অন্য পত্রিকা থেকে

২০১৫ সালের আলোড়িত ঘটনা

তানভীর সোহেল: সদ্য বিদায় নেওয়া বছরটি ঘটনাবহুল। এ বছর আশাব্যঞ্জক অনেক ভালো খবর যেমন ছিল, তেমনি মন খারাপ করে দেওয়ার মতো খবরও কম ছিল না। নানা কারণে তাই ২০১৫ সালটি দেশের মানুষের কাছে ছিল আলোচিত-সমালোচিত।

১. ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য: বছরটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল দারুণ একটি বছর। এ বছর দেশের ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক সাফল্য দেখা গেছে। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার মুস্তাফিজ ছিলেন সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ব্যাটসম্যানকে বোকা বানানো তাঁর ‘কাটারের’ সুখ্যাতি ছিল মুখে মুখে। এ বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে দেশের মাটিতে হারিয়েছে।

গত বছর বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সাফল্যও ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা এবার নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেবেন।

বলা যায়, সদ্য বিদায় নেওয়া ২০১৫ সাল ক্রিকেটের জন্য ছিল ধারাবাহিক বিজয়ের বছর।

২. পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন: বছর শেষে পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করা যায়। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই সেতুটি। তা ছাড়া দেশের অর্থনীতির উন্নতিতে সেতুটি ভূমিকা রাখবে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক নানা টালবাহানা করার পর সরকার এই সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করছে। ২০১৮ সালে সেতুর কাজ শেষ হবে। ‘আমরাও পারি’ বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে—এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে দেশের মানুষ।

৩. জিনিসপত্রের দাম ছিল নাগালের মধ্যে: গত বছর জিনিসপত্রের দাম ছিল মানুষের নাগালের মধ্যে। বছর শেষেও এই ধারা অব্যাহত।

৪. প্রধানমন্ত্রীর দুটি স্বীকৃতি: ২০১৫ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুটি স্বীকৃতি পান; যা ছিল আলোচিত ঘটনা। জাতিসংঘ থেকে তিনি পান ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার। এ ছাড়া ওয়াশিংটনভিত্তিক সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’র বিশ্বের ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় নাম আসে শেখ হাসিনার। ওই তালিকায় ‘সিদ্ধান্ত প্রণেতা’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ জনের একজন ছিলেন তিনি।

৫. যুদ্ধাপরাধের বিচার: গত বছর অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাজা কার্যকরের ঘটনা। ওই বছরে শীর্ষ দুই অপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়। তা ছাড়া বিদায়ী বছরে বিচারকাজে বেশ গতি লক্ষ করা যায়।

৬. ছিটমহল বিনিময়: বিগত বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ছিটমহল বিনিময়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময় করা হয়। ৩১ জুলাই থেকে এই বিনিময় কার্যকর হয়। বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তির আলোকে ভারতের লোকসভায় দেশটির সংবিধান সংশোধন হয়।

সমালোচিত ঘটনা:

১. পেট্রলবোমা, নাশকতা: গত বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের ইসলামীর নাশকতা, পেট্রলবোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ, দেশব্যাপী অবরোধ সারা দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বার্ন ইউনিটে দুই শতাধিক মানুষের পোড়া শরীর আর তাদের আর্তনাদ দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি অনেকে। টানা তিন মাসের এই নাশকতা দেশে-দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়।

২. বালুর ট্রাক: ‘বালুর ট্রাক’ শব্দটি বহুল আলোচিত-সমালোচিত। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখতে কার্যালয়ের সামনের সড়কে বালুভর্তি ট্রাক ফেলে রাখা হয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে বালুর ট্রাক রাখা সমালোচনার জন্ম দেয়।

৩. জঙ্গি হামলা: বছরের শেষ তিন মাসে বাংলাদেশে বেশ কিছু জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। একের পর এক ঘটা এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ভীতি তৈরি হয়। মসজিদ, মন্দির, শিয়া ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর জঙ্গিরা বেশ কয়েকটি হামলা চালায়। এ ছাড়া বিদেশি নাগরিক ও ব্লগারদের ওপরও হামলা করে জঙ্গিরা। ধর্মযাজকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।

৪. বিদেশি নাগরিক হত্যা: গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালীয় নাগরিককে হত্যা করা হয়। এরপর রংপুরে একজন জাপানি নাগরিক হত্যা হন। এ ছাড়া দিনাজপুরে একজন ইতালীয় নাগরিককে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা অতীতে আর দেখা যায়নি।

৫. ব্লগার ও প্রকাশক হত্যা: অন্তত পাঁচজন ব্লগার ও একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ড জঙ্গি সংগঠনের করা বলে পুলিশ মনে করছে। অবশ্য কয়েকটি ঘটনায় জঙ্গিরা দায় স্বীকারও করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খুন হন বিজ্ঞানলেখক অভিজিৎ রায়। সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর খুন হন জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন। হামলার স্বীকার হন আরও একজন প্রকাশক ব্লগার।

৬. বছরের শেষ দিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর এই বক্তব্য সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একটি ‘সেটেলড’ ইস্যু নিয়ে বিতর্ক তোলায় খালেদা জিয়ার বক্তব্যের নিন্দা জানায় ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close