ইউরোপ জুড়ে

ব্রাসেলসসে ইইউ সম্মেলন: কী পাচ্ছেন ক্যামেরন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ব্রাসেলসে দুই দিন ধরে আলোচনার পর গতকাল শুক্রবার রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সংস্কার নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে জোটে বেশ কিছু সংস্কার আনা হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এই ফাঁপা চুক্তিতে সামান্য কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, জোটের সংস্কার নিয়ে ইইউর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি যুক্তরাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্য থাকবে কি না, তা এক গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্যকে জোটে ধরে রাখতে ইইউর নেতারা বিভিন্ন প্রস্তাব সংবলিত একটি প্যাকেজের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে রাজি হয়েছেন। যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে জোটটি।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক টুইটারে এক বার্তায় বলেছেন, চুক্তি অনুসারে ইইউ জোটে বেশ কিছু সংস্কার আসছে। নতুন চুক্তিতে ইইউ দেশগুলোর অভিবাসী শিশুদের সুযোগ-সুবিধা কমানো হয়েছে। এটি ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হবে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাও কমানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্য ২৮ দেশের এই জোটে এমন সব সংস্কার চায়, যা লন্ডনকে কিছু ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইইউ দেশগুলোর অভিবাসীদের আর্থিক ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা ছেঁটে ফেলা, ইইউর আরোপিত আইন না গ্রহণের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক জোটের বাইরের দেশগুলোর (অ-ইউরো) মুদ্রাকেও স্বীকৃতি দেওয়া ইত্যাদি। এসব বিষয়ে মতৈক্য হলে ক্যামেরন যুক্তরাজ্যবাসীকে গণভোটে ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষ নিতে বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই চুক্তিতে ক্যামেরনের কূটনৈতিক অর্জন কী, তা নিয়ে এর মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ ব্যাপারে বার্তা সংস্থা এএফপি যে বিশ্লেষণ করেছে—পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

অভিবাসন

কী চেয়েছেন: নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, কোনো দেশে যদি ইইউ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়, তাহলে নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রথম ৭ বছরের জন্য কল্যাণ ভাতা দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারবে যেকোনো দেশ। জনগণ এবং তাঁর দল কনজারভেটিভ পার্টির মধ্য থেকে আসা ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ক্যামেরন চান যুক্তরাজ্যে অভিবাসীরা আসুক এবং অভিবাসীদের মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে ও সরকারি ভর্তুকিতে বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে চার বছর অপেক্ষা করুক। তিনি শিশুর সুবিধা নিয়ে অভিবাসী এবং এরপর তাদের গোটা পরিবার বিদেশে পাঠানো বন্ধ করতে চেয়েছেন।

কী পাচ্ছেন: বিরোধিতা সত্ত্বেও পূর্ব ইউরোপের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য ক্যামেরন সুনির্দিষ্ট কিছু সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সাত বছর জন্য একটি ‘জরুরি বাধা বা প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করতে চান। তিনি একটি ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করতে চান, যা ইইউ অভিবাসীদের কিছু পরিমাণ অর্থ দিয়ে সাহায্য করে তাদের দেশে বসবাসকারী শিশুদের সেখানে স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যবস্থা করা হবে। অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের কল্যাণ ভাতা আপাতত বহাল থাকবে, ২০২০ সালের পর এটির কাটছাঁট হবে।

সার্বভৌম ক্ষমতা

কী চেয়েছেন: ব্রাসেলসের বৈঠকে ক্যামেরন উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ইইউর কারণে ব্রিটেনের কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর অত্যধিক চাপ তৈরির চর্চা হবে। তিনি এ জন্য ইইউর প্রকল্পের অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ‘ইউনিয়ন’ করতে চান যার ‘আইনত বাধ্যতামূলক এবং অপরিবর্তনীয়’ হবে। তিনি ব্রাসেলসের বৈঠকে বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি আইনের মাধ্যমে একটি ভেটোর ক্ষমতা সম্পন্ন অনুমতি চান, যা অনেকটা ‘লাল কার্ড’ দেখানোর মতো হবে। সেখানে ক্যামেরন ইইউর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একটি ভর্তুকির নীতি গ্রহণ করা উচিত (যা একটি কোম্পানির মতো হবে) যেখানে প্রয়োজন মতো সময়ে তা ব্যবহার করা যাবে।

কী পাবেন: ক্যামেরন ইউনিয়নের ব্যাপাটি খুব কাছাকাছি যেতে চান। কিন্তু এটি এমন সুরক্ষিত চুক্তি নয় যে ব্রিটেন এই প্রতিশ্রুতি থেকে ভবিষ্যতে সরতে পারবে না। তিনি ওই ‘লাল কার্ড’ এর ব্যাপাটিও ইইউর ২৮ সদস্য রাষ্ট্রের মতোই খুব কঠোরভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। ভর্তুকির ক্ষেত্রে ক্যামেরন ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে নতুন একটি নীতি গ্রহণ করতে পারবেন।

অর্থনৈতিক সুশাসন

কী চেয়েছেন: ক্যামেরন নিশ্চিত করতে চান যে, ব্রিটেন ইউরোজোনের বাইরেই থাকবে। কারণ যুক্তরাজ্যে ও লন্ডন ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক একটি কেন্দ্র। তিনি চান, ইউতে একের অধিক মুদ্রা ব্যবস্থা থাক। আর এতে ইউরোজোনের বাইরের দেশগুলো বৈষম্যের স্বীকার হবে না।

কী পাবেন: ক্যামেরন ইউরোজোনের দেশগুলোর বৈষম্যের ব্যাপারে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পাবেন না। তিনি দাবি করছেন, এই প্রথমবারের মতো ইউ একের অধিক মুদ্রার ব্যাপারটি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু চুক্তির যে ভাষা তাতে ‘বিভিন্ন পক্ষগুলোর মধ্যে সহাবস্থান’ এর ব্যাপারটি অস্পষ্ট এবং ভাষা ভাষা। ইউ কমিশনের প্রধান জাঁ-ক্লদ জাঙ্কার বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইউরোজোনের সমস্যা নিয়ে লন্ডনকে ভেটো প্রদানের ক্ষমতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জাঁ-ক্লদ আরও বলেন, ‘চুক্তি প্রকাশিত হলেই বিষয়টি স্বচ্ছ কাচের মতো পরিষ্কার হয়ে।’

প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা

কী চেয়েছেন: ক্যামেরন ইইউ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ককে বলেছেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবন্ধকতাগুলো দুর করতে চান। তিনি চান পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহের বাধাগুলো দুর হয়ে অর্থনৈতিক ধারায় এগিয়ে যাক।

কী পাবেন: জাঁ-ক্লদ জাঙ্কার বলেছেন, ইইউ সমস্যাযুক্ত এলাকাগুলোতে একটি অগ্রাধিকারমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। ওই সব এলাকায় ‘প্রতিযোগিতা’ উন্নত করার জন্য একটি ‘কঠোর পদক্ষেপ’ গ্রহণের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close