রাজনীতি

বিচারপতির অবিবেচনা প্রসুত কথামালা, লগি, বৈঠার জারজ সরকার?

শরীফুজ্জামান তপন: ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম এক কালো দিন। এই দিনেই দেশ বিরোধী চক্রান্তের এক নব অধ্যায়ের সূত্রপাত হয়েছিলো।

২০০৬সালের এই দিনে লগি বৈঠা দিয়ে আওয়ামীলীগ যে সন্ত্রাসের রাজ কায়েম করেছিলো এবং চার দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের কে হত্যা করে লাশের উপর উঠে যে নৃত্য করেছিলো সেই নৃত্যের ধারাবহিকতায় বিভৎসতায় আজ গোটা বাংলাদেশ আক্রান্ত, আজ যে আইনের শাসন নেই গনতন্ত্র নেই মানুষের ভোটের অধিকার নেই।

স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যরান্টি নেই। এর উত্থান পর্ব বা টার্নিং পয়েন্ট কিন্তু ২৮শে অক্টোবর কারণ সেই অমানবিক সন্ত্রাসী আন্দোলনের স্বঘোষিত বিজয়ী শেখ হাসিনা ২০০৯ সনের পরিকল্পিত এবং পক্ষপাতমূলক নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০০৭ সনের তুঘলকি মইন ফখরের সরকারের সঙ্গে অঘোষিত চুক্তির মাধ্যমে। সেই নির্বাচন কেও জাতীয়তাবাদী শক্তি মেনে নিয়েছিলো একটি অনির্বাচিত অরাজনৈতিক সরকারের চেয়ে তথাকথিত নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার কিছুটা হলেও জনগনের কথা ভাববে।.

দেশের কথা ভাববে এবং গনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্বাশীল থাকবে কিন্তু বাস্তবে আওয়ামিলিগ ফিরে গেছে তার পুরনো কদাকার চেহারায়। আমরা যদি পিছনে ফিরে তাকাই ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ মাত্র চার বছরের ও কম সময়ে আওয়ামিলিগ কিন্তু গনতন্ত্রের পথে হাঠেনি,বরং এক দলীয় শাসন কায়েম করেছে।

মাত্র চারটি সংবাদ পত্র রেখে সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়,রাষ্ট্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকেও বাকশালে যোগ দিতে বাধ্য করে। শেখ সাহেবের ঘনিষ্ট এক নেতা বাকশালের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করে বলেছিলেন আপনাকে পছন্দ করি বলেই এই সিদ্বান্ত্বের সঙ্গে একমত হতে পারছিনা । কারণ জনগণ যদি পরিবর্তনের সুযোগ না পায় এবং পরিবর্তন যদি গনতান্ত্রিক উপায়ে করার সমস্ত পদ রুদ্ধ করে দেয়া হয় তাহলে যেকুনো ভাবেই পরিবর্তন হবে।

এটা আটকানোর ক্ষমতা কারোরই থাকবেনা। এই কথাটি পরবর্তিতে শতভাগ সঠিক প্রমাণিত হয়েছে । শেখ সাহেবের সেই দুঃখজনক বিদায় স্বপরিবারে (দুই কন্যা ব্যতীত)হত্যা কান্ড সেই একদলীয় শাসনের করুন পরিনতি| যা আজকের পরিস্তিতিতে আবারো পরিলক্ষিত হচ্ছে | শান্তিপ্রিয় গনতন্ত্রপ্রিয় মানুষ শেখ হাসিনা কে তার বর্তমান অবস্তায় দেখতে চায়না| মানুষ মানসিক ভাবেই বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছে পরস্পর সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক সহনশীল আচরন প্রত্যাশা করে|

১৯৯০সনে এরশাদ শাহীর পতনের পর বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়ে ছিলো বাংলাদেশে সংসদীয় গনতন্ত্র কায়েম হয়েছিলো| পারসপরিক সম্পর্ক কখনোই আজকের মতো অবস্তায় ছিলোনা| সেই অবস্তার জন্য কে কতোটুকু দায়ী কে কাকে কখন মারার চেষ্টা করেছেন| এসব পুরনো কাসুন্দি নাঘেটেও বলা যায় দায় ও দায়িত্ব সবারই আছে| তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই কিছুদিন পূর্বে দেশে ফিরে যে অশালীন,অভব্য কটু কথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন| তা তার নিম্নরুচির ই পরিচায়ক হয়েই থাকবে|

