বলিউড

স্যালুট দিয়ে জেল থেকে বেরোলেন সঞ্জয় দত্ত

বিনোদন ডেস্ক: দীর্ঘকায় শরীরটা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছিল কারাগারের আঙিনার বাইরের দিকে। বহুদিনের ক্লান্তি, মানসিক চাপ নাকি মুক্তির চাপা আনন্দ? সঞ্জয় যেন মুখটাই তুলতে পারছিলেন না। হঠাৎ করেই পেছন ঘুরে সটান দাঁড়িয়ে গেলেন, স্যালুট করলেন জাতীয় পতাকার উদ্দেশে।

তারপর কাঁধের বিশালাকায় ব্যাগটা এক ঝটকায় তুলে নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলেন সামনের দিকে। তারপরই কারাগারের প্রধান ফটক থেকে বেরিয়ে এলেন সঞ্জয় দত্ত। অবশেষে আজ থেকে তিনি মুক্ত।

বলিউড স্টার সঞ্জয় দত্ত বৃহস্পতিবার যখন পুনের কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন তাঁর ঝুলিতে ছিল কাগজের ব্যাগ তৈরি আর রেডিও ডিস্ক জকি হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা। কারণ এখানে কাগজের ব্যাগ বা ঠোঙ্গা তৈরি করে তিনি আয় করেছেন প্রতিদিন ৪৫ রূপি। কারাগারের রেডিওতে একজন উপস্থাপক হিসাবেও তিনি কাজ করেছেন।

পাঁচ বছরের জেল। তার মধ্যে তারকাখ্যাতির (!) সুবাদে প্যারোলে ছুটি পাওয়া আড়াইশ দিনের ছুটি। যা-ই হোক, জেল কিন্তু ঠিকই খাটতে হয়েছে সঞ্জয়কে। জেলখানার সঙ্গে তাঁর এই সখ্য আজকের নয়, বহুদিনের। মুম্বাই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে অনেক সময়ই তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেগুলোর প্রমাণ যতটাই হোক আর না হোক, তার ঝক্কি তো তাঁকে পোহাতে হয়েছেই। জেলযাপন এর অন্যতম অংশ।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পুনের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় সঞ্জয় দত্তকে। নির্ধারিত মেয়াদের খানিক আগেই ভালো আচরণের প্রাপ্তিস্বরূপ ছাড়া পেয়েছেন তিনি। সঞ্জয়ের বের হয়ে আসার সময়টুকুও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, কারণ এটি সঞ্জয়ের ওপরে নির্মিতব্য বায়োপিকে ব্যবহারের চিন্তা করেছেন তাঁর বন্ধু ও প্রখ্যাত পরিচালক রাজকুমার হিরানি। রাজকুমার নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তিনিই সঞ্জয়কে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন বিমানবন্দরের দিকে।

মুক্তির পর ছেঁকে ধরা গণমাধ্যমকর্মীদের অজস্র প্রশ্নের জবাব এক কথাতেই উত্তর দিয়ে দিয়েছেন সঞ্জয়, বন্ধুগণ, মুক্তির পথ কখনোই সহজ নয়! সেই ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোমা বিস্ফোরণের মামলা, তখন থেকে অভিযোগ, জেল ২৩ বছর পর মিলল চূড়ান্ত নিষ্কৃতি। মুক্তির পথ যে কখনোই সহজ নয়, তা সঞ্জয়ের মতো কয়জনই বা বুঝবেন!

কারাগারে কিভাবে দিন কাটাতেন সঞ্জয় দত্ত?

১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোমা হামলার ঘটনার পর, হামলাকারীর কাজ থেকে অবৈধ অস্ত্র কেনার অভিযোগে মুন্নাভাই’ মি. দত্তর সাজা হয়। যদিও তার দাবি, হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার কারণে নিজের পরিবারকে বাঁচাতেই তিনি ওই অস্ত্রটি কিনেছিলেন।

তার পাঁচবছরের সাজা হলেও, ভালো ব্যবহারের কারণে ১৪৪দিনের সাজা কমে যায়। ২০১৩ সালে তাকে পুনের ওই কারাগারে তার কারাভোগ শেষ করার জন্য পাঠানো হয়। যদিও অনেকে দাবি, সেলেব্রিটি হওয়ার কারণে তিনি অনেক বেশি প্যারোল ভোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার তিনি সেই সাজা ভোগ শেষে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু কেমন ছিল তার কারাগারের দিনগুলো?

কারাগারে মি. দত্ত সবচেয়ে নিরাপত্তার ওয়ার্ড, ‘ফ্যান্সি ওয়ার্ডে’ আট ফুট বাই দশ ফুটের একটি সেলে বাস করতেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের সেলগুলো ছিল ঠিক পাশেই। তাকে কারাবন্দীদের পোশাকই তাকে পড়তে হতো।তার কারাগারের বাইরে একটি ছোট বাগান ছিল, নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরবন্দি হয়ে সেখানে তিনি হাঁটাচলা করতে পারবেন।

একজন কারাবন্দী জানিয়েছেন, তাকে কারাগারে সবাই ‘বাবা’ বলে ডাকতো। কারাগারে তিনি অনেক বই পড়তেন। লাইব্রেরী থেকে প্রতি সপ্তাহে তিনি দুইটি বই আনতেন।

সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠার কিছু পর কারারক্ষীরা তার কাগজের ব্যাগ বানানোর জিনিসপত্র নিয়ে আসতো। নিউজ পেপার কেটে কেটে তিনি ব্যাগ বানাতেন। এতে প্রতিদিন তার আয় হতো ৪৫ রুপি। দুপুরে তাকে কারাগারের অভ্যন্তরীণ রেডিও কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তিনি রেডিও জকি হিসাবে একটি প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করতেন। দুপুরের খাবারের পরও তিনি রেডিওতে কাজ করতেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাতের খাবার খেয়ে ৮টার মধ্যে তাকে নিজের সেলে ঢুকে পড়তে হতো। পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই তালাবন্ধ থাকতেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close