ফিচার

আমার বউদি যেভাবে ‌আনমেরিট নায়িকা

শিরোনাম পড়ে পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এ কেমন ঘটনা! বউদি আবার আনমেরিট নায়িকা হন কী করে।এটা কি বাস্তব, না কোনো সিনেমা-নাটকের রূপকথা।

পাঠকদের বিভ্রান্ত না হতে প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে-কোনো রূপকথা নিয়ে লেখালেখির অভ্যাস আমার নেই।সমাজের চলমান ঘটনাপ্রবাহই সাধারণত আমার লেখালেখির বিষয়বস্তু। ফলে এ কোনো সিনেমা-নাটকের রূপকথা কিংবা কৌতুক নয়, একেবারেই বাস্তব একটি ঘটনা

পাঠকদের সামনে হাজির করছি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ‘কলির কাল’ বলে একটি কথা আছে। তাই মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে এর প্রেক্ষাপট এবং নিজের কিছু কথা দিয়ে শুরু করি। তাহলে বিষয়টি বুঝতে পাঠকদের জন্য সহজ হবে কেমন!

ময়মসিংহ ত্রিশালের একই গ্রামে (বীররামপুরে) আমাদের বাড়ি আর মামার বাড়ি। মামার বাড়িতেই কেটেছে আমার শৈশব-কৈশোর। মামা মাদ্রাসায় মাস্টারী করেন, আর মামানি (আন্টি) পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকুরি করেন। তারাই আমার জীবনে তাদের অনুপ্রেরণা ও অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে তাদের সাথে যাদের ভাল সম্পর্ক ছিল, তাদের সাথে আমারও সুসম্পর্ক।এমনিভাবে শ্যাফালী নামে আন্টির এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী সহকর্মী বান্ধবী ছিল। তাকে হিন্দুরীতিতে মাসি (আন্টি) বলেই ডাকতাম। তাঁর দুই ছেলেমেয়ের সাথেও আমার সুসম্পর্ক। ঈদ-পূজায় দুই পরিবারের মধ্যে আসা-যাওয়া ছিল।

দরিরামপুরে বাসায় বেড়াতে গেলে মাসি ও আংকেল আমাকে কী যে স্নেহ করতেন!

সম্ভবত, ১৯৯৭ সাল, কলেজ জীবন শেষ করে সবেমাত্র রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। মাসির একমাত্র ছেলে শ্যামল দাদাও ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে বিএসসি অনার্সে ভর্তি হয়েছেন, সবার চোখেমুখে অনেক রঙিন স্বপ্ন, ছেলে লেখাপড়া করে বড় চাকুরি নিবে, এরপর অনেক ঘটা করে বিয়ে দিবেন।

কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নে ব্যত্যয় ঘটলো, এরই মাঝে শ্যামল দ্যা অনার্সে পড়ুয়া গৌরীপুরের এক মেয়ের প্রেমে পড়েন। গোপনেই চলছিল তাদের ভালবাসা। সেই সময়ে সাধারণত ভার্সিটির লম্বা ছুটিতে বাড়ি যেতাম।সম্ভবত ১৯৯৮ সালের শেষের দিকের ঘটনা, ঈদের ছুটিতে গিয়ে জানলাম, শ্যামল দা কাউকে না জানিয়েই ওই মেয়েকে ময়মনসিংহের বড় কালিমন্দিরে নিয়ে বিয়ে করে ফেলেছেন।

এতে আংকেল-মাসির একটু মন খারাপ হলেও পুত্রবধূ খুব সুন্দরী বলে সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, আমরাও খুশি।ছেলেটিও যেমন ট্যালেন্ট তেমনি দেখতে রাজপুত্র। তবে মেয়ের বাবা-মা কোনো মতেই রাজি নন। কিন্তু মেয়ে, ছেলের জন্য পাগল, তাই তারা মেয়েকে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েও সফল হননি।

