ইউরোপ জুড়ে

ভয়াবহ প্যারিস হামলা: বিশেষ সর্তক বার্তা জারি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: স্টেডিয়ামের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ জরুরি অবস্থা জারি করে সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেন। এরই প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ব্রিটেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোর দেয়া হয়েছে। রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইন্ডিয়া, ব্রিটেন, হংকং ও সিঙ্গাপুরে।

শুক্রবার প্যারিস হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে আইএসআইএস। এমন দাবি স্বীকার করেছে কোনও কোনও সূত্র। যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের ঘটনার পরই দেশটিকে সতর্ক রাখার নির্দেশ জারি করে। ফ্রান্স গামী যুক্তরাষ্ট্রের সকল বিমান কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ফ্রান্সের এই হামলা স্মরণ কালের সর্ব বৃহৎ হামলা। এই হামলায় বহু লোকের প্রাণ চরে গেছে।

এদিন অন্তত পাঁচটি স্থানে একযোগে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা, যাতে শতাধিক নিহত হন। হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার না করলেও সন্দেহ করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে। এক হামলাকারীকে আল্লাহ আল্লাহ বলে চিৎকার করতে শুনেছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জনাথন হিল নামে এক ব্রিটিশ। কার্ডিফের এই চাকরি সূত্রে রয়েছেন প্যারিসে।

হামলার সময় সিটি হলের ৫০ গজের মধ্যে একটি এটিএম বুথে ছিলেন জনাথন। যখন টাকা তুলছিলাম, তখনই তিনটি গুলির শব্দ পাই। যদিও প্রথমে আমি এগুলোকে গুলি বলে মনে করিনি, ভেবেছি রাস্তায় কেউ আতশবাজি ফুটাচ্ছে।

একই সময়ে আমি ছয় ফুট ৪/৫ ইঞ্চির এক বিশালদেহী লোককে দেখতে পাই, রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যে ‘আল্লাহ-আল্লাহ’ বলে চিৎকার করছিল। ৫০ গজ দূর থেকে তাকে ককেসিয়ানদের মতো দেখাচ্ছিলো। সে লোকজনকে ক্যাফে থেকে বের হয়ে এসে বাটাক্লঁ’র ভেতরে ঢুকতে বলছিল। মাঠের খেলায় এর প্রভাব না পড়লেও দর্শকরা বেশ বিচলিত হয়ে উঠেছিল বলে জানান ভিনসেন্ট।

সবাই টুইটারে খোঁজখবর নিচ্ছিল। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ওঁলাদকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে, যদিও কেউই তাকে চলে যেতে দেখেনি। ওলাঁদের সঙ্গে ওই সময় গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাঙ্ক ভালটার। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশের হেলিকপ্টারকে স্টেডিয়ামের উপর চক্কর দিতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ দ্রুত চলে যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে,সেখানে বসে সব পরিস্থিতি দেখে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন তিনি।

স্টেডিয়ামের বাইরে আত্মঘাতী বোমাহামলা হলেও প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে একটি এশীয় রেস্তোরাঁর বাইরে হামলা হয় কনসার্ট হলের মতোই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে।

হামলার পর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন নগরীটিতে সব বাসিন্দাদের যার যার ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। শহরে দেড় হাজার সৈন্য নামানো হয়েছে, বাতিল হয়েছে পুলিশের ছুটি, হাসপাতালগুলোতে কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন কাজে রাখা হয়েছে। মেট্রো রেলের পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে দূরপাল্লার রেল ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

এ ঘটনা যাতে ব্রিটেনে না ঘটে সেজন্য ব্রিটেন তার দেশকে সতর্ক রেখেছে। ভারতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে পুরো দেশে সতর্ক রাখা হয়েছে। এছাড়া হংকং, সিঙ্গাপুর নিজ নিজ দেশে সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাস্ট্র প্রশাসন বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে তার বিভিন্ন অঙ্গরাষ্ট্রে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close