রাজনীতি

অপপ্রচার বন্ধেই খালেদার দেশে ফেরা

রাজনীতি নিউজ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান শেষে গত শনিবার দেশে ফিরেছেন। বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছেন, বিদেশে অবস্থান নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অপপ্রচার বন্ধের জন্য চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই তিনি কিছুটা তাড়াহুড়ো করে দেশে ফিরে এসেছেন।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি বলেছে, দেশের চলমান সংকটের কারণে চিকিৎসা শেষ না করেই তিনি দেশে ফিরেছেন। চিকিৎসার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। দুই সপ্তাহ থাকার কথা থাকলেও ৬৬ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ২১ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি।

ফেরার পর নিকটাত্মীয়দের বাইরে শুধু স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে গুলশানের বাসায় সাক্ষাৎ করেন খালেদা জিয়া।

দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আলাপকালে বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন অসুস্থতার কারণে লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর এই থাকা নিয়ে দেশে আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারদলীয় মন্ত্রীরা নানা কথা বলছিলেন। খালেদা জিয়া আর ফিরবেন না বা তারেক রহমান দলীয় চেয়ারপারসনকে আসতে দিচ্ছেন না—এমন কথা তাঁরা জোরেশোরে প্রচার করছিলেন। পাশাপাশি তাঁর আসা নিয়ে বারবার তারিখ পরিবর্তন, দলের ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কোনো কোনো কর্মকর্তার সময় বেঁধে দেওয়ার ঘটনা এবং সর্বোপরি এসব সময়ের মধ্যে চেয়ারপারসনের না ফেরার কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যেও সন্দেহ দেখা দেয়।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অপেক্ষাকৃত নবীন ও মধ্যম সারির নেতারা জানতে চাচ্ছিলেন, ‘চেয়ারপারসন ফিরবেন কি না?’ এটি দলের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছিল। এর বাইরে বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদার দল গঠন নিয়ে বিএনপির মধ্যে অস্বস্তি ছিল। এসব কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দলীয় চেয়ারপারসন দেশে চলে আসেন।

ওই নেতারা বলেন, সরকারপ্রধানও খালেদা জিয়ার লন্ডনে অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছিলেন। অথচ লন্ডনে তাঁর রাজনৈতিক সফর ছিল না। তাঁরা বলেন, চেয়ারপারসনের চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তিও আছে। গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর হরতাল ছিল। তা ছাড়া এই মুহূর্তে বড় কোনো রাজনৈতিক ইস্যুও নেই। সব মিলিয়ে চেয়ারপারসন হয়তো কার্যালয়ে আসার প্রয়োজন বোধ করছেন না। তবে এটা দুই-এক দিনের মধ্যেই কেটে যাবে।

চিকিৎসা শেষ করার আগেই দেশে ফেরার কারণ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। তার পরও তিনি দেশে ফিরছেন। কারণ, দেশে সংকট চলছে। সংকট বলতে তিনি গত ২৮ সেপ্টেম্বর ও ৬ অক্টোবর দুই বিদেশি হত্যাসহ দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

দেশে ফেরার তিন দিন হলেও খালেদা জিয়া গুলশানে তাঁরা কার্যালয়ে বা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যাননি। কবে থেকে কার্যালয়ে যাবেন, তাও কেউ বলতে পারছেন না। দলীয় চেয়ারপারসন দেশে ফেরায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু দেশে ফিরে তাঁর এই নীরবতা বিএনপির নেতাদের মধ্যে আবার নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন খালেদা জিয়া কার্যালয় আসছেন না, কেন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করছেন না—দলটির মধ্য ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের এমন অনেক প্রশ্নের জবাবে কিছুই বলতে পারছেন না নীতিনির্ধারকেরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন আছে। তাঁর মতে, শিগগিরই স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, চেয়ারপারসন অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলেন। ভ্রমণ ক্লান্তিও আছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি কার্যালয়ে আসা শুরু করবেন, আশা তাঁর।

চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া কবে থেকে কার্যালয়ে বসা শুরু করবেন, সে সম্পর্কে তিনি জানেন না। তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন। তাঁর মাধ্যমে পাওয়া দিকনির্দেশনাগুলো সংশ্লিষ্ট নেতাদের জানানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আজ মঙ্গলবার চেয়ারপারসন কার্যালয়ে আসবেন এমন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে এ সপ্তাহেই কার্যালয়ে নিয়মিত হবেন দলীয় চেয়ারপারসন। সে জন্য কার্যালয় ধোয়ামোছা করা হয়েছে। নতুন করে রংও করা হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close