কারণ মানুষ পারিবারিক শিক্ষা প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা থেকে এবং তার পরিবেশ থেকে যা শিখে| তার প্রকাশ ঘটবে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে| তার চলনে বলনে ,এবং সেদিন সেটা ঘটেছে| এখানে একটি কথা প্রনিধান যোগ্য যে বিএনপির চেয়ার পার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিম্বা বিএনপির যেকোনো পর্যায় থেকেই শেখ হাসিনা সম্পর্কে বা তার পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে আজেবাজে কথাবার্তা কেউ কখনোই বলেননি|

অব্যাহত আক্রমনে কেউ হয়তো প্রতিউত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু অশালীন কিছুর প্রমান তারা দেকাহ্তে পারবেনন| আমরা প্রায়ই দেখি শেখ হাসিনা সংসদে দাড়িয়ে ডক্টর কামাল হুসেনের মেয়ের স্বামীর ধর্মীয় পরিচয় দেন কিম্বা অন্যের মান হানিকারক কথা বার্তা বলেন এর প্রত্যেকটির উত্তর দেয়ার মতো মাল মশলা থাকা সত্বেও বিএনপি কিম্বা তার অনুসারীরা এটা করেননা বা বলেননা সেটা তাদের দুর্বলতা নয়,সেটা তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট এবং এই সহনশীলতা বাংলাদেশের গনতন্ত্রকামী মানুষ পছন্দ করে, খলিফা হারুনুর রশিদ যেরকম প্রজাদের প্রকৃত অবস্তা জানার জন্য রাত্রি বেলা ছদ্ম বেশে ঘোরে বেড়াতেন , শেখ হাসিনা ও একদিন বোরকা পরে ঘুরে আসুন ঢাকা শহরের তার গনভবনের সবচেয়ে কাছের একটি এলাকা দেখতে পারবেন, মানুষ তাকে কিভাবে দেখে,মূল্যায়ন করে|

কারণ প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আপনি আপনার ক্ষমতা কে পাকাপোক্ত করার জন্য যে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন সেই বাঘ তো আপনাকে চাইলেই নামতে দেবেনা| আপনি নিজে বলেছিলেন তিস্তা পানিচুক্তি ছাড়া ট্রানজিট দেবেননা| সাহস থাকলে বুকে হাত দিয়ে বলুন ট্রানজিট দেননি ?? আপনার সরকার এ যাবত ভারতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব কিছুই বিনাবাক্যে মেনে নিয়েছে| বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী একের পর এক চুক্তি আপনি সম্পাদন করে চলেছেন আর তার অন্তর্নিহিত তথ্য এদেশের মানুষের জানার সুযোগ নাই|

সেদিন দেখলাম আপনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্ঠা শ্রী সুরঞ্জিত বলেছেন যে ১৯৪৭ সনে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৭% আর ১৯৭২ সনে সেই সংখ্যা কমে নাকি হয়েছিলো ২১% আর বর্তমানে কমে তা নাকি দাড়িয়েছে ৯% শতাংশে প্রশ্ন হলো আজকে প্রধান বিচার পতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরে এই নয় শতাংশের প্রতিনিধিত্ব কিন্তু ৪৭%শতাংশের উপরে,আর হিন্দুদের অর্পিত সম্পত্তির দখল দারিত্ব শতভাগ কিন্তু আওয়ামিলিগ এবং তাদের বংশবদদের, আর আওয়ামীলীগের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এমনি যে মেরেছে কলসির কানা তাই বলেকি প্রেম দেবোনা এরকমই|

