ইউরোপ জুড়ে

২২৪ আরোহীসহ রাশিয়ান বিমান মিশরে বিধ্বস্ত

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: মেট্রোজেট নাম নিয়ে চলাচলকারী রুশ বিমান সংস্থা কোলাভিয়া এয়ারলাইন্সের ফাইল ফুটেজ। এই বিমান পরিবহণ সংস্থার একটি বিমান শনিবার ২২৪ আরোহী নিয়ে মিশরের সিনাই পাহাড়ের বিধ্বস্ত হয়েছে। সিনাইয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে ২২৪ আরোহী নিয়ে নিয়ে একটি রুশ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশর।

[youtube id=”HN1Fn8LQ0As” width=”600″ height=”350″]

দেশটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে রয়টার্সকে জানান, সম্ভবত বিমানের বেশিরভাগ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে রুশ এয়ারলাইন সংস্থা কোলাভিয়ার এ-৩২১ এয়ারবাসটি শার্ম আল-শাইখের রেড সি রিসোর্ট থেকে রুশ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকভো বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ১ নভেম্বর জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা ক্রেমলিন প্রেস সার্ভিস। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ‘ব্লাক বক্সের’ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে, যাতে ফ্লাইটের তথ্য রয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের পলকভো বিমানবন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন মিশরের সিনাই পাহাড়ে বিধ্বস্ত কোভালিয়া এয়ারলাইন্সের (মেট্রোজেটের) বিমানের আরোহীদের স্বজনরা। সেন্ট পিটার্সবার্গের পলকভো বিমানবন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন মিশরের সিনাই পাহাড়ে বিধ্বস্ত কোভালিয়া এয়ারলাইন্সের (মেট্রোজেটের) বিমানের আরোহীদের স্বজনরা।

মিশরের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৭কে ৯২৬৮ নম্বরের ফ্লাইটটি মস্কো সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিটে উড্ডয়নের পর সাইপ্রাসের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল। কিন্তু আকাশে উড়ার ২৫ মিনিটের মধ্যে বিমানটি রাডার থেকে উধাও হয়ে কেন্দ্রীয় সিনাইয়ের বিরান পার্বত্য অঞ্চলে পতিত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মিশরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

ঘটনাস্থলে থাকা এক কর্মকর্তা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল বিমানের কোনো অংশ থেকে মানুষের গলার আওয়াজ পেয়েছে। বিমানটি দ্বিখণ্ডিত হয়েছে; পেছনের দিকের ছোট একটা অংশ পুড়ে গেছে এবং বড় অংশটি পাথরের উপর বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা অন্তত ১০০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। বাকিরা ভেতরে আছে।

এদিকে ওই বিমানে থাকা আরোহীদের সন্ধানের জন্য পুলকভো বিমানবন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন তাদের স্বজনরা। সেন্ট পিটার্সবার্গ নগরীর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাস জানায়, বিমানের যাত্রীদের স্বজনদের সহায়তার জন্য পুলকভো বিমানবন্দরে একটি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের পলকভো বিমানবন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন মিশরের সিনাই পাহাড়ে বিধ্বস্ত কোভালিয়া এয়ারলাইন্সের (মেট্রোজেটের) বিমানের আরোহীদের স্বজনরা। সেন্ট পিটার্সবার্গের পলকভো বিমানবন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন মিশরের সিনাই পাহাড়ে বিধ্বস্ত কোভালিয়া এয়ারলাইন্সের (মেট্রোজেটের) বিমানের আরোহীদের স্বজনরা।

সিনাইয়ের কোনো কোনো অঞ্চলে ইসলামি জঙ্গিরা তৎপর রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমর্থক সিনাইভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী শত শত মিশরী সেনা ও পুলিশকে হত্যা করেছে এবং তারা পশ্চিমা লক্ষবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।

গত মাসে সিরিয়ার আসাদবিরোধী ইসলামিক স্টেটকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। তবে বিমানটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে- এমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে মিশরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মিশরের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাজে আবহাওয়ার কারণে দেরিতে হলেও মিশরের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল সিনাই ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর আল আইরিশের ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) দক্ষিণে হাসানা এলাকায় বিধ্বস্তস্থল শনাক্ত করেছে।

এতে বলা হয়, রাডারের দৃষ্টির থেকে উধাও হওয়ার সময় বিমানটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩১ হাজার ফুট উপরে ছিল। সেন্ট পিটার্সবার্গের পলকভো বিমানবন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন মিশরের সিনাই পাহাড়ে বিধ্বস্ত কোভালিয়া এয়ারলাইন্সের (মেট্রোজেটের) বিমানের আরোহীদের স্বজনরা।

এদিকে মিশর সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেরিফ ইসমাইল বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছেন। মিশরের মন্ত্রিপরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানটি ২১৪ জন রুশ ও তিনজন ইউক্রেনীয় ছিল। এদের মদ্যে ১৩৮ জন নারী, ৬২ জন পুরুষ ও ১৭ জন শিশু। বাকিরা বিমানের ক্রু।

শনিবার মিশরে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় রুশ সরকার কোলামিয়া এয়ারলাইনের বিরুদ্ধে ‘ফ্লাইট পরিচালনা ও প্রস্তুতির বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ’ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করেছে বলে রুশ বার্তা সংস্থাগুলো জানায়।

কোলাভিয়া এয়ারলাইনের বিমান মেট্রোজেট ব্র্যান্ড নিয়ে চলাচল করে। এর আগে ২০১১ সালে মেট্রোজেট মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তখন রাশিয়ার উরালে সুরগুত বিমানবন্দরের রানওয়েতেই এই সংস্থার এক বিমানে আগুন ধরে যায়। মাত্র ১০ মিনিটের আগুনে তিনজন মারা যান এবং ৪০ জন আহত হন।

এর আগে রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা ২০১৩ সালের নভেম্বরে। তখন তাতারস্তান এয়ালাইন্সের একটি বিমান কাজান বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জনের মৃত্যু হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close