ফরজ হয়।

এছাড়াও মক্কায় শায়িত আছেন আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এসব কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের মক্কা-মদিনা গমণ এবং হজ্ব পালন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সঙ্গতকারণে সেই পূণ্যভুমির প্রতি মুসলমানদের আবেগ-ভালবাসাও অগাধ। কিন্তু এই হজকে ঘিরে যেভাবে দিন দিন জটিলতা বাড়ছে তাতে মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে হাজীদের হতাহতের ঘটনার পর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো শোকে মূহ্যমান বিশ্ব। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে চলছে শোকের মাতম।এবারের ন্যায় এত শোক বিশ্বের মানুষ আর কখনো সহ্য করেছে কিনা তা আমার জানা নেই। কেননা, ইতোপূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও শোকের আবহ এতটা আর কখনো ছড়ায়নি।

মিডিয়া, তথ্য-প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সেই মিনা ট্রাজিডির ঘটনার শোক মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের আনাচেকানাচে ছড়িয়েছে। মূহূর্তেই ঈদ আনন্দ ম্লান হয়েছে শোকের ছায়ায়। অনেক হাজী এখনো নিখোঁজ, মিনায় নিহত হাজীদের পরিচয় এখনো সনাক্ত হয়নি।ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের স্বজন হারানোর কান্নার রোল এখনও ভেসে আসছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ২৬ হাজীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, এখনো নিখোঁজ অর্ধশতাধিক।

নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারে কি যে এক শোকের মাতম চলছে তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো নয়। মিনায় কীভাবে এতো লোকের প্রাণহানির ঘটনা এবং পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সবারই জানা, সেহেতু তা পুনরোল্লেখ করে এখানে পাঠকের বিরুক্তি ঘটাতে চাই না। তবে ঘটনার পরবর্তী সময়ে এ ঘটনার দায়ভার, নিহতদের সংখ্যা, পরিচয় প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই সৌদি ও ইরান সরকারের সরাসরি পাল্টাপাল্টি দোষারোপের বক্তব্যও আমরা লক্ষ্য করেছি।

অন্য বেশ কয়েকটি দেশও মৃদুস্বরে হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সৌদি সরকার নিহতদের যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে তা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। নিহতদের সংখ্যা নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করার জন্য একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন দেশ অভিযোগ করছে

যে, মিনায় পদদলিত হয়ে এক হাজারের বেশি হাজী মারা গেছেন। এক্ষেত্রে ইরান, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার বক্তব্য উল্লেখ্য। যদিও সৌদি আরব বলছে নিহতের সংখ্যা ৭৬৯জন। ঘটনার কারণ সম্পর্কেও সৌদি সরকারের বক্তব্যের সাথে অনেকেরই ভিন্নমত রয়েছে। ফলে এসব বিষয় নিয়েই আমার কিছু ভাবনা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

সেই ছোটকাল থেকেই এলাকার মুরুব্বীদের কাজ থেকে সৌদী আরব আর হজের গল্প শোনে এসেছি। আমাদের এলাকার যারা হজ করতেন তারা দীর্ঘদিন ধরেই মক্কা-মদীনার গল্প শোনাতেন। ফলে একসময় তাদের কাছ থেকে শুনেছি ‘হজের পরিবেশ যেন হাশরের ময়দানের আবহ।’ এক সাথে কাবা তাওয়াফ, আরাফাত ময়দানে অবস্থান, মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ সবখানেই নারী-পুরুষ সমানতালে।

কেউ কারো দিকে তাকানোর ফুসরত নেই। সবাই নিজ নিজ কর্তব্য নিয়ে ব্যস্ত, সবাই ধ্যানমগ্নে মশগুল আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়ে। সেই সাথে হজের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সৌদী সরকারের নানা প্রসংশাও শুনেছি। ছোটকালে হাজীদের মুখ থেকে এসব গল্প শোনে মুগ্ধ হতাম। কিন্তু সাম্প্রতিককালে যেমন শুনছি সৌদিতে হজের অব্যবস্থাপনার নানা কথা, তেমনি শুনছি বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি হজ কাফেলা সংস্থার নানা প্রতারণার গল্প। সেই সাথে হজে গিয়ে হাজীদের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের সমালোচনাও শুনছি। যেমনটি হজে গিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, মক্কা-মদীনা থেকে প্রিয়জনদের সাথে নানা রঙ-রসের গল্প, ভিডিও চার্ট ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত, মাস খানেক আগে এক তরুণীর সাথে আমার পরিচয় হয়। সপ্তাহের দুই-তিন ঘন্টা দুয়েক সময়ের জন্য আমরা একটি প্রতিষ্ঠানে একত্রিত হই। মেয়েটি ইসলামী পোষাক-আশাকে আবৃত থাকেন। একদিন সেই মেয়েটির মন খারাপ দেখে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করতেই তিনি তার প্রেমিকের গল্প শোনালেন। এবার প্রেমিক হজে গেছেন, বেশ কিছুদিন থেকে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও কর্থাবার্তা নেই তাই তার মন খারাপ। এও জানালেন, কথা না বলে তারা একদিনও ঠিক থাকতে পারেন না।

