অন্য পত্রিকা থেকে

ব্যারিস্টার নাজির আহমদ কুইন মেরি’র এলামনাই অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হলেন

নিউজ ডেস্ক: বিশিষ্ট আইনজীবী ও লেখক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির এলামনাই অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থান পর্যবেক্ষনসহ বিস্তারিত সাক্ষাতকারগ্রহণ শেষে গত ৮ ডিসেম্বর এক অফিশিয়াল চিঠিতে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এলামনাই অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হয়ে বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করবেন। উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যারিস্টার নাজির মুখ্য ভুমিকা রাখবেন। ব্যারিস্টার নাজির আহমদের দেশের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে।

উল্লেখ্য, বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অত্যন্ত সুপরিচিত লেখক, বিশ্লেষক ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বাংলাদেশ ও বিলেতে লেখাপড়া করেন। তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটির কুইন মেরি থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং একই ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম সম্পন্ন করেন। ১৯৯৯ সালে লিংকন’স ইন থেকে বার-এট-ল বা ব্যারিস্টার ডিগ্রী লাভ করেন।

পরবর্তিতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সুপ্রিম কোর্ট-এর সলিসিটর হিসেবেও তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বার ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের মেম্বার। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বিশ্বখ্যাত সালিশী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব আরবিটট্রেটর্স’-এর একজন ফেলো। ম্যানেজমেন্টের ওপর তাঁর দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি অতীতে বিভিন্ন সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘দ্য চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ তাঁকে ফেলোশিপ তথা এফসিএমআই প্রদান করে। ‘দ্যা রেল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ’ থেকেও তিনি এফআরএসপিএইচ লাভ করেন। ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের জন্য ‘দ্য রয়াল সোসাইটি অব আর্টস’ তাঁকে এফআরএসএ প্রদান করে।

মিডিয়ার কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, ‘সংবাদ শুনে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। লন্ডন ইউনিভার্সিটি’র কুইন মেরি’র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এই খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করতে’।

তিনি প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন ‘লন্ডন ইউনিভার্সিটি’র কুইন মেরি হচ্ছে লন্ডনের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে ১৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী লেখা লেখাপড়া করে এবং স্টাফ সংখ্যা ৪শ’রও বেশি। প্রাক্তণ ছাত্র ও স্টাফ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচজন নোভেল পুরস্কার পেয়েছেন। কুইন মেরির লাইব্রেরি লন্ডনের মধ্যে অন্যতম বড়। এর ‘ল স্কুল’ বা আইন বিভাগ খুবই সমৃদ্ধ এবং ‘কমার্শিয়াল ল ডিপার্টমেন্ট’ ইউরোপের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

আমার সৌভাগ্য যে চারটি বছর এই খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছি। কুইন মেরিতে পড়াকালীন সময়ে সৌভাগ্যক্রমে পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় একাডেমিকদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি কিভাবে আইন পড়তে হয় ও বিশ্লেষণ করতে হয় এবং আইনী বিষয় নিয়ে লিখতে হয়।

নেতৃস্থানীয় একাডেমিকদের মধ্যে কয়েকজন হলেন, প্রফেসর রজার কটট্রল, প্রফেসর জেরালডিন ভ্যান বুইরেন কিউসি (বর্তমানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং ফেলো) যিনি জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশন ও রুলস ড্রাফট করেছেন, প্রফেসর জেনেভরা রিচার্ডসন (যিনি অক্সফোর্ড-এর ‘সেন্টারে ফর সোস্যও-লিগাল স্টাডিস’ এর প্রফেসর ছিলেন এবং বর্তমানে লন্ডন ইউনিভার্সিটি’র কিংস’এর প্রফেসর), প্রফেসর হিলারী বার্নেট এবং প্রফেসর কাথেরিন ও’ ডনভান।

তাদের বইগুলো (যেমন: তখনকার ডিন প্রফেসর রজার কটট্রল-এর ‘পলিটিক্স অব জুরিসপ্রæডেন্স’ আমার পার্সোনাল টিউটর প্রফেসর হিলারী বার্নেটের ‘কনস্টিটিউশনাল এন্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল’ বিশ্বের শীর্ষ ও নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে জাতিসংঘ ও ইউকে সরকার এক্সপার্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিভিন্ন ইসুতে রিপোর্ট করার জন্য। কুইন মেরিতে কাটানো সময় ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। আমি গর্বিত কুইন মেরির জন্য। আমি ঋণী ওই সকল লিডিং এক্সপার্টদের কাছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close