যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

হিলারি ও ট্রাম্পের প্রত্যাশিত জয়

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার, তথাকথিত ‘সুপার টুইসডে’-তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত প্রাইমারি ভোটে ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প নাটকীয় বিজয় অর্জনের মাধ্যমে যার যার দলে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একাধিক রাজ্যে জয় ছিনিয়ে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তাঁদের লড়াই জিইয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

যেমন আশা করা গিয়েছিল, প্রধানত আফ্রিকান-আমেরিকান ও মহিলাদের ভোটে হিলারি ক্লিনটন মোট সাতটি রাজ্যে সহজ বিজয় অর্জন করেছেন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স নিজের রাজ্য ভারমন্ট ছাড়াও আরও তিনটি রাজ্যে জয়ী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, ভারমন্ট ও ম্যাসাচুসেটসসহ মোট সাতটি রাজ্যে বিজয় অর্জন করে ট্রাম্প শুধু যে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, তাই নয়; রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন যে প্রায় অনিবার্য, সে কথা দলের শীর্ষ নেতাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে টেক্সাস ও ওকলাহোমাতে বিজয় অর্জন করে সিনেটর টেড ক্রুজ রিপাবলিকান এস্টাব্লিশমেন্টের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

পক্ষান্তরে সিনেটর রুবিও, যাকে অধিকাংশ রিপাবলিকান নেতা ও চাঁদা প্রদানকারীরা সবচেয়ে ‘নির্বাচনযোগ্য প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; শুধুমাত্র মিনেসোটায় সামান্য ব্যবধানে জয় লাভ করায় তাঁর সমর্থকেরা হতাশ হয়েছেন। তবে ভার্জিনিয়ায়, যেখানে রুবিও নির্বাচনের আগের তিন দিন জোর প্রচারণা চালান, ট্রাম্পের সঙ্গে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন। ১৫ মার্চ তাঁর নিজের রাজ্য ফ্লোরিডায় নির্বাচনে রুবিও জয়ী হলে জুলাই মাসে রিপাবলিকান দলের কনভেনশন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জ্বালানি সংগ্রহে সক্ষম হবেন।

রিপাবলিকান নেতৃত্ব যে তাঁর পরিবর্তে একজন বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন, এ কথা ট্রাম্পের অজানা নয়। সে কথা মাথা রেখে মায়ামিতে নিজের প্রচারণা কমিটির সদর দপ্তরে বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো রিপাবলিকান নেতৃত্বের প্রতি নরম মেজাজে বক্তব্য রাখেন। নিজেকে একজন সাধারণ বুদ্ধির রক্ষণশীল’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, সাধারণ নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের যোগ্যতা একমাত্র তাঁর রয়েছে। বলেন, ‘আমি রিপাবলিকান দলের ভিত্তি সম্প্রসারিত করতে পেরেছি। আমি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম, সবাই যদি আমার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে নভেম্বরে আমাদের বিজয় অনিবার্য।

একই আশা পোষণ করছেন টেড ক্রুজ। টেক্সাসে বিজয় অর্জনের পর সিএনএন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রিপাবলিকান দলে একমাত্র তিনিই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাস্ত করতে সক্ষম। এ পর্যন্ত তিনটি রাজ্যে বিজয় অর্জন করে সে প্রমাণ তিনি রেখেছেন। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, এখনই সময় রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জোট বাঁধা। এই জোট বাঁধতে ব্যর্থ হলে শুধু যে রিপাবলিকান দল বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে, তাই নয়; পুরো দেশ এক সংকটে নিক্ষিপ্ত হবে।

দক্ষিণের রাজ্যসমূহ বিশেষত ভার্জিনিয়া, আলাবামা, আরকানসাস, টেনেসি ও জর্জিয়াতে ট্রাম্পের বিজয় প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত ম্যাসাচুসেটসে তাঁর বিজয় সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ওহাইওর গভর্নর জন কেইসিক নিজের মধ্যপন্থী অবস্থানের কারণে আশা করেছিলেন, তিনি এই রাজ্যে ভালো করবেন। ভারমন্টেও তিনি ভালো ফল করার আশা করেছিলেন। কিন্তু তা সত্য প্রমাণিত হয়নি। এখানে তিনি ট্রাম্পের কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তবে তিনি হাল ছেড়ে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। ১৫ মার্চ পরবর্তী নির্বাচনে নিজের রাজ্য ওহাইওতে ও পার্শ্ববর্তী মিশিগানে বড় ধরনের জয় ছিনিয়ে এনে রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের কাছ নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সক্ষম হবেন বলে আশা করেন।

বাছাই পর্বের চলতি নