Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

ফক্স নিউজের বিতর্ক বয়কট করলেন ট্রাম্প: বিতর্কে না থেকেও তুলোধুনা ট্রাম্প

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ডেময়েনে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সপ্তমবারের মতো বিতর্ক করেছেন সাত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়াতে ফক্স নিউজের টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেননি মুসলিম বিদ্বেষী রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। টিভি কর্তৃপক্ষ বিতর্কের উপস্থাপক মেগান কেলিকে সরিয়ে নিতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প বিতর্কে অংশ নেননি। খবর বিবিসির।

ক্স নিউজ আয়োজিত এই বিতর্কে অনুপস্থিত ছিলেন রিপাবলিকান দলের প্রধান প্রার্থী, ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্সের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বিতর্ক বয়কট করেন। ট্রাম্পের মতে মেগান কেলি একজন একপেশে মনোভাবাপন্ন নারী। এ কারণে তিনি ফক্স কর্তৃপক্ষকে কেলিকে সরিয়ে বিতর্কে অন্য উপস্থাপক দেবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

গতকাল বিতর্ক মঞ্চে না থাকলেও সাত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর প্রত্যেকের মুখে ছিল ট্রাম্পের নাম। বিতর্কের শুরুতেই ট্রাম্পকে ঠাট্টা করে সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, আমি একজন উন্মাদ, বাকি যারা এই মঞ্চে রয়েছেন, তারা প্রত্যেকে মূর্খ, স্থূলকায় ও কদাকার। এ সময় হেসে ওঠেন উপস্থিত সবাই। এর মধ্যে ক্রুজ মন্তব্য করেন, আমাদের বিতর্কের ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্বটি শেষ হলো। বিতর্কে উপস্থিত আইওয়াবাসীদের ধন্যবাদ জানান ক্রুজ।

সে যাই হোক, ট্রাম্প না আসলেও রিপাবলিকান দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফক্স নিউজের ওই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। মুসলিম বিদ্বেষী বেন কারসনও এসেছিলেন সেখানে। ট্রাম্প না আসায় তাকে নিয়ে কৌতুক করেন অন্য সকল রিপাবলিকানরা প্রার্থীরা।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই মঞ্চে আমি এক পাগল। আর আমরা সবাই বেকুব। আমরা দেখতে মোটা ও কুৎসিত। আর বেন কারসন একজন ভয়ানক শল্য চিকিৎসক। এ কারণেই ট্রাম্প এখানে আসেনি।

ফ্লোরিডার গভর্নর জেব বুশ বলেন, ট্রাম্প না আসায় আমি টেডি বিয়ারকে মিস করছি। কারণ ট্রাম্প আমার কাছে টেডি বিয়ার। এভাবে ট্রাম্পকে নিয়ে হাসি ঠাট্টায় মেতে ওঠেন ফক্স নিউজের বিতর্কে আসা রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এদিকে তাদের বিতর্কের অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাহত সেনা সদস্যদের নিয়ে র‌্যালি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিতর্কে ট্রাম্প তাঁর দলের অন্যান্য প্রার্থীকে নানাভাবে বিদ্রূপ করেছেন। এতে দর্শকদের বাহবা পেয়েছেন। কিন্তু দলীয় প্রার্থীদের বিরাগভাজন হয়েছেন। এবারের বিতর্ক বয়কট করায় দলীয় প্রার্থীরা তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা শুরু করেন। একাধিক রিপাবলিকান প্রার্থী পরিহাস করে বলেছেন, ট্রাম্প যদি সাংবাদিক মেগান কেলির সঙ্গে বিতর্কে নামতে গররাজি হন, তাহলে তিনি রাশিয়ার পুতিন বা আইসিসের সঙ্গে পাঞ্জা লড়বেন কীভাবে?

