রাজনীতি

বিদেশি হত্যা: ফেঁসে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক: বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার ও জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যা করা হয়েছে। আর এ হত্যার নেপথ্যে কাজ করেছে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এমনটাই জানিয়েছেন একটি সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, ইতালি ও জাপানের নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাবেলাকে হত্যা করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এমএ কাইয়ুমের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এছাড়া আরও দুজন বিএনপি নেতা জড়িত ছিল।

আর জাপানের নাগরিককে হত্যা করা হয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

সূত্র আরো জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের গুলশানের বাসায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নিয়েছেলেন বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা। এর পরদিন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসতে অস্বীকৃতি জানায়। এর সূত্র ধরে পরে পশ্চিমা দেশগুলোর কয়েকটি দূতাবাস একযোগে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করে। সেদিন ওই কূটনীতিকদের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে কী বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখেছেন তারা।

এছাড়া গত ২৬ অক্টোবর তার বাসায় একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে বহির্বিশ্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে চাপে রাখতে যে কোন গুলশান-বনানী এলাকায় একজন বিদেশিকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। এর ২ দিন পর তাবেলাকে হত্যা করা হয়।

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, দুই বিদেশি হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আটককৃতরা জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এমএ কাইয়ুমের নির্দেশে হত্যাকাণ্ড ঘটান।

তিনি বলেন, এছাড়া বিএনপির আরও কয়েক নেতার নাম বলেছে আটককৃতরা। আসলে দুই বিদেশি হত্যার সঙ্গে তারা জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির এক নেতা তার বাসায় বৈঠকের দুদিন পর (২৮ সেপ্টেম্বর) গুলশানে খুন হন সিজার তাবেলা। আর ৩ অক্টোবর রংপুরে খুন হন জাপানি নাগরিক। একারণে সন্দেহের তীর তার দিকে বেশি ছিল। আটককৃতরাও তার কথা আমাদের জানিয়েছেন।

তদন্তের সঙ্গে জড়িত অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, যারা যানবাহনে পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ মেরে নাশকতায় জড়িত ছিলেন, তাঁরাই বিদেশি হত্যা করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। আর বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করাতে দুই বিদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। শিগগিরই হুকুমদাতাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দুই বিদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য শিগগিরই জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে। এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। শিগগিরই জাতির সামনে এ তথ্য উন্মোচন করা হবে।

এদিকে, গত ০৭ অক্টোবর দুই বিদেশি হত্যার বিষয়ে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, বিদেশি হত্যাকাণ্ডে বিএনপি-জামায়াত জড়িত রয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করাতে তারা এ কাজ করেছে।

সম্প্রতি সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়া বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। তার আগে সিজার তাবেলা খুনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বলেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহস্য উদঘাটিত হবে।

বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করে বলেন, দুই বিদেশি হত্যায় বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ লজ্জিত করেছে। আর খুনের ঘটনা যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজে ব্যবহার কার হয়, তা হবে আরও লজ্জার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মঈন খানকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার পর কোন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যাচ্ছে না। তিনিসহ বিএনপির অনেক নেতা গ্রেফতার আতঙ্কে আছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুই বিদেশি হত্যার ঘটনায় সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আর বিদেশি হত্যার পেছনে বিএনপি-জামায়াতকে জড়িয়ে অমূলক ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বিরোধীদলকে এসব বিষয়ে দায়ী করা এখন একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close