স্থানীয়

নবীগঞ্জে পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ: প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ

মতিউর রহমান মুন্না: নবীগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে উৎসবের আমেজ। পোস্টার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। পৌর এলাকার সর্বত্র পোস্টার টাঙিয়ে ঈদ ও পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সম্ভাব্য পৌর মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

আগামী ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ উর্ত্তীণ পৌরসভা নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন এমন সংবাদে নবীগঞ্জের সর্বত্র এখন নির্বাচন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে নবীগঞ্জ পৌর শহরে ও শহরতলীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্তমান ও সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা গেল দু’ মাস ধরে শুরু করেছেন তাদের প্রচার-প্রচারনা।

পাড়া, মহল্লাসহ শহরের নানা স্থানে শুভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেষ্টুন, পোষ্টার ও দেয়াল লিখন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মতবিনিময় এবং নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের প্রাণপন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন দলগতভাবে অংশ নেয়ায় দলের মনোনয়ন বাগিয়ে আনতে চলছে জোর চেষ্টা ও লবিং।

এক্ষেত্রে দেশের প্রধান বিরোধীয় দল বিএনপি রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি স্থানীয় সরকারের ওই নির্বাচনে অংশ নিবে কি না সিদ্ধান্ত না নিলেও নবীগঞ্জে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর প্রচারনা তুঙ্গে।

এ পর্যন্ত তাদের দলীয় প্রার্থীর তালিকায় পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার কাউন্সিলর আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছে।

তবে সরকারী দল আওয়ামীলীগ এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে। বতর্মান মেয়রসহ একাধিক প্রার্থী রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশায়। দল কাকে মনোনয়ন দিবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগছেন।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছেন বর্তমান তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ মিলু ও যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলের নাম শুনা যাচ্ছে।

এছাড়া আসন্ন পৌর নির্বাচনে স্বন্তন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট গীতিকার জাহাঙ্গীর আলম রানা। উক্ত জাহাঙ্গীর রানা বিগত ৩ বার পৌর নির্বাচনে স্বল্প ভোটে পরাজিত প্রার্থী মরহুম এডভোকেট আব্দুস শহীদ গোলাপের ভাতিজা।

এদিকে ভোটারদের মাঝেও আগাম নির্বাচনী হিসাব নিকাশ ও চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের অতীত ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ আলোচনায় বাদ নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পেশাজীবি লোকজনও।

আসন্ন নির্বাচনে প্রচারনায় মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত বর্তমান মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী (আওয়ামীলীগ)। সদা হাস্যজ্জ্বল সৎ এবং অত্যন্ত ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে ইতিমধ্যে পৌর নাগরিকদের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার শাসন আমলে পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সুসর্ম্পক থাকায় চলতি বছরেও কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে। এগুলো কাজ সম্পন্ন হলে পৌর শহর একটি মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। তিনি একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত।

অপর প্রার্থী আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী (বিএনপি) তৃতীয় বারের মতো ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এবং ৩য় বারই পৌরসভার প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এই দীর্ঘ সময়ে পৌর পরিষদের থাকার সুবাধে এবং বিএনপির রাজনৈতিক কারনে এলাকায় সুপরিচিত। তারও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে পৌর এলাকায়। বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে সকল বিবেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে আসন্ন নির্বাচনে আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরীর অবস্থান খুবই শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুবা বিগত নির্বাচনে মরহুম এডভোকেট আব্দুস শহীদ গোলাপের মতো পরিনতি ঘটতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা বর্তমান বিএনপির রাজনীতির দু’ মেরু’র পেক্ষাপট দেখে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন। লন্ডন প্রবাসী জাহাঙ্গীর রানা দেশ বরন্য একজন গীতিকার, কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে তার অনেক খ্যাত রয়েছে। তিনি উচ্চ শিক্ষিত ও ছাত্রদলের প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক।

লন্ডন যাওয়ার পুর্বে আর্তসামাজিক উন্নয়নে এলাকায় নিবেদিত ছিলেন। বিগত নির্বাচন গুলোর মতো দলমতের উর্ধ্বে উঠে ওই সম্প্রদায়ের ৯৫% ভোট তার দিকে রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের ধারনা। তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে সুত্রে জানা গেছে।

অপর দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসূল চৌধুরী রাহেল তরুন প্রজন্মের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, বিত্তশালী পরিবারে সদস্যও, অনেক সময়ে ত্রাণ,শীত বস্ত্র, দুস্থ অসহায় গরিবদের মধ্যে কাপড় বিতরন ও বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষা সামজিক প্রতিষ্টানে অনুদানের মধ্যে দিয়ে নিজেকে তরুন প্রজন্মের নেতা হিসাবে প্রতিষ্টিত করেছেন। এছাড়া সে জাতীয় সংসদের চীফ হুইফ সাহাব উদ্দিন এর জামাই ও।

ইতিমধ্যে শেখ সুজাত ফোরামে আহ্বায়ক লন্ডন প্রবাসী জুবায়ের আহমদ চৌধুরী হঠাৎ করে উড়ে এসে পৌর এলাকায় বিভিন্ন পোষ্টার লাগিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন।

এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থীতা আলোচনায় রয়েছেন নবীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি সুখেন্দু রায় বাবুল, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম ইয়াসিনী, বাসদ নেতা চৌধুরী ফয়সল সোয়েব। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close