প্রেমিকও নাকি তাকে জানিয়েছে, মক্কা-মদিনায় বসে তার (তরুণীর) কথাই সারাক্ষণ ভাবেন। এমন কি আমার সামনেই তারা উভয়ে ভিডিও কল করে দীর্ঘ সময় কথা বললেন। ভিডিওতে আমাকেও দেখালেন তার প্রেমিকের হজ পালনের দৃশ্য। পরে ওই তরুণীকে জিজ্ঞেস করলাম- আপনাদের কী বিয়ে হয়ে গেছে?

তিনি জানালেন, ভাগ্যে থাকলে বছরখানেকের মধ্যেই বিয়ে করবেন তারা।’ এছাড়া হজ করতে গিয়ে নানা স্টাইেলর সেলফি তুলে আপনজনদের কাছে পাঠানো, প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটার কথা বাদই দিলাম। এই তো নতুন প্রজন্মের হাজিদের কথা।

তাই মনে পড়ে গেল গ্রামবাংলার একটি প্রবাদের কথা। ‘কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না’-দুষ্টু ব্যক্তির অশিষ্ট আচরণের বর্ণনা দিতে বাংলা ভাষায় এ প্রবাদের গোড়াপত্তন হলেও এই চিরাচরিত প্রবাদ যে কতখানি সত্য এবার তার প্রমাণ মিলেছে সৌদিতে। পত্রপত্রিকায় দেখলাম হজ পালনের সময় নারী হাজিদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

সৌদি গেজেটের বরাদ দিয়ে পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনার জামারাতে প্রতীকী শয়তানের প্রতি পাথর ছোড়ার সময় হজ পালনরত নারীদের যৌন হয়রানির সময় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে। তার পরিচয় পুরোপুরি প্রকাশ করা না হলেও সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি যে এশীয় বংশোদ্ভূত তা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া অনেক হাজি বলেছেন, পাথর নিক্ষেপ নিয়ে আফ্রিকান নাগরিকের সঙ্গে এক পাকিস্তানির মারামারি হয়। এ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। ফলে মিনা ট্রাজেডিতে হজ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার পাশাপাশি হাজিদের ভুমিকাকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এমন একটি ধর্মীয় ইবাদতেও পদদলনে এত লোকের মৃত্যু হাজিদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মিনার যে জায়গাটিতে এ ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো ভয়ভীতি ছিল না। শুধু হাজিদের মানবিক দুর্বলতায় সেখানে শত শত মানুষকে পদদলনে হত্যা করা হয়, এত বড় মানবিক বিপর্যয় এটা খুবই বেদনাদায়ক।

তাই হজের জন্য অন্যান্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিও খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। ঘটনার পর আমরা লক্ষ্য করলাম-মিনার এই শোকাবহ ঘটনা নিয়ে সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি বাক-বিরোধে জড়িয়েছে। সেটা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দুই শিবিরের মিডিয়া স্ব স্ব পক্ষে পরস্পরকে দোষারোপ করে সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খােমেনী সৌদি আরবকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর প্রতিবাদে ইরানিরা বিক্ষোভও করেছে।ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গেল শনিবার জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার সময় এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। জাতিসংঘে এ নিয়ে আলোচনার জায়গা না হলেও তিনি সেখানে এ ইস্যুটি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ইরানি ৩০০ হাজীর আইন লঙ্ঘনের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অবশ্য ঘটনার পর আল দিয়ার নামে একটি আরব দৈনিকে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল-সউদ বৃহস্পতিবার মিনায় বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সউদের সঙ্গে বৈঠক করতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৩৫০ সদস্যের নিরাপত্তা বাহিনী।

