লন্ডন থেকে

আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার মহাসম্মেলনের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য আ’লীগের সংবাদ সম্মেলেন

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: লন্ডনে বসে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম  খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ। লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সাখে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ এ অভিযোগ করে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীম আহমদ।

শুক্রবার দুপুরে ব্রিকলেইনের একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলন তারা অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে বেগম খালেদা জিয়া বারবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তিনি নির্বাচনে যাবেন না। তিনি নির্বাচনে যাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বলছেন তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও অন্য কোন কাঠামোর সরকারের অধীনে তিনি এবং তার দল বিএনপি নির্বাচনে যেতে রাজী আছেন। এই প্রস্তাব তো ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে ছিলো। তাহলে এতো মানুষ হত্যা করে, পুড়িয়ে খালেদা জিয়া কোন রাজনীতি করলেন?

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, লন্ডনে অবস্থানকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিমম হত্যার শিকার বিদেশী দুই নাগরিকও খালেদা জিয়ার লন্ডন ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা মনে করি। এই হত্যাকান্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা ভীতি সৃষ্টির একটি নীলনকশা বিএনপি জামাত এবং তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের পাশে ছিলো, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে ছিলো, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। এই বিলেতে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন করতে প্রবাসী বাঙালিদের ভুমিকা ছিল অনন্য।

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন এখান থেকেই শুরু হয়েছিলো। আমরাই খুনী জিয়া, মোস্তাককে বাংলাদেশ থেকে উৎখাত করেছি। প্রবাসী বাঙালিরাই আন্দোলন সংগ্রাম করে সমস্ত স্বৈরশাসককে বিতাড়িত করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছি। বাংলাদেশ আজ যে গণতন্ত্র ও মুক্তির সুবাতাস দ্বারা নন্দিত হচ্ছে, সেখানেও আমরা জোরালো ভুমিকা রাখছি।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে খালেদা জিয়া গত ৫ জানুয়ারি থেকে অবরোধের নামে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ীতে আগুণ দিয়ে প্রায় ১৫৬ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। পেট্রোল বোমা হামলায়, আগুণে দগ্ধ হয়ে কয়েক শতাধিক লোক সারাজীবনের জন্য পুঙ্গত্ব বরণ করেছেন।

তারা বলেন, খালেদা জিয়া ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত। ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা করে ২২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় এবং এই হামলায় প্রায় ৫০০শত শানুষ সারাজীবনের জন্য পুঙ্গত্ব বরণ করে। সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার সাথেও জড়িত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান।

বাংলাদেশ যখন উন্নয়ণ আর অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । দেশে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষা, চিক্ৎিসা, যোগাযোগ, শিল্পক্ষেত্র সহ সবদিকে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে, দেশের উন্নয়ণ অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে বেগম খালেদা জিয়া নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের পায়তারা করছেন। আমরা বেগম খালেদা ও তার পুত্রের দেশবিরোধী চক্রান্তকে বাংলাদেশের জনগণের সাথে মিলে সমূলে উৎপাটন করবো। আমরা খালেদা জিয়ার এরকম কমকান্ডকে ধিক্কার আর নিন্দা জানাচ্ছি।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close