অন্য পত্রিকা থেকে

সিলেটজুড়ে শো-ডাউন

ওয়েছ খছরু: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ঘরে বসে নেই সিলেটের রাজনৈতিক নেতারা। চষে বেড়াচ্ছেন পৌরসভা ময়দান। করছেন ভোট প্রার্থনা। শুধু সিলেট জেলার তিনটি পৌরসভায়ই নয় তারা ছুটে চলেছেন সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ভোটের মাঠ। তাদের প্রচারণাকে শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বিরাজ করছে আতঙ্কও। ইতিমধ্যে

ভোটের মাঠে ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা যে দিকেই যাচ্ছেন সে দিকেই বিশাল বহর যাচ্ছে। চলছে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনও। গতকাল সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন ময়দান চষে বেড়িয়েছেন বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা। তার সঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারাও এ দুটি পৌরসভায় প্রচারণা চালান। গতকাল দিনভর হবিগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

তিনি গতকাল হবিগঞ্জের তিনটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালান। রাতে তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়াসহ কয়েকটি পৌরসভায়। আজ তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জসহ কয়েকটি পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন। নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। শেষ মুহূর্তে সিলেটে ভোটের মাঠের প্রচারণায় এগিয়ে গেছে বিএনপি। বিএনপি প্রচারণার শুরু থেকেই টিমওয়ার্কিং করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ কারণে গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট পৌরসভায় পৃথক পৃথক দল গঠন করা হয়েছে।

গতকাল জকিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক বদরুল হক বাদলের পক্ষে এক যোগে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রচারণাকালে লুনার সঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলদার হোসেন সেলিম, আবদুর রাজ্জাক, ইমরান আহমদ চৌধুরী সিনিয়র নেতারা উঠোন বৈঠকে অংশ নেন।

এ সময় বিএনপি নেতারা কয়েকদিন দলে বিভক্ত হয়ে গোটা পৌরসভা চষে বেড়ান। বিকাল ৩টার মধ্যে তারা জকিগঞ্জ প্রচারণা শেষ করে গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় চলে আসেন। সেখানে তারা বিএনপির প্রার্থী শাহীনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সময় তাহসিনা রুশদী লুনা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে সবাইকে ভোটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। এদিকে, কানাইঘাটেও জেলা বিএনপির একটি টিম ধানের শীষের প্রার্থী রহিমউদ্দিন ভরসার সঙ্গে প্রচারণা চালান।

সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ জানিয়েছেন, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। এ কারণে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে জয়জয়কার চলছে। কারচুরি না হলে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, সিলেটে বেশ কয়েকটি পৌরসভায় গতকাল শেষ বারের মতো শোডাউন দিয়েছেন প্রার্থীরা। আর এই শোডাউনে বিএনপির চেয়ে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ ঘরোয়া বৈঠকের নামে বিশাল নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলুর পক্ষে শোডাউন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী জানিয়েছেন, গোলাগঞ্জের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে জেগে উঠেছে। পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে উৎসবভাব বিরাজ করছে। এ অবস্থায় পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গোলাপগঞ্জের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন। গতকাল তিনি পৌরসভার ১০টি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মানুষ এবার সতর্ক। যোগ্য প্রার্থীকেই তারা নির্বাচিত করবেন।

এদিকে, সিলেট মহানগরের সদস্য সচিব ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম গতকাল হবিগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সময় কারান্তরীণ জিকে গৌছকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির শাহীন, আজমল বক্ত সাদেক, সৈয়দ মঈন উদ্দিন সুহেল, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক লোকমান আহমদ, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুফিক আহমদ প্রমুখ।

২৭ এর মধ্যে ২৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ : সিলেটের তিনটি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্র ২৭টি। এর মধ্যে ২৫টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণের পাশাপাশি আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক করতে আজ রাত থেকেই গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও কানাইঘাট পৌরসভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অতীতের রেকর্ড বিবেচনা করে সব কয়টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জকিগঞ্জ খানার ওসি মো. শফিকুর রহমান জানান, এ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে সব কয়টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কানাইঘাট থানার ওসি হুমায়ুন কবীরও জানিয়েছেন, কানাইঘাট পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির বিবৃতি: পৌরসভা নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে শামিল হতে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ-কানাইঘাট-জকিগঞ্জ পৌরসভাসহ দেশের সকল পৌরসভায় ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

গতকাল বিবৃতিতে সিলেট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী দুঃশাসন, খুন-গুম, নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের জনতা আজ ঐক্যবদ্ধ। সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার কোনো ষড়যন্ত্র দেশপ্রেমিক জনতা বরদাশত করবে না।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন, কানাইঘাট পৌরসভায় রহিম উদ্দিন ভরসা ও জকিগঞ্জ পৌরসভায় বদরুল হক বাদলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার মাধ্যমে আওয়ামী জুলুম নিপীড়নের বিরুদ্ধে রায় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তারা। বিবৃতি প্রদান করেন, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল গাফফার, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close