অবশেষে মাসির অনুরোধে মামা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে গৌরীপুর গেলেন, অনেক বুঝানোর পর বিয়েতে রাজিও হলেন তারা। ক’দিন পর পুনরায় বিয়ে হলো। বউদিকে তুলে আনা হলো। কয়েকটি ঈদে আমাদের এখানে বউদি বেড়াতে আসলেন। আমরা আড্ডা দিয়েছি এর কোনো ইয়ত্তা নেই। আমার মামার মেয়ে সন্তান নেই বলে তাকে একটু বেশীই স্নেহ করতেন, তা দেখে আমাদের ঈর্ষাও হত। মামা-মামানি নিজ হাতে খাবার তুলে খাওয়াতেন, গিফট দিতেন আরও কত কিছু!

যা বলছিলাম, দুজনে শিক্ষার্থী বলে আমার মাসিকেই দু’জনার যাবতীয় খরচ চালাতে হতো। ওই সংসারে মাসির চাকুরিটাই একমাত্র অবলম্বন। শ্যামল দা-বউদি দু’জনে মিলে ময়মনসিংহে ভাড়া বাসায় থাকতেন, এভাবেই তাদের দাম্পত্যজীবন ভালোই চলছিল। তাদের মধুর সম্পর্ক, এক পর্যায়ে দুজনের খরচ চালাতে কষ্ট হওয়ায় শ্যামল দা নিজেই লেখাপড়া ছেড়ে বউদির খরচ জুগাতে কোম্পানিতে চাকুরি নিলেন। এভাবে বছর খানেক পার হতে না হতেই বউদি লাক্স-আনন্দধারা ফটোজেনিক এ অংশ নেন, সুন্দরী নির্বাচিতও হন।

সবাই খুশীতে গদগদ। এবার বউদি বললেন, ঢাকায় যেতে হবে। একাই ঢাকায় গিয়ে টিভি নাট্যাভিনয় জগতে পদার্পণ করলেন।এতেও সবাই খুশি, বউদি নাটকে অভিনয় করবেন, আর আমরা সবাই ঘরে বসে তা দেখবো, এরচেয়ে আর আনন্দের কী হতে পারে!

বছরখানেক পর শ্যামল দা ময়মনসিংহের চাকুরি ছেড়ে বাবা-মাকে ফেলে রেখেই বউদির মর্জিতে তার হাত ধরে ঢাকায় চলে আসলেন। ঢাকা উত্তরার ভাড়া বাসায় উঠেন। বউদি চুটিয়ে নাটকে অভিনয় করছেন আর স্বামী শ্যামল দ্যা খরচ জুগাতে সম্ভবত: তখন একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চাকুরি নিলেন।

এরপরও ১৫ হাজার টাকার বাসা ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ তা দিয়ে চলে না। বাধ্য হয়েই বাসা থেকে টাকা আনতে হয। মাসি একমাত্র ছেলে এবং ছেলের বউয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসায় নিজে কষ্ট করেও তাদের খরচ জোগান দিতে থাকেন। এভাবে বছর খানেক যেতে না যেতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব, বউদির আচার আচরণে অনেক পরিবর্তন।তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতো, একদিন দাদাকে বাসা থেকে বিদায় দেন বউদি।

হয়তো এখানে বউদির নাম-পরিচয় জানা থাকলে পাঠকদের বিষয়টি বুঝতে আরো সহজ হবে! এতক্ষণ যাকে বউদি বলে সম্বোধন করেছি, তিনি আর কেউ নন, গৌরীপুরের এই সেই মেয়ে, কাগজকলমে নাম তার জ্যোতিকা রাণী পাল, শোবিজ জগতে জ্যোতিকা জ্যোতি নামে ব্যাপক পরিচিতি, আজকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ছোটপর্দা ও রুপালি জগতে প্রতিষ্ঠিত মুখ, সেই হারানো দিনের শ্যামল দার প্রিয়তমা স্ত্রী ও আমার বউদি জ্যোতিকা জ্যোতি।

