বিস্ময়কর

নির্মম বেঁচে থাকার গল্প

বিস্ময়কর ডেস্ক:  জন্মের পরই দেখতে পাননি পৃথিবীর আলো, তাই বলে কি; জীবনের তাগিদে আর সংসারের প্রয়োজনে বসে থাকা হয়নি এই অসহায় মানুষটির। বেঁচে থাকার তাগিদ আর সংসারে ছোট্ট মেয়েটির মুখে হাসি ফোটানোর দায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন মনির হোসেন নামের এই বাবা।

তাও আবার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ পেশা রিক্সার হ্যান্ডেল ধরে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছানোর কাজ! এও কি সম্ভব; একজন অন্ধ মানুষ যিনি নিজি পারেননা তার গন্তব্যে পৌছাতে সেই মানুষের পক্ষে কি করে সম্ভব অন্যদেরকে তিনচাকার এই যানে করে ব্যাস্ত রাস্তার মধ্য দিয়ে গন্তব্যে পৌছে দেয়া ? হোচট লাগলেও সত্যি!

এই ঘটনা নিয়ে গতকাল একটি ফিচার ছেপেছে দ্যা ডেইলি স্টার। বাবা অন্ধ, ফেনী সুন্দরপুরের এক রিক্সা চালক। ছোট্ট মেয়েটি বাবার রিক্সার সিটের সামনে বসে থাকে। বাবার কানে পৌঁছে দেয়, ডানে যাও, বামে যাও-সোজা চল, থামো।

ডেইলি স্টার লিখেছে, এ্যা ফাদার’স আই। ছোট্ট ফুলের মতো সুন্দর মেয়েটি সুন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। নাম তার ফারিয়া। স্কুল শেষে তার প্রধান কাজ হলো রিক্সায় অন্ধ বাবার চোখ হয়ে যাওয়া। প্রায় ২৮ বছর ধরেই এভাবে অন্ধত্ব নিয়ে রিক্সা চালিয়ে আসছেন মনির হোসেন। তার বড়ছেলে শরীফ (১৮) আগে তার বাবাকে সাহায্য করতেন এভাবেই।

এখন শরীফ সিএনজি চালায় সংসারে সহায়তার জন্য। মনির হোসেনের স্বর্ণা আক্তার (১৬) নামে একটি মেয়েও আছে । অসহায় এই বাবা সপ্ন দেখেন এভাবেই টাকা জমিয়ে একদিন মেয়ের বিয়ে দেবেন। মেয়ে সুখি হবে। যদিওবা এই দুর্মূল্যের বাজারে মনিরের আয় প্রতিদিন মোটে ১০০/১৫০ টাকা । অনেকেই ভয়েই উঠতে চাননা এই অন্ধ্যের রিক্সায় । নিতান্তই যাদের ভরসা তারাই উঠেন এই অসহায়ের রিক্সায়!

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close