রাজনীতি

নির্বাচন হবে তারেকের পদ সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেও

রাজনীতি ডেস্ক: দলের আসন্ন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ‘চেয়ারপারসন’ পদের পাশাপাশি ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ পদেও নির্বাচন করতে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে বিএনপি। গতকাল দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারপারসন নির্বাচনের সঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য দলের চেয়ারপারসনকে অনুরোধ করা হয়। বিএনপির গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনকে সেই অধিকার দেয়া হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের গঠনতন্ত্রের ১৯ ‘ক’ ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী অনুমোদন করেছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে কমিশনের চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। সেই সঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন-আল রশিদকে সদস্য ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দলের বিদ্যমান গঠনতন্ত্রে কেবল বিএনপি চেয়ারম্যান অথবা চেয়ারপারসন পদে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। সংশোধিত গঠনতন্ত্রের আলোকে এবার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৮ই ডিসেম্বের অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নামে নতুন পদ সৃষ্টি করে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে ওই পদে কাউন্সিলররা সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত করেছিলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, ১৯শে মার্চের জাতীয় কাউন্সিল সফল করতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি এবং ১১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব উপ-কমিটির আহ্বায়ক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হবেন। উপ-কমিটিগুলোর মধ্যে- ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভ্যর্থনা উপকমিটি, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামকে ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন উপকমিটি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহকে শৃঙ্খলা ও সেবা উপকমিটি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ব্যবস্থাপনা ও প্রচার উপকমিটি, নজরুল ইসলাম খানকে ড্রাফটিং উপকমিটি, প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উপকমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে প্রকাশনা উপকমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে চিকিৎসা সেবা উপকমিটি, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দপ্তর ও যোগাযোগ উপকমিটি, গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়েছে। তবে অর্থ ও আপ্যায়ন উপকমিটি দুটির আহ্বায়ক এখন চূড়ান্ত হয়নি।

মির্জা আলমগীর বলেন, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটি মনে করে, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী, ত্যাগী, আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের একটি গভীর চক্রান্ত। জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের জন্য যিনি দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন তার বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দায়ের দেশকে রাজনীতিশূন্য করার আর একটি ষড়যন্ত্র।

মির্জা আলমগীর বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের সর্বজনপ্রিয় নেতা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার আর একটি অপচেষ্টা বলে এই সভা মনে করেছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান অনৈতিক, অনির্বাচিত সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে জনগণের দৃষ্টি গণতন্ত্রের মূল সংকট থেকে দূরে রাখার জন্য, জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সভা বিশ্বাস করেছে। সভা অবিলম্বে এই মিথ্যা, বানোয়াট, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটক বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি স্থায়ী কমিটি। সভায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, এমএ সালামসহ সব আটক সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়। সভা মনে করে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার অংশ হিসেবে এটি একটি গভীর চক্রান্ত। আমরা অবিলম্বে এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯শে মার্চ আমাদের জাতীয় কাউন্সিল হবে। ইতিমধ্যে আমরা তারিখ ঘোষণা করেছি। আমরা তিন জায়গায় ভেন্যু চেয়েছি। এখনও আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি। আমরা আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারবো। ভেন্যু চূড়ান্ত হলে যথাসময়ে আমরা তা জানিয়ে দেবো। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে কাউন্সিলের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে তিনি বলেন, কাউন্সিলের কোনো ভেন্যুই এখনও নির্ধারিত হয়নি। চূড়ান্ত হলে তা জানানো হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠক নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট হয়েছে, যার সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের মিল নেই। এটি দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে না বলা পর্যন্ত রিপোর্টগুলো না করা সবার জন্যই ভালো।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, কাজী আবুল বাশার, হেলেন জেরিন খান, সাইমুম বেগম, আবুল কালাম আজাদ ও ফোরকান-ই আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close