লন্ডন থেকে

বাংলাদেশের সরকার লেডি হিটলার হাসিনা যে বিডিআর হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বর্তমান অবৈধপার্লামেন্টে যতকিছুই পাস করুন না কেন সত্যিকারের নির্বাচন হলে জনগনের সরকার আসলে এগুলি কার্যকর হবে না। ঢাকা শহর চলার অনুপযোক্ত। ঢাকা শহর এত নোংরা পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় অবস্থান করছে। কথাগুলো বলছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার প্রথম মাসেই নির্মম বিডিআর কান্ডের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালিন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমদ সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রবিবার সেন্ট্রাল লন্ডনের পার্ক প্লাজা রিভারব্যাংক হোটেলে নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথাগুলি বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দর্শকসারিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বসা ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জোবায়দা রহমান। তিনি বলেন, সেদিন দেশের ভাল ভাল দেশপ্রেমিক ৫৭জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল। সবকিছুই হাসিনা ও মঈন উদ্দিন জানত। সেদিন কর্নেল গোলজার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেনাপ্রধানের সহযোগিতা কামনা করেছিলো। সেদিন আর্মি যদি ঢুকতে পারত তা হলে তাদের বাঁচানো যেত। কিন্তু তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি শেখ হাসিনাকে লেডি হিটলার উল্লেখ করে বলেন, তিনি যা হুকুম করেন প্রশাসন তা করে। প্রশাসন দলীয় করন করা হয়েছে। ভাল ভাল যোগ্য অফিসারকে বের করা দেয়া হয়েছে। এখনো ৪শ উপরে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন অকার্যকর। বাংলাদেশের এডিপির যে কাজ আছে তা শেষ করতে পারে না। বড় বড় প্রজেক্টের কমিশন নেয়া হচ্ছে। তিনি দুর্নীতি কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই সকল দুর্নীতি দেখে না। তারা শুধু দেখে খালেদা জিয়ার পরিবারকে।

খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, আপনারা এমন এক দেশে বসবাস করছেন যে দেশকে বলা হয় মাদার অব ডেমোক্রেসী। আমি এবার এই দেশে এসেছি মূলত একদম ব্যক্তিগত সফরে। অনেকদিন আমরা পরিবারের কাছ থেকে দূরে ছিলাম। পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্যই এসেছি। তারপরও আপনাদের সাথে দেখা করব বলে আজ এখানে এসেছি।

তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে ভাল আছি সুস্থ্য আছি। তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, পরিবারের সাথে বহুদিন পর দেখা। তারা আমাকে ছাড়তে চায় না। তাই দেশে যেতে দেরি হচ্ছে। কিন্তু এই মুহুর্তে আমাকে দেশে যাওয়াটা প্রয়োজন। আমি দেশে যাব। আমাকে ছাড়া ওখানে অনেক কিছুই তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

তিনি বলেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, সকল স্থানীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধিনে হয়। তাই আমরা বিগত নির্বাচন গুলিতে অংশ নিয়েছি। সিলেটে, রাজশাহীতে, খুলনাতে গাজীপুরে, বরিশালে জয়ী হয়েছিলাম সুষ্টু নির্বাচন হওয়ায়। কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা সিটি নির্বাচন কি হয়েছে আপনারা জানেন। আমার উপর হামলা হয়েছে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হত তা হলে আমরা জয়ী হতাম। ভোটের দিন কি হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। যখন শুনলাম আমাদের লোকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে পারছে না তখন আমরা ভয়কট করলাম।

অনেকেই বলছে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে গেলে বিএনপি জয়ী হতে পারত। কিন্তু সেটি ভুল। কারন প্রশাসনে তাদের লোকজন ছিল। সিটি কর্পোরেশনের মত রেজাল্ট হত। এখনত এই সরকারকে অবৈধ বলতে পারতেন না। বিদেশীরা তখন বৈধতা দিত। এখন পর্যন্ত কারো কাছ থেকে এরা বৈধতা পায়নি।

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার দেশ নিয়ে ভাবেন, দেশ নিয়ে চিন্তিত। খুব ভাল লাগছে। এই দেড় মাসে অনেক জিনিস দেখেছি, আমার ভাল লেগেছে। আইন শৃঙ্কলা থেকে শিখার আছে। এই দেশের মত এই গুলি দেশে করলে ভাল হবে। তিনি বলেন প্রথমে আমাদের সুশৃঙ্খল হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে শৃঙ্খলার অভাব, ঐক্যের অভাব আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কি হয়েছিল তা আপনার জানেন। আমি সেগুলি বলবনা। বর্তমানে বাংলাদেশে কি হচ্ছে তাও আপনারা দেখছেন। বাংলাদেশের মানুষ মোটেও ভাল নেই। সুশাসন বলতে কিছু নেই। আমি শেখ হাসিনাকে রং হেডেড বলতে চাই না। তিনি বাংলাদেশ রাজতন্ত্র কায়েম করতে চান।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দলীয় লোক। তিনি নরম প্রকৃতির অপদার্থ লোক। যেখানে ৪ভাগ ভোট পড়েনি সেখানে সে বলে ৪৪ ভাগ ভোট পড়েছে। তার অধিনে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন হাসিনার অধিনের হলে হবে না। নির্বাচন কমিশনকে পুর্ন গঠন করতে হবে। দেশ আজ গণতন্ত্রহীন অবস্থায়। কিছু হলেই বিএনপির দোষারুপ করা হয়। তিনি বলেন, গত ৭ বছরকে বিএনপির ৩ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, ১২শ গুম, ১হাজার ১২জনকে ক্রসফায়ার হত্যা করা হয়েছে। আসামী করা হয়েছে ৭লাখ নেতাকর্মীকে।