১৯৯৯ কিংবা ২০০০ সালের লাক্স-আনন্দধারা ফটোজেনিক কন্টেস্ট থেকে তার এই জগতে পদার্পণ। এখন শোবিজ জগতে জনপ্রিয় মডেল এবং অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত। সমান্তরালভাবে নাটক এবং সিনেমায় সরব। উপস্থাপনা-নাটকের পাশাপাশি ২০০৫ সালে সারাহ্ বেগম কবরীর আয়না চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ের জগতে পা রাখেন তিনি।

এরপর বেলাল আহমেদের নন্দিত নরকে এবং তানভীর মোকাম্মেলের রাবেয়া, তানভীর মোকাম্মেলের জীবনঢুলি আজাদ আবুল কালামের বেদেনী এবং অনিল বাগচীর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন আমার সেই পুরানো দিনের বউদি ও আজকের এ জ্যোতি। এ ছাড়া নূরুল আলম আতিক, আবুল হায়াত, মোশারফ, অনিমেষ আইচ, সালাউদ্দিন লাভলুর মতো নির্মাতাদের সঙ্গে ছোট পর্দায় অসংখ্য কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী।

প্রশংসা কুড়িয়েছেন ‘স্বপ্নের পাঠশালা’তেও অভিনয় করে। সবমিলেই এ সময়ের সম্ভাবনাময় এক অভিনেত্রী। ইতোমধ্যে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সাথে সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন তিনি।টিভি নাটকের পাশাপাশি সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত রেখেছেন।তার এই ধারাবাহিক সাফল্যে আমরাও খুশি। ময়মনসিংহের মেয়ে এবং আমার সেই পুরানো দিনের বউদি বলে কথা।

প্রসঙ্গত, আবার ফিরে আসি একটু পেছনে। উত্তরার বাসা থেকে দাদাকে বের করে দেন বউদি…)এর প্রায় পৌনে দুই বছর পর তাদের মাঝে ডিভোর্স হয়। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারিতে শ্যামল দা ময়মনসিংহ জজকোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা নোটারী পাবলিকে এফিডেভিটে তাঁর দেয়া ডিভোর্স লেটারে যা লেখেন তাতে- ‘আমি ধর্মত প্রতিজ্ঞা করিতেছি যে, জ্যোতিকা রানী পাল, পিতা- শ্রী নিতাই চন্দ্র পাল, হতিয়র গৌরীপুর, ময়মনসিংহকে বিগত ১৯৯৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিবাহ করি, বিবাহের পর আমার স্ত্রীকে সন্তান নিতে বললে সে লেখাপড়া শেষ করে সন্তান নেবার কথা বলে। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করার পর সন্তান না নিয়ে এবং চাকুরিতে যোগ না দিয়ে বাবা-মার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আমাকে রেখে একাকী ঢাকা গিয়ে কৌশলে টিভি নাটকে যোগ দিয়ে তা নিয়েই মাসের পর মাস ব্যস্ত থাকে।’

‘এহেন অবস্থায় আমি ময়মনসিংহের চাকুরি ছাড়িয়া ঢাকায় অন্য চাকুরি নিয়া একই বাসায় বসবাস করতে থাকি। দাম্পত্যজীবনের সুদীর্ঘ ৯ বছর পরপুনরায় তাকে সন্তান নিতে বললে সে কখনো সন্তান নিবে না বলে আমাকে ও বাবা-মা চরমভাবে অপমান করে।এরপরও আমি অনেক ধৈর্য্যধারণ করি, কিন্তু এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী ও শ্বশুর মিলে আমাকে অপমান-অপদস্ত করে বাসা থেকে বের করে দেন। এরপরও আমি তাকে সবকিছু ভুলে গিয়ে সন্তানগ্রহণ পূর্বক ঘরসংসার করার জন্য বহুবার অনুরোধ করি। কিন্তু এতে কোনো লাভ হয় নাই। প্রায় এক বছর ৭ মাস অপেক্ষা করতে থাকি, কিন্তু আমার ঠিকানা জানা সত্ত্বেও সে আমার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করে নাই। বরং আমি কখনো বাসায় গেলে সে অনেক রাগারাগি ও ঝগড়াঝাটি করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। ফলে সেখানে যাওয়ার পরিবেশও নষ্ট যায়।’

