ইউরোপ জুড়ে

মিশরে বিধ্বস্ত রাশিয়ান বিমানটিতে বোমা ছিল: বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া

 

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: মিশরের সিনাই উপত্যকায় বিধ্বস্ত হওয়া রাশিয়ার বিমানটিতে বোমা রাখা ছিল বলে মনে করছেন বৃটিশ গোয়েন্দারা। তবে মিশর ও রাশিয়া এ দাবির তীব্র সমালোচনা করেছে।

এদিকে, মিশরে সকল বিমান চলাচল বন্ধ করেছে রাশিয়া। মিশরের সিনাইয়ে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে রাশিয়ান একটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কারণ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটি। এছাড়া মিশর থেকে রাশিয়ান পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিবিসি।

তবে এরপরও বিমান দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধূম্রজাল। শনিবার ২২৪ যাত্রী নিয়ে সিনাই উপত্যকায় বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির কার্গো হোল্ডে বোমা রাখা হয়েছিল এমন সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন বৃটিশ ও মার্কিন গোয়েন্দারা। তবে, প্রকৃতপক্ষে কি কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও পরিস্কার নয়।

বিবিসি‘র খবরে বলা হয়েছে, ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে শুরু করেছেন বৃটিশ কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, উড্ডয়নের আগে বিমানের কার্গো হোল্ডে একটি বোমা রাখা হয়েছিল। বৃটিশ গোয়েন্দারা বলছেন, সিনাইয়ের কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোপন আলাপ থেকে তারা এ ধারণা পেয়েছেন।

কার্গো হোল্ডে থাকা বোমার কারণেই বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশের পরই রাশিয়ার তরফ থেকে এ সিদ্ধান্ত এলো। মিশরে অবস্থিত পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি রাশিয়ান পর্যটক ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অতিরিক্ত নিরাপত্তার সঙ্গে ইতিমধ্যে পর্যটকদের ফিরিয়ে নেবার কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে বৃটেন সহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন, কার্গোতে বোমা থাকার বিষয়টিকে তারাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। তবে মিশরের দাবি, এ ধরনের উপসংহারে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। শুধু ধারণা করেই খ্যান্ত দেয়নি বৃটেন। মিশরের শার্ম আল শেইখে ভ্রমণের বিষয়ে নিজ নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে দেশটি। এ ছাড়া নিজেদের হাজার হাজার পর্যটককে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনছে বৃটেন।

শুধু তাই নয়, পর্যটকদের দেশে ফেরার সময় কেবল হ্যান্ডব্যাগ সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। তাদের বাকি মালামাল পরে আলাদা বিমানে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃটেনের পাশাপাশি ফ্রান্স ও বেলজিয়ামও পরে নিজ নিজ নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। এর আগে এমিরেটস সহ বেশ কয়েকটি বিখ্যাত বিমান পরিবহন সংস্থা ওই এলাকা দিয়ে বিমান না উড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাশিয়া বলছে, সঠিক কারণ জানতে দেরি হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন সহ আরও অনেকেই বলছে যে, সন্ত্রাসী হামলার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর সঙ্গে সমপর্কিত একটি গোষ্ঠী বিমান ধসিয়ে দেয়ার দায় নিয়েছে। কিন্তু মিশর বলছে যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিমানের অভ্যন্তরীণ কোন গোলযোগের কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, কোন সন্ত্রাসী হামলার দরুন নয়।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close