ইউরোপ জুড়ে

যুদ্ধের কারণে দিনে পালাচ্ছে ৪৬০০ জন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: এ বছরে যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে মানুষের নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। ২০১৪ সালে এসব কারণে প্রায় রেকর্ডসংখ্যক ৬০ কোটি মানুষ অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে দেশ ছেড়েছে।

শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে এ বছরের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বিশ্বে ১২২ জনের মধ্যে একজন মানুষ নিজ দেশ থেকে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হচ্ছে। সেই অনুযায়ী দিনে চার হাজার ৬০০ মানুষ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপির খবরে জানানো হয়, আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র বসবাসকারী লোকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই হিসাব এ বছরের প্রথম ছয় মাসের। পুরো বছরের হিসাব ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে।

ইউএনএইচসিআর বলছে, ‘প্রায় ১০ লাখ মানুষ এ বছর ভূমধ্যসাগরের পাশের দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। সিরিয়ায় সংঘাত ও অন্য দেশগুলোতে দুর্ভোগের কারণে বেশি সংখ্যক মানুষ অন্যত্র চলে যাচ্ছে। অন্য দেশে চলে যাওয়া এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার কারণে এ বছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

গত বছর পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বছর শেষে এ সংখ্যা ৬০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিদিন বাস্তুচ্যুত ৪৬০০ জন

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫০ লাখ মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গেছেন। ৪২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ দেশেই আছে। আট লাখ ৩৯ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে গেছে।

এ বছরের জুন শেষে শরণার্থী হিসেবে সারা বিশ্বে দুই কোটি দুই লাখ মানুষ বাস করছে। ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ শতাশের বেশি মানুষ এখন শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মতে, শরণার্থীর এই সংখ্যা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ। এ কারণে বছরের প্রথম ছয় মাসে সিরিয়ার ৪২ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছে। সিরিয়ার ওই ঘটনা বাদ দিলে ২০১১ থেকে ২০১৫—এই চার বছরে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ৫ শতাংশের মতো হতো।

সংস্থাটি বলছে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে শরণার্থীর সংখ্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও এ বছরের শেষ ছয় মাসের হিসাব করা হয়নি। বছরের শেষ ছয় মাসে এই সংখ্যা আরও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close