‘ফলে বিবাহিত জীবনের ১২টি বছর টালবাহানা করে সন্তান না নিয়া রাত দিন নাটক নিয়ে ব্যস্ত থেকে পরবর্তীতে সন্তান নিবে না বলে জানাইয়া এবং আমাকে দূরে সরাইয়া দিয়া আমার জীবনের চরম ক্ষতি সাধন করেছে বিধায় আমার ভবিষ্যৎ বংশ রক্ষার্থে আমার স্ত্রী জ্যোতিকা রানী পাল এর সহিত বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করিলাম। অদ্য হইতে সে আমার স্ত্রী নহে ও আমি তার স্বামী নহি।

যদি ভবিষ্যতে কেহ কাহাকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাবি করি তবে তাহা সর্বক্ষেত্রে সর্ব আদালতে আইনত: অগ্রাহ্য হবে। ইহাই আমার এফিডেভিট।’ প্রেম, বিয়ে অত:পর বিবাহ বিচ্ছেদ এগুলো সমাজে সবই স্বাভাবিক ঘটনা। তা নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। কিন্তু পত্রিকার পাতায় কিংবা টিভির পর্দায় যখন দেখি এই অভিনেত্রী এখনো কুমারী নায়িকা, সাক্ষাৎকারে বলেন’‘

আপাতত বিয়ে নিয়ে ভাবছি না’। এছাড়া যখন বলেন- ‘নিজের আগ্রহেই এতদূর এসেছি’। তখনই নিজের প্রতিক্রিয়া হয়। আর সেটা থেকে আজকের এই খোলামেলা লেখা।

কেননা আমি দেখিছি এই সেই জ্যোতির লেখাপড়া আর অভিনয় করতে ঢাকায় থাকার জন্য খরচ জোগাড় করতে গিয়ে আমার মাসিকে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়েছে, দেখিছি পুত্রবধূর সুখের জন্য নিজের বেতনের বেশীরভাগ টাকা দিয়ে নিজে কত কষ্ট করেছেন। এই সেই জ্যোতি যার জন্য একটি পরিবার প্রায় নি:স্ব হয়ে গেল, যাকে অকৃত্রিম ভালবাসতে গিয়ে একটি জীবন ছন্নছাড়া হলো।

আর এসব কিছু অন্ধকারে রেখে সেই বউদি জ্যোতিকা জ্যোতি আজ শোবিজ জগতের বড় নায়িকা-অভিনেত্রী, সমাজের সুশীলদের একজন। সাক্ষাৎকারে বড় বড় কথা বলেন। বলেন, উঠে আসার গল্প, কিন্তু কোনদিন তো শুনেনি মাসি কিংবা শ্যামলের নাম নিতে, বরং বউদি জ্যোতিকা জ্যোতির ভাবখানা এমন যে তিনি যেন কোনোদিন বিয়েই করেননি। শ্যামল নামে কাউকে চিনেনও না, তার এগিয়ে যাওয়ার শ্যাফালী মাসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তো দূরের কথা এই নামে শ্বাশুরী ছিল বলে এমনটি স্বীকারও করেন না।

