অন্য পত্রিকা থেকে

হাসিনা-ইনুর গোপন ভিডিও ঠেকাতে ইটিভির চেয়ারম্যান গ্রেফতার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর গোপন ভিডিও ফুটেজ যাতে অনএয়ার হতে না পারে সেজন্যই একুশে টিভির চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে গুম করেছিল ইনুর স্পেশাল টিম। গত ৬ জানুয়ারি ভোরে একুশে টিভির কার্যালয়ের নিচে আব্দুস সালামের নিজস্ব গাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয় দেয়া ইনুর স্পেশাল টিম।

একুশে টিভির একজন উপদেষ্টা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, আব্দুস সালামের কাছে একটা গোপন ভিডিও এসেছিল। সেই গোপন ভিডিওটি যেকোন সময় অনএয়ার করতে পারে এরকম আশঙ্কা থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গোপন সেই ভিডিওটি জব্দ করতেই মূলত আব্দুস সালামকে গুম করতে চেয়েছিল তথ্যমন্ত্রী।

কিন্তু ইটিভির ভবনের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় তোলা সালাম সাহেবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ছবি টিভিতে প্রচার করায় আর গুম করতে পারেনি তারা। তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সারারাত যোগাযোগ করার পরও আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করেনি বলে জানায় ডিবি। এবং ডিবি অফিসেও তাকে পাওয়াও যায়নি। গোপন একটি স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে টিভিতে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর তাকে গুমের বদলে গ্রেফতার দেখানো হয়। এবং ডিবি অফিসে তাকে নিয়ে আসা হয়।

কী সেই ভিডিও ফুটেজ যার জন্য সরকার তাকে গুম করতে চাইবে জানতে চাইলে সেই উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর একটি যৌনসম্পর্কের ভিডিও চেয়ারম্যানের হাতে এসে পৌঁছায়। আর সেজন্যই তাকে গুম করতে চেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত, গোপন ও স্পর্শকাতর এই ভিডিও কিভাবে আব্দুস সালাম পেলেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনি জানেন যে, আব্দুস সালামের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সখ্যতা দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের অনেক রাঘব বোয়াল মন্ত্রীরা সালাম সাহেবের কারণে মন্ত্রী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার পারিবারিকভাবে সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রীর সব গোপন বিষয় সালাম সাহেবের কাছে পৌঁছে যায়।

পারিবারিক সম্পর্ক থাকলে তিনি কেন এরকম গোপন ও স্পর্শকাতর বিষয় অনএয়ার করে দর্শকদের কাছে প্রকাশ করবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সালাম সাহেব সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা এবং সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলার সাহস রাখেন। তবে আমি যতটুকু জানি তিনি এই ভিডিওটি টিভিতে অনএয়ার করতেন না। তবে এই ভিডিওটি তার হাতে রয়েছে বলে হাসিনাকে জানায়।

কারণ তিনি চেয়েছিলেন যাতে শেখ হাসিনার মতো এরকম মর্যাদাপূর্ণ চেয়ারে বসা মানুষ ভয়ে ও লজ্জায় এসব নোংরা কাজ থেকে দূরে থাকবেন। সালাম সাহেব চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সুনাম যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সে বিষয়টি ঠিক রাখতে।

কারণ ইনু নিজেকে বড় করতে এবং প্রতিশোধ নিতে হাসিনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এরকম তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি হাসিনাকে বিষয়টি অবগত করেছিলেন। আমি যতটুকু জানি ইনু এই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হাসিনাকে ব্লাকমেইল করে যাচ্ছেন। হাসিনা এখন কোন সিদ্ধান্তই নিজের ইচ্ছায় নিতে পারছেন না। সব সিদ্ধান্ত ইনুর কথা মতো নিতে হচ্ছে।

যে কারণে শেখ হাসিনা আলোচনা করে বর্তমান সমস্যার সমাধান করতে চাইলেও ইনুর জন্য পারছে না। দেশি বিদেশি হাজার চাপ সত্ত্বেও শুধুমাত্র ইনুর নিষেধাজ্ঞার কারণেই সংকট সমাধান হচ্ছে না। এর আগেও দুই নেত্রী ফোনালাপ করে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে চাইলে ইনুই সেই ফোনালাপ গোপনে রেকোর্ড করে ৭১ টিভিতে প্রচার করে দিয়েছিল। আর সে কারণেই দুই নেত্রীর আলোচনা সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

ইনু চায় বিভাজন সৃষ্টি করে রাখতে এবং হাসিনাকে জনগণের কাছে এরকম অবস্থায় নিয়ে যেতে যাতে করে হাসিনার অবস্থা তার বাপের মতো হয়। কারণ শেখ মুজিব ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত ইনুদের জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সেই প্রতিশোধ নিতেই ইনু হাসিনাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

আর যৌনসম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে ভিডিও করে অব্যাহতভাবে ব্লাকমেইল করে যাচ্ছে সে। সালাম সাহেব হাসিনাকে ভিডিওটির বিষয় অবগত করলে হাসিনা বিষয়টি ইনুকে জানায়। আর ইনু সে কারণেই সালাম সাহেবকে তুলে নিয়ে যায়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, একুশে টিভি লন্ডন থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য সরাসরি প্রচার করেছিল। আর এই সুযোগেই এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন ইনু। আওয়ামীলীগ জানে তারেক রহমানের বক্তব্য লাইভ দেখানোর কারণেই সালাম সাহেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সত্য হলো সেটাও একটা কারণ তবে একক কারণ নয়। কারণ ইটিভি এর আগেও বিভিন্ন সময় এককভাবে খালেদা জিয়ার ভাষণ লাইভ করেছে। তখন কেন তাকে গ্রেফতার করেনি?

ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এই মামলায় গ্রেফতার হলে তাকে রাতের অন্ধকারে গুম করার চেষ্টা করা হতো না। দিনের আলোতেই তাকে প্রকাশ্যে গ্রেফতার করা হতো এবং রাতে তুলে নিয়ে পরদিন দুপুরে বিষয়টি স্বীকার করতো না।

উল্লেখ্য, হাসিনার সাথে মৃণাল কান্তির সাথেও অবৈধ যৌনসম্পর্ক থাকার বিষয়টি বিভিন্ন বইতে প্রকাশ পেয়েছে। শেখ হাসিনার একজন সহকারী তার বিখ্যাত বইতে এই গোপন সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এছাড়াও, হাসিনার দুর্নীতির গোপন ভিডিও ফুটেজ থাকায় সাংবাদিক সাগর- রুনিকে তার বাসাতেই হত্যা করা হয়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, একুশে টিভির চেয়ারম্যানেরও সাগর- রুনির মতো অবস্থা হতো। কিন্তু ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় গুমের দৃশ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তিনি বেঁচে গেলেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close