যুক্তরাজ্য জুড়ে

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধে হাজার হাজার পিটিশন স্বাক্ষর: নিষিদ্ধ করতে পারে ব্রিটিশ সংসদও

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্য করার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদন বিবেচনা করে তা নিয়ে বিতর্ক করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন ব্রিটেনের আইন প্রণেতারা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিটেনে প্রবেশের বিরুদ্ধে অনলাইনে একটি পিটিশনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ট্রাম্পকে ইউকেতে নিষিদ্ধ করার দাবীদে করা এ অনলাইন পিটিশনে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৩শ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। বুধবার সকালের মধ্যেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পিটিশনে সই করে ৩৫ হাজার ৮২৭ জন। এ সংখ্যা দ্রুতই বাড়তে থাকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ সই করেছেন। ব্রিটেনে

১০ হাজারের বেশি মানুষের সই করা পিটিশনে সাড়া দেয় ব্রিটিশ সরকার। আর সইয়ের সংখ্যা ১ লাখে পৌঁছলে সে বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক করার কথা বিবেচনা করা হয়। এ হিসেবে অবশ্যই ব্রিটেনের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এর ফর নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। ব্রিটেনে কারো আচরণ গ্রহণযোগ্য না বলে গণ্য হলে, দেশে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। অতীতেও ঘৃণা ছড়ায় কিংবা আন্ত-সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উস্কে দেয় এমন বক্তব্যের জন্য যুক্তরাজ্যে মানুষজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

পিটিশনে বলা হয়, ঘৃণা ছড়ানোর বক্তব্য দেয়ার জন্য যুক্তরাজ্য এ পর্যন্ত দেশে অনেক মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সেই একই নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করতে হবে। ট্রাম্প যেন যুক্তরাজ্যের মাটিতে পা রাখতে না পারেন। তাকে এ মাটিতে নিষিদ্ধ করতে হবে।

২ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো শহরের একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৪জনকে হত্যার ঘটনায় যে তরুণ দম্পতিকে দায়ী করা হচ্ছে, তারা দুজনেই মুসলিম। তারা দুজনেই আইএস-এর অনুসারী ছিলেন বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল আইএস দাবি করেছে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়ই মুসলিমদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান ট্রাম্প। এমন দাবি তুলে ট্রাম্প নিজ দেশ, নিজ দল, বিরোধী দল, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ, এমনকি ব্রিটেনেও নিন্দা-সমালোচনার শিকার হচ্ছেন ।

কোনো আবেদনে এক লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়লে তা নিয়ে বিতর্কের জন্য ব্রিটেন সংসদ বিবেচনা করে দেখে থাকে। তবে এজন্য সরকারের সম্মতি দরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্তব্যকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী, বিদ্বেষমূলক এবং ভুল বক্তব্য বলেই মনে করেন।

বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বহু লোকের (ব্রিটেন) প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, বলা হয়ে আবেদন। একই নীতি সবার জন্যই প্রয়োগ করা উচিত যারা যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে চায়। আবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের উচিত ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাবান-দুর্বলের সাথে সমান আচরণ করা।

৬৯ বছর বয়সী ট্রাম্প গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানানোর পর ব্রিটেনের সংসদের কাছে এ আহ্বান জানানো হলো। সারাবিশ্বই ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তার বক্তব্যকে একেবারেই ভুল বলে মন্তব্য করেন। ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে করা একটি আবেদন বুধবার পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি লোক স্বাক্ষর করেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close