এর আগে প্রতিটি বিতর্কে কোনো অর্থপূর্ণ বক্তব্য না দিয়েও ট্রাম্প ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। গতকালের বিতর্কে তিনি না থাকায় জমজমাট ভাবটা ছিল না। বিতর্কে অভিবাসন থেকে সন্ত্রাসের মোকাবিলা, ওবামার স্বাস্থ্যবিমা আইন বাতিল, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বিরোধিতা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রার্থীরা খোলামেলা আলোচনা করেন।

জাতীয় জনমত গণনায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন টেড ক্রুজ। তাঁকে সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকার জন্য লড়ছেন সিনেটর মার্কো রুবিও। অভিবাসন প্রশ্নে দ্বিচারিতার প্রসঙ্গ তুলে রুবিও ক্রুজকে সরাসরি মিথ্যাবাদী বলে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘তোমার পুরো নির্বাচন প্রচারণাই মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে।

প্রচারণায় পিছিয়ে থাকা ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রুবিও এর বিরুদ্ধে টিভি বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছেন। তাঁকে হটিয়ে অন্ততপক্ষে তৃতীয় স্থানে থাকার জন্য তাঁর এই রণকৌশল। গতকালের বিতর্কেও তিনি সুযোগ পেয়ে ঠুকলেন রুবিও-কে।

তিনি মনে করিয়ে দিলেন, এখন অন্য কথা বললেও একসময় রুবিও অবৈধ অভিবাসীদের ঢালাও নাগরিকত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। রক্ষণশীলদের খুশি করতেই তাঁর এই উল্টো সুর। সে কথা শুনে রুবিও অভিযোগ আনলেন, নিজের অবস্থান তো তুমিও বদল করেছ।

ট্রাম্পের অভিযোগ, এর আগে অনুষ্ঠিত বিতর্কে অন্যতম সঞ্চালক মেগান কেলি তাঁকে তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছেন। ট্রাম্প সে সময় শুধু বিতর্ক বয়কটই করেননি বিতর্ক কেন্দ্র থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে এক পাল্টা সভাও করেছিলেন।

সিনেটর ক্রুজ ও সিনেটর রুবিও এর মধ্যে অভিবাসন ও অন্যান্য প্রশ্নে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা ঠান্ডা মাথা শোনেন নিউজার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি। পরে বিতর্কে নাক গলিয়ে তিনি বলেন, এরা দুজন যেভাবে ওয়াশিংটনের রাজনীতিকদের ভাষায় কথা বলছে, তা বোঝার জন্য এখন দরকার একটি বিশেষ অভিধান।

এই বিতর্ক এবং ট্রাম্পের বয়কট আইওয়ার ভোটে কী প্রভাব ফেলবে, সে কথা আগাম বলা কঠিন। জনমত গণনায় জাতীয়ভাবে ট্রাম্প অন্য সব রিপাবলিকান প্রার্থী থেকে এগিয়ে থাকলেও আইওয়াতে তিনি সিনেটর ক্রুজের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে লিপ্ত। বেশির ভাগ ভাষ্যকারের ধারণা, বিতর্কে অংশ না নিয়ে ট্রাম্প যে জুয়া খেললেন, তাতে তাঁর ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রাক-নির্বাচনী ভোটের এত কাছে এসে বিতর্ক বর্জন করে কেউ সে ভোটে বিজয়ী হয়েছেন তার কোনো উদাহরণ নেই।

বিতর্ক বয়কটের একমাত্র উদাহরণ হলেন রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৮০ সালে আইওয়ার প্রাক-নির্বাচনী ভোটের আগে রোনাল্ড রিগ্যান রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই ভোটে তিনি জর্জ বুশ (সিনিয়র) এর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন তিনিই পেয়েছিলেন।

বস্তুত, প্রথম সারির প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান সংহত করতে বিতর্ক অনুষ্ঠানের পক্ষে। যেমন, ডেমোক্রেটিক দলের প্রধান প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন আইওয়া ভোটের আগে আরও একটি বিতর্কের প্রস্তাব করেছেন। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাচনী কমিটি এ নিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close