প্রযুক্তি আকাশ

বিল দিতে হবে ফেসবুক ব্যবহারে

প্রযুক্তি আকাশ ডেস্ক: সবাই কমবেশি ফেসবুক ব্যবহার করেন তাই সকলের জন্য একটি তথ্যনির্ভর কলাম উপস্থাপন করলাম, এই একটি কলামে আপনি কয়েকটি বিষয় দেখতে পাবেন আশা করি। হার্ভার্ডের ডরমেটরিতে নিজের রুমে বসে ফেসবুক চালু করেন জাকারবার্গ।

শুরুতে কিন্তু এতকিছু ভাবেননি এর প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন জাকারবার্গ। হার্ভার্ডে সুযোগ পাওয়ার পর জাকারবার্গের সারাক্ষণই কাটত কম্পিউটার নিয়ে। এই সময় তিনি বন্ধুদের চমকে দেওয়ার জন্য বেশকিছু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট তৈরি করেন। প্রথম তিনি তৈরি করেন ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সাইট। এই সাইটে ব্যবহারকারীরা সবাই কে কোথা থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন সেটা দেখতে পেতেন।

এরপর জাকারবার্গ ‘ফেস ম্যাশ’ নামে আরেকটি নেটওয়ার্কিং সাইট করেন। সেখানে ব্যবহারকারীরা ছবি দেখে কে কতটা আকর্ষণীয় সে অনুযায়ী রেটিং দিতেন। অনেকটা খেলাচ্ছলেই এসব সাইট তৈরি করেছিলেন জাকারবার্গ। তবে এই দুই সাইটের জনপ্রিয়তার পর ফেসবুক তৈরির কাজে হাত দেন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুক তৈরি করেন জাকারবার্গ।

তখন সাইটের নাম রাখা হয়েছিল দ্য ফেসবুক ডটকম। ভর্তি হওয়ার পর হার্ভার্ডের নতুন শিক্ষার্থীদের একটা কাগজ পূরণ করতে হতো, যেখানে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় লেখা থাকত। সেই কাগজ পরিচিত ছিল ‘ফেসবুক’ নামে। আর সেখান থেকেই নিজের ওয়েবসাইটের নাম রাখেন জাকারবার্গ। হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে বসেই ফেসবুক চালু করেন জাকারবার্গ। তবে তিনি একা নন।

ফেসবুক চালুর সময় জাকারবার্গের সঙ্গে কাজ করেন তাঁর সহপাঠী এবং রুমমেট এডওয়ার্ড সাভেরিন, অ্যান্ড্রু ম্যাককলাম, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ ও ক্রিস হগস। শুধু হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্যই সাইটটি তৈরি করেছিলেন তাঁরা। সাইট চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হার্ভার্ডের এক হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী সাইন আপ করেছিলেন ফেসবুকে। আর এক মাস পর হার্ভার্ডের অর্ধেক শিক্ষার্থীই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলেন।

এভাবে দ্রুত হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে জনপ্রিয়তা লাভ করে ফেসবুক। তবে মার্ক কিছু বৈচিত্র্য আনয়ন করেন ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য,শুরুতেই আমেরিকা তে প্রথমে যারা ফেসবুক চালু করতো তাদের জন্য ছিলো বিশেষ উপহার এমনকি নগদ ডলার ও দিতো। এভাবেই দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে জাকারবার্গ আমেরিকার সমস্ত অঞ্চলে সাড়া জাগায়

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জাকারবার্গকে, 2007 সালে গুগল এবং ইয়াহু ফেসবুক কিনতে চেয়েছিলো কিন্তু মার্ক রাজি হয়নি,এরপর থেকে ফেসবুক নতুন মাত্রা পাই আবারো। ফেসবুক শুরু থেকে মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত জাকারবার্গের কোন আয় ছিলো না,এরপর ফেসবুকে পেজ চালু হয়। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পেজ চালু করে পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে থাকে এখান থেকেই ফেসবুকের প্রথম আয় শুরু।

এরপর সমগ্র বিশ্ব ব্যাপী ফেসবুকের ব্যাপক প্রসারতা পাই, ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে অনেক ই কমার্স সাইট। বিনোদন থেকে শুরু করে শিক্ষা এমনকি অনেক ব্যবসা এখন ফেসবুক নির্ভর,এটিকে বাদ দিয়ে এখন আধুনিক যুগ কল্পনায় করা যায়না। এবার আসা যাক মূল আলোচনায় শুরুতেই মার্ক জাকারবার্গ বিনিয়োগ করেছেন এবার আয়ের পালা, কিছুদিন আগে জাকারবার্গ জনপ্রিয় সফটওয়্যার ওয়াটসআপের পুরো স্বত্ব কিনে নিয়েছেন এবং ব্যপক পরিবর্তন সাধন করেছেন।

এই সফটওয়্যারে চালু করেছেন কল করার সুবিধা,এখন যারা এই সফটওয়্যার টি ব্যবহার করেন তারা অবশ্যই জানেন একটি নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার পর এক বছর বিনামুল্যে ব্যবহার করতে পারবেন তারপর প্রতি বছরের জন্য এক ডলার করে দিতে হবে,যে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠা পাই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে 2014 সালে এক ঘোষনায় মার্ক জানিয়েছিলেন ফেসবুকের জন্যও বিল সিস্টেম চালু হচ্ছে কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় করে আর এটি করা হয়নি।

সম্প্রতি এই আলোচনা আবারো নতুনমাত্রা পেয়েছে খুব দ্রুতই ফেসবুকের প্রতিটি আইডির জন্য চালু হচ্ছে বিল,শুধু ফেসবুক আইডি নয় প্রতিটি ফেসবুকের ব্যক্তিগত ফ্যান পেজ অফিসিয়াল পেজ,বিজনেস পেজ এমনকি ভেরিফাইড পেজের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা বিল। শুরুতেই এই বিল সিস্টেম পরিক্ষামূলক ভাবে যুক্তরাস্ট্র এবার কানাডাতে চালু হবে এরপর পর্যায়ক্রমে সব দেশেই চালু হবে।

ওয়াটসআপে যেভাবে বিল দেওয়া যাই সেই একই ভাবে ফেসবুকেও বিল দেওয়া যাবে মাস্টারকার্ড,ক্রেডিট কার্ড,ফেসবুক কুপন কিংবা পেপালের মাধ্যমে। তবে অনেকের কাছেই বিল দেবার এইসব উপকরণ নেই সেই বিবেচনায় ফেসবুক কতৃর্পক্ষ বিশ্ব ব্যাপী ফেসবুক প্রিপেইড রিচার্জ কার্ড ছাড়ার ও চিন্তাভাবনা করবে। এখন দেখার বিষয় এই ঘোষণা কতটুকু বাস্তবায়ন হয় এবং ফেসবুকের ভবিষ্যৎ কোথায় যেয়ে দাড়াই।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close