বেগম জিয়া বলেন, বিএনপির সবনেতাকে জেলে দিয়ে, এমনকি আমাকেও জেলে দিয়ে নির্বাচন করার পায়তারা করছে। তিনি বলেন বিএনপির নেতাকর্মীদৈর দেখলেই গুলি করছে পুলিশ। বিএনপিকে শেষ করার প্লান করেছে অবৈধ সরকার। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে বলেন, আমার অফিসে যে যেখান আসে তাদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়। তাদের সাথে কথা বলি। আমাদের প্রতিটি কমিটিগুলিকে পুর্ণগঠন করা হবে। প্রতিটি জায়গায় চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখানে যারা আন্দোলন সংগ্রাম ছিল তাদের মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা ঢাকায় ব্যর্থ হলেও অন্যান্য জায়গায় সফল হয়েছি। যা দেশে স্বাধীনতার পরবর্তী কখনো হয়নি। তিনি বলেন, যারা রাজপথে ছিল তাদের কমিটি রাখা হবে। তিনি বলেন, আর ভাই ভাইয়ের পকেট কমিটি হবে না। সেন্ট্রাল কমিটি অনেক কাজ এগিয়ে রেখেছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে ভাংঙ্গার যাবে না। ফখর উদ্দিন মঈন উদ্দিন অনে করেছে। তবে এরশাদ এরকম করেনি বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ফখর উদ্দিন বলেছিল, আমি বিদেশ যাব কেন। দেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নাই। যার জন্য আমার পরিবারকে এত সাফার করেছে। তিনি বলেন তারেক রহমানকে, কোকোকে রিমান্ডের নামে নিযার্তন করা হয়েছে। কোকোত ভয় পেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভয়ে ভয়েই থাকত। র‌্যাব প্রসেঙ্গ বলতে গিয়ে বলেন, বেনজীর কত মানুষ যে মেরেছে। তার বিচার হবে। তিনি র্যাবকে জাতিসংঘ মিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবী জানান।

জঙ্গীবাদ প্রসঙ্গে বলেন, শেখ হাসিনা জাতীসংঘে পর্যন্ত বলেছে দেশে জঙ্গীবাদ আছে। এখন আবার বলছে নাই। কিন্তু জঙ্গীদের উত্তান তাদের সময় ঘটেছে। যশোরে উদীচী, রমনার বটমূলে, গোপালগঞ্জে, সিপিবি সমাবেশে হামলা, নারায়নগঞ্জে তাদের সময়। আমরা সকল জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছিলাম। বিচার করেছিলাম।

তিনি আবারো শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে বলেন, হাসিনা প্রতিশোধ নিচ্ছে। বাংলাদেশকে ধ্বংস করে যাবে। আমরা গড়ার রাজনীতি করি।

তিনি বলেন ক্ষমতায় গেলে আমরা প্রশাসনকে দলীয় করা হবে না। মেধার ভিত্তিতে প্রশাসন চলবে। পুলিশ, সেনাবাহিনীকে সেভাবে। যে অপরাধ করবে তার শান্তি দিব। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। সেখানে দলীয় করণ করা হবে না। সুশাসন প্রতিষ্টা করা হবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হবে। দুর্নীতিদমন কমিশনকে স্বাধীন করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হবে। আজকে শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য প্রবাসী মন্ত্রনালয়ে প্রবাসীদের নেয়া হবে। প্রতিটি মানুষ যেন স্বাস্থ্য সেবা পায় সেটা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলছে, মানুষকে অত্যাচার করছে। আল্লাহ আছেন আল্লাহ সব দেখছেন। তিনি বলেন,আজ মাহমুদুর রহমান, শওকত মাহমুদ জেলে, প্রেসক্লাব তাদের দখলে। সব তাদের দখলে বাংলাদেশে এখন কোন ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। এসবের সাথে তার পুলিশ ও র্যাব জড়িত। র্যাবের জাতিসংঘ মিশন বন্ধ করতে। তাদের গুলি সাপ্লাই বন্ধ করতে হবে।

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে কেউ কথা বলতে পারেনা। আপনারা যারা প্রবাসে আছেন লেখালেখি করুন। সোশ্যাল মিয়া ব্যবহার করুন।

অর্থনীতি সম্পকে বলেন, মন্ত্রী এমপিরা মুহিত সাহেবের কথা শুনে না। ব্যাংকগুলি শূন্য। শেয়ার মার্কেট। গামেন্টেস শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতারা বাংলাদেশে যেতে চায়। তারা ভয় পায়। ম্যান পাওয়ার স্পলাই বন্ধ, হয়েগেছে। বাংলাদেশে বিদেশী রিমিটেন্স কমে যাচ্ছে।

তিনি আবারো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সবকিছু ভুলে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ আমরা কেন করেছিলাম। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন, মেধাবীদের বাংলাদেশে নিয়ে যেতে হবে। প্রতিশোধ প্রতিহিংসা রাজনীতি বাদ দিতে হবে।

সেন্ট্রাল লন্ডনের ঐ হলে বেগম খালেদা জিয়া যখন তার দীর্ঘ বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন পাশে বসা তার ছেলে তারেক রহমানকে বার বার মায়ের কানের কাছে বলতে শোনা যায়, হলের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই আর দীর্ঘ না করে বক্তব্য শেষ করতে হবে। সেক্রেটারী কয়সর আহমদকেও বার বার কানের কাছে এসে বলতে শোনা যায়। খালেদা জিয়া কবেল বলেই যাচ্ছিলেন। এতে প্রায় ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় নিতে হয় হল কতৃপক্ষের কাছ থেকে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close