এখন আসি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মানিক সাহেবের কথায়। তিনি কয়েকদিন আগে লন্ডনে নাকি আক্রমনের(?) শিকার হয়েছেন। প্রশ্ন হলো তিনি লন্ডন আসার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাহাসে লিপ্ত হোন এবং তার অনাকাঙ্খিত বিতর্ক জাতি দেখেছে। এমনকি বিচারপতি থাকাকালীন ও দলীয় নেতা নেত্রীদের মতো তিনি বক্তব্য রেখেছেন টিভি সাক্ষাত কার দিয়েছেন। যেটা কতোটা যুক্তিযুক্ত তার বিচার বিবেকবান মানুষের উপর ছেড়ে দিলাম।

কিন্তু ঢাকায় টিভি সাক্ষাতকার দিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে গালিগালাজ করে লন্ডনে আসলেন । এসে সরাসরি পূজামণ্ডপে গেলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এবং সেখানেই তিনি আক্রমনের শিকার হলেন । এর পূর্বেও তার উপর আক্রমন হয়েছিলো বলে তিনি মিডিয়ার সামনে স্বীকারুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি হাসপাতালেও যাননি। এমনকি বহাল তবিয়তে সুস্ত স্বাভাবিক ভাবে হাস্যরস করে ইনিয়েবিনিয়ে তাকে আক্রমনের বর্ণনা দিয়েছেন।

আরো ও খবর হলো এর পূর্বে তিনি মানহানির একটি মামলা করেছিলেন, বিএনপি ইউকে র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার সালাম ও বর্তমান সভাপতি এম এ মালিক সহ অনেকের বিরুদ্ধে। সে মামলায় তিনি হেরে যান। ,ব্রিটিশ পুলিশ আজ পর্যন্ত তার পূর্বের মামলায় কাউকে অভিযুক্ত করতে পারেনি। এর কারণ একমাত্র অভিযোগ কারী ব্যক্তি বিচারপতি মানিক ই ভালো বলতে পারবেন|

ব্রিটিশ পুলিশ নিশ্চয়ী বাংলাদেশের গোপালী পুলিশের মতো পক্ষপাত করছেনা| তারা স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং তদন্ত করে এসব অভিযোগের হয়তো সত্যতা পায়নি| বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি আবারো এক সাক্ষাতকারে সম্পূর্ণ অযাচিত ভাবে জিয়াউর রহমান কে নিয়ে অশালীন অবিবেচনা প্রসূত মন্তব্য করেছেন|

তার অভ্যাস হলো এভাবে তার নিজের মতো করে বিতর্কিত মন্তব্য করে প্লট তৈরী করা| যাতে তার উপর আক্রমন বারবার হচ্ছে এটা প্রমান করা এবং শাসক শ্রেনীর কাছ থেকে বাহবাহ আদায় করা| কয়েকদিন পূর্বের তার উপরের কথিত আক্রমনের যদি ব্যাখ্যা করা যায়| তাহলে দেখা যায় এক জায়গায় তিনি মন্তব্য করছেন তিনিই একমাত্র বিচারপতি মাওলানা সাইদীকে মৃত্যু দন্ড দিয়েছিলেন| জামাত শিবিরের হাত থাকতে পারে|

আবার বললেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে নিয়ে মন্তব্য করায় তার উপর বিএনপি আক্রমন করেছে| হয়তো কিছুদিন পর এমনো বলতে পারেন যে বর্তমান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে তার যে বিরোধ তারই হয়তো ইঙ্গিতে পূজা উদযাপন কারী কেউ এই আক্রমন করছিলো|

কারণ সন্দেহের তীর এখন তার ইচ্ছামাফিক ছুড়ছেন তবে সেটা সম্পূর্ণ অবিবেচনা প্রসূত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত, লেখার শুরুতে উল্লেখ করেছিলাম যে লগি বৈঠার সরকার যারা নিজেরাই এক সময় দাবি করেছিলো যে ১/১১ এর সরকার তাদের লগি বৈঠার আন্দোলনের ফসল| আমরাও মেনে নিচ্ছি এবং সেই সরকারের প্রতিদানে পরবর্তীতে একতরফা বিনা ভোটের নির্বাচন নামক প্রহসনের মাধ্যমে অবৈধ সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে মানুষ কে হত্যা নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে| এর অবসান এখন জাতির একমাত্র কাম্য ,

শরীফুজ্জামান চৌধুরী তপন শহীদ জিয়া স্মৃতি কেন্দ্র ইউকে

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close