যুবরাজের নিরাপত্তার কারণে চলাচল একমুখী করা হয়েছিল এবং এত বড় ঘটনার জন্য এর দায় আছে। প্রত্যক্ষদর্শী হাজীরাও একই ধরনের কথা বলেছেন। যদিও সৌদি আরব এ খবর ঠিক নয় বলে জানিয়েছে। ফলে এ থেকেই সহজে প্রতীয়মান, মিনার এই বিয়োগান্ত ঘটনা নিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। শিয়া-সুন্নী মতাদর্শের দীর্ঘদিনের বিরোধে লিপ্ত ইরান-সৌদীর কথা বাদই দিলাম।কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকেও এ ঘটনার কম সমালোচনা হচ্ছে না। সবমিলেই মিনায় পদপিষ্ট হয়ে ৭৬৯ জন (মতান্তরে সহস্রাধিক) হাজির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে সৌদি আরব।

সবাই মোটামোটিভাবে যে কথাটি বলার চেষ্টা করছেন তা হলো -হজের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সৌদি সরকার এটা কোনোভাবেই মেনে এর দায়ভার নিতে নারাজ। তবে যে যাই বলুক না কেন, ঘটনাটি যে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে এ কথা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। একদিন সৌদিকে এর দায় স্বীকার করতেই হবে।

কেননা, এ ঘটনা নতুন নয়, গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। হজে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯০ সালে মক্কার এক টানেলে। সে সময় পদদলিত হয়ে মারা গিয়েছিলেন ১ হাজার ৪২৬ জন হাজি। এছাড়া ১৯৯৪ সালে পদদলিত হয়ে ২৭০ জন, ১৯৯৭ সালে অগ্নিকান্ডে ৩৪৩, ১৯৯৮ সালে পদদলিত হয়ে ১১৮, ২০০৪ সালে পদদলিত হয়ে ২৫১, ২০০৬ সালে পদদলিত হয়ে ৩৬৪ জন আর চলতি বছর ক্রেন ভেঙে ১১১ ও পদদলিত হয়ে ৭৬৯জন মারা গেছেন।

সৌদি মিডিয়া ও সরকারের অভিযোগ ইরানি ৩০০ হাজির আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সত্য বলে ধরে নিলেও অনেকের মতে তা যথাযথ নিরাপত্তার প্রশ্নটিই সামনে আসে। ফলে সৌদি সরকার যাই বলুক না কেন, এ দায় তারা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। শুধু অব্যবস্থাপনাই নয়, সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে হজ নিয়ে ব্যবসা করারও অভিযোগ উঠেছে।

কেননা, ১৯৫০ সালে হজ ভিসা ছিল এক লাখেরও কম। ধরেই নিলাম গেল ৬৫ বছরে অবকাঠামো বেড়েছে, কিন্তু তাই বলে কি সেখানে ২৫ থেকে ৩০ গুণ বেশি মানুষের হজ করার মত সুযোগ বেড়েছে? নিশ্চয় না, তবে কেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এত লোকের সমাগম ঘটানো হয়?

সেই সাথে হজ ভিসাসহ অন্যান্য বাবদ খরচের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে অনেক। এসব থেকেই প্রতীয়মান, ধর্মীয় বিধান হজ নিয়েও সৌদি সরকার এক ধরনের বাণিজ্য করে আসছে। ফলে এ ধরনের মানসিকতা থেকেও তাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে।

এছাড়া দুর্ঘটনার পর ৮-১০ ঘণ্টার বেশিও সময় ধরে নিহতদের মরদেহ যেভাবে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে তা মূলত: অব্যবস্থাপনার দিকটিই বারবার সামনে নিয়ে আসে। তাই সৌদি সরকারের উচিত হবে, কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে এর দায় স্বীকার করে নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

মিনা ট্রাজেডিতে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে যে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে তাও স্বচ্ছতার সাথে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট করতে হবে সৌদিকে।অন্যদিকে ওইদিন যুবরাজের বিশেষ নিরাপত্তায় হাজিদের চলাচল একমুখী করার কারণেই এত বড় ঘটনা ঘটার যে অভিযোগ উঠেছে তাও খতিয়ে দেখে বিশ্ববাসীর সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত সৌদি সরকারের। অন্যথা এ নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে।

বর্তমান এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে এ ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করা মোটেও কঠিন নয়, শুধু প্রয়োজন আন্তরিক সদিচ্ছা। আশা করি সৌদি সরকার এ বিষয় আন্তরিকতা দেখাবেন। সেই সাথে হজ যেহেতু বিশ্ব মুসলিমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত, তাই এ নিয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে হবে।

প্রয়োজনে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের যৌথ উদ্যোগে এর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সবশেষে, চলতি বছর হজে ক্রেন দুর্ঘটনায় ও মিনা ট্রাজেডিত নিহত হাজিদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সর্বোচ্চ যাজা কামনা এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাদের সুস্থতা দান করুন। আমিন।

লেখক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,  শিক্ষা ও সমাজবিষয়ক গবেষক এবং কলাম লেখক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close