জাতীয়

সারা দেশ কাঁপিয়ে দিল প্রচণ্ড ভূমিকম্পে: নিহত ৫, আহত শতাধিক

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। আজ ভোর ৫টা ৬ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। মুহুর্তেই কেঁপে উঠে গোটা দেশে। বেশ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় কম্পন। আতঙ্কে মারা গেছেন ৫জন। সারাদেশে আহত হয়েছেন শতাধিক।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) মানচিত্রে সোমবার ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইম্ফলে আঘাত হানা ভূমিকম্পের অবস্থান। ছবি: ইউএসজিএসশীতের শান্ত ভোর। কারও ঘুম ভেঙেছে, কেউবা তখনো ঘুমিয়ে। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি। যাঁরা জেগে ছিলেন, তাঁদের ঠাওরাতে সময় লাগে না—কী ঘটেছে। ঘুমিয়ে থাকা অনেকেই ঝাঁকুনিতে জেগে ওঠেন ধড়মড়িয়ে। তারপর ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এই আতঙ্কের নাম ভূমিকম্প।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা সাত মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ সময় আতঙ্কে অনেকে হুড়মুড়িয়ে বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ঢাকার জুরাইনে হুড়োহুড়ির মধ্যে আতঙ্কে আতিকুর রহমান আতিক (২৭) নামের এক যুবকরে মৃত্যু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তি মেহেরচন্ডি এলাকায় নিজ বাড়িতে বঙ্গবন্ধু হলের প্রধান বাবুর্চি খলিলুর রহমান নিহত হন। ভারতের নিকটবর্তী লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কদুরবাজার এলাকায় আব্দুল কুদ্দুস (৪০) আতঙ্কে মারা যান। ওই এলাকায় আহত হন ৩জন।

এছাড়া ভূমিকম্পের আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়ে ঢাকা ও সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুরে। রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, নোয়াখালী, বরিশাল, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ভূকম্পনের খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উৎপত্তিস্থলে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইম্ফল থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকা।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, ভারতের স্থানীয় সময় ভোর চারটা ৩৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় ভোর চারটা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। উৎপত্তিস্থল ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে টামেংলং জেলার নোনি গ্রামে।

ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ৩৫৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, এ ভয়াবহ ভুমিকম্পে আতংক ছড়িয়ে পড়ে ওপারে ভারতের ডাউকি শহর ও বাংলাদেশের সিলেটের জাফলংয়ে। মুহুর্তেই কেপে ওঠে দুই দেশের স্পর্ষকাতর এ দুস্থানের সবকটি বাড়িঘরসহ সকল স্থাপনা। ঘুমন্ত আতংকিত হাজার হাজার মানুষ মুহুর্তেই দিক বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। নেমে আসে রাস্তায়। আতংকিত মানুষের আর্ত চিৎকার চেচামেচিতে দু-দেশের সীমানা প্রাচিরের ব্যবধান ক্ষনিকের জন্য মুছে দেয়। উভয় দেশের বসবাসরতরা মোবাইলফোনসহ সামাজিক গণ যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পর ক্ষয়ক্ষতির খবর নিতে থাকেন ।

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, শক্তিশালী ভূমিকম্পে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাও কেঁপে উঠে। ভোর ৫টা ৮ মিনিটের দিকে পরপর দুবার হঠাৎ করেই কেঁপে উঠে সব কিছু। গভীর ঘুমে থাকা মানুষজন আতঙ্কে জেগে উঠে ছোটাছুটি করতে থাকে। রাস্তায় নেমে আসে মানুষজন। অনেকেই মনে করে ডাকাত পড়েছে। মানুষের মাঝে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ৮০ বছরের বৃদ্ধ আসলাম উদ্দীন জানিয়েছেন, আমার জীবনে এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখিনি। সব কিছুই খুব জোরে জোরে কাঁপতে থাকে। কাঁপার দুলানি থাকে প্রায় ২ মিনিট। বড় ও পুরাতন কয়েকটি বিল্ডিং এ ফাটল দেখা দেয়।

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের আতঙ্কে বাসা-বাড়ি থেকে তাড়াহুড়া করে বেরুতে থাকে মানুষ। আশ্রয় নিয়েছিল নিরাপদ স্থানে।

এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অধিকাংশ রাজ্যে চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রচ- ঝাঁকুনিতে ইম্ফলের বিভিন্ন ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি ও ছাদ ধসে পড়েছে। মনিপুরের অনেকে এলাকায় টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ভূমিকম্পের সময় রিখটার স্কেলে ঢাকায় কম্পনের তীব্রতা ছিল চারের বেশি। মাটির খুব বেশি গভীরে না হওয়ায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে। এ ধরনের ভূমিকম্পকে ‘শ্যালো ফোকাস আর্থকোয়েক’ বলা হয়।

ভূমিকম্পে ভারত ও বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের মধ্যে এখনো বিরাজ করছে আতঙ্ক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close