অন্য পত্রিকা থেকে

কাউন্সিল নিয়ে বিএনপির নয়া টার্গেট

মাহমুদ আজহার : চলতি বছরের শেষ দিকে ঘরোয়া পরিসরে কাউন্সিল করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে যাওয়ার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এমন আভাস দিয়ে যান। কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের চিন্তা বিএনপি প্রধানের।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল পর্যায়ে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে জেলা-উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে পারলে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাউন্সিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। ঘরে বসেই সুন্দর ও আকর্ষনীয় ডিজাইনের শাড়ী কিনতে এখানে ক্লিক করুন

এর আগে ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোও পুনর্গঠন করা হবে। খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেই পুরোদমে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক বিপর্যয় কাটাতে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্রে তিন বছর পর পর হওয়ার নিয়ম থাকলেও নানা প্রতিকূলতায় প্রায় ছয় বছরেও দলের জাতীয় কাউন্সিল করতে পারেনি বিএনপি। অবশ্য নানা সমস্যার কথা জানিয়ে কয়েক দফা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে সময়ও চেয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান বলেন, ২০১৩ সালে আমরা কাউন্সিল করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ভেন্যুও নির্ধারিত ছিল। কিন্তু দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র অনেক নেতাই গ্রেফতার হয়ে যান।

এরপর থেকে পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক হয়নি। এখনো অনেক নেতা জেলে। হুলিয়া নিয়ে অনেকেই আত্দগোপনে। তারপরও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে জাতীয় কাউন্সিল করা হবে।

তবে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণেই দল পুনর্গঠন নয়, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নই মূল উদ্দেশ্য। বিগত আন্দোলনগুলোতে অনেকেই দায়িত্বশীল পদে না থেকেও আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছেন। তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

জানা যায়, জাঁকজমকপূর্ণভাবে কাউন্সিলের দিকে যাচ্ছে না বিএনপি। অনেকটা সাদামাটাভাবে ঘরোয়া পরিবেশে কাউন্সিল করার কথা ভাবা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলররা ঢাকায় আসতে না পারলে বিকল্প মাধ্যমে তাদের মতামত নেওয়ারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর আগে ভেন্যু হিসেবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হলেও এবার ছোটখাটো কোনো ভেন্যু হতে পারে।

কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধনী এনে দলটির কাঠামো ও পদে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পক্ষে হাইকমান্ড। গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় আনা হবে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও বিয়োজন। ইতিমধ্যে সংশোধনীর খসড়া প্রণয়নে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তারা সংশোধিত ‘গঠনতন্ত্রের খসড়া’ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে উপস্থাপন করবেন।

বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী কাউন্সিলে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এতদিন গঠনতন্ত্রে দলের ‘চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ’ থাকলেও এবারই প্রথম সরাসরি ‘বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে গঠনতন্ত্রে। দলের চেয়ারপারসনকে পরামর্শ দিতে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বেশ কিছু ‘উপ-কমিটি’ বা ‘সেল’ গঠন করা হতে পারে।

প্রতিটি ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্য হবেন দলসমর্থক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা। বিগত কাউন্সিলে আলোচনা হলেও কার্যকর না হওয়া ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিও এবার সংশোধিত গঠনতন্ত্রে সংযোজন করা হতে পারে।

জানা যায়, আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সামনে রেখে ত্যাগী নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ভারমুক্ত হতে পারেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া অপেক্ষাকৃত তরুণ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বকেও সামনের সারিতে রাখবেন খালেদা জিয়া। এসব বিবেচনায় দলের নির্বাহী কমিটিতে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালাবেন তিনি।

এ লক্ষ্যেই দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবসহ নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হবে। বার্ধক্যজনিত কারণে কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায় থেকে কয়েকজনকে স্থায়ী কমিটিতে নেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন বেগম জিয়া।

যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদটিও শূন্য হতে পারে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, সারোয়ারী রহমান ও এম শামসুল ইসলামের পদেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। ত্যাগী ও তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠন করাই বিএনপির এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আরও গতি আসবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close