আমরা জানি, শিল্পকলা-সাহিত্য, চলচ্চিত্র-নাটক, সঙ্গীত-নৃত্য এসব যে কোনো জাতির সভ্যতা-সংস্কতির পরিচয় বহন করে। একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে এসব ক্ষেত্রে যে জাতি যতবেশী উন্নত তারা ততবেশী সভ্য জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে পরিচিত। এদিক থেকে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বাঙালী জাতির অন্যরকম সুনাম-সুখ্যাতি রয়েছে বিশ্বব্যাপী।এক্ষেত্রে যাদের সবচেয়ে বড় অবদান তারা হলেন চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব । কেননা, এসব অঙ্গনে যারা কাজ করেন তারা সমাজের মডেল।

তারা প্রতিনিয়ত তাদের কর্ম ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সমাজকে বহুলাংশে প্রভাবিত করেন । কোনো কারণে এরা কখনো বিবেকহীন আচরণ করলে গোটা জাতি বিপদগামী হয়। কেননা, এরা সমাজের পুরাতন কুসংস্কারকে ভেঙে নতুন সভ্যতার বিনির্মাণ করেন। এরাই সমাজের সুশীল ও বুদ্ধিজীবীও বটে।

আমাদের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমনই সম্ভাবনাময় প্রতিভাবান জ্যোতিকা জ্যোতি। যাকে নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি। আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তিনি খুবই সম্ভাবনাময়। চলচ্চিত্রের অভিনেত্রীদের মধ্যে সববয়সী দর্শকের কাছে যিনি ব্যাপক জনপ্রিয় । যার অভিনয় দেখে তরুণ সমাজ অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে। তিনি শুধু একজন অভিনেত্রীই নন একজন শিক্ষিত, সুন্দরী ও মিষ্টভাষী শাবলীল মেয়ে।

অনেকেই তাকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সম্ভাবনাময় উদীয়মান উজ্জ্বল নক্ষত্র বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু যা জেনেছি তাতে- তাঁর ভেতরকারটা এতটা…! এটা কারো কাম্য নয়। ফলে তার কাছ থেকে সবাই আরো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। যারা তাকে এই শোবিজ জগতে এগিয়ে দিয়েছেন, সার্বিক

সহযোগিতা করেছেন, তাদেরকে নি:স্ব করে দিয়ে সব কিছু অস্বীকার করে নিজে শানসওকতে। এটা আবার কেমন!

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ফোনে কথা হয় আমার সেই বউদি জ্যোতিকা জ্যোতির সাথে, কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি জানালেন ‘আশীষের সাথে তো আমার ডিভোর্স হয়ে গেছে। সে তো পুনরায় বিয়ে করে ফেলেছে। কেন এমনটি হলো

এর জবাবে বললেন, বিভিন্ন কারণেই আমরা একসাথে থাকতে পারিনি। এখনতো আমি একা তাই বলি আপতত বিয়ের কথা চিন্তা করছি না।

সবশেষে বলতে ইচ্ছে হয়, হায়রে সিনেমা, হায়রে নাটক, হায়রে শোবিজ জগত তুমি এতোই নির্মম-নিষ্ঠুর জগত! তুমি মানুষকে সব প্রেম, ভালবাসা, বিবাহ, পারিবারিক বন্ধন সবকিছুই ভুলিয়ে দিতে সক্ষম! তাহলে তুমিই আবার কীভাবে মানুষকে কিছু দিবে!

এরপরও পৃথিবীর এটাই বাস্তবতা। এরপরও প্রেম মানুষের জীবনের এক অনবদ্য অধ্যায়। কারো জীবন কেটে যায় এক প্রেমে, কারো জীবনে আসে একাধিক। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, প্রেমের আগমন শত চাইলেও বুঝি ঠেকানো যায় না। অনেকেই প্রেমের শুরুতে এমন কিছু করে বসেন যে, পরবর্তীতে সম্পর্ক চালিয়ে নেয়াটা মুশকিল হয়ে যায়। আবেগের বসে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে যায়, যে ভুল আরও অনেকের জীবনকে ছন্নছাড়া করে ফেলে।

লেখক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গবেষক ও কলাম লেখক । ই-মেইল:sarderanis@gmail.com

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close