জাতীয়

ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত, মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন তবে প্রাণভিক্ষা চাননি কেউই

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এখন পর্যন্ত প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি। রাষ্ট্রপতির কাছে আদৌ প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না, তা পরে জানাবেন বলে কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তাঁরা।

এরইমধ্যে কারাগারে তাদের মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দু’জন কারা চিকিৎসক তাদের মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করেন। চেকআপে অংশ নেয়া ডা. বিপ্লব কান্তি সাংবাদিকদের বলেন, আমিসহ আর একজন চিকিৎসক বৃহস্পতিবার রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেছি। তারা দু’জনেই সুস্থ আছেন। মানসিকভাবেও শক্ত আছেন।

কারাগারের একজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদকে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। তাঁরা প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, সময় নিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, আজ শুক্রবার আবারও তাদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হবে। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইন অনুযায়ী এ প্রক্রিয়ায় ধাপগুলো মেনে চলা হবে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসির মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ২টার মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হয়। মঞ্চটি ধোয়ামোছা শেষে এর চারপাশে শামিয়ানা টানানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ফাঁসি কার্যকর করতে শাহজাহান ও রাজু নামের দুজন জল্লাদকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দু’জন কারা চিকিৎসক তাদের মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করেন। চেকআপে অংশ নেয়া ডা. বিপ্লব কান্তি সাংবাদিকদের বলেন, আমিসহ আর একজন চিকিৎসক বৃহস্পতিবার রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেছি। তারা দু’জনেই সুস্থ আছেন। মানসিকভাবেও শক্ত আছেন।

বিভিন্ন মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জল্লাদ শাহজাহান ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আরেক জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে ভূমিকা রাখেন জল্লাদ রাজু।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান ১৪৩ বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ৩৬ বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। আর রাজু ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছেন। শাহজাহান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামি, এরশাদ শিকদারসহ বিভিন্ন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন।

গত বুধবার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। এর একদিন পর গতকাল রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানো হয়েছে।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আবু তাহের ভূঁইয়া দুটি রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন। তারপর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেখান থেকেই মৃত্যু পরোয়ানা তৈরি করে তা লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে কারা উপ মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের কেউই প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেননি। আজ তাঁদের কাছে আবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর সাংবাদিকদের জানান, দুজনকেই রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না। তখন দুজনেই জানান, তাঁরা এ ব্যাপারে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন। তখন তাঁদের জানানো হয়, আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের আর কোনো সুযোগ নেই। তখন তাঁরা পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করতে চেয়েছেন।

সাকা ও মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সব আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন কেবল তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। এটা না চাইলে বা রাষ্ট্রপতি ক্ষমা না করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। গত বুধবার সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের করা ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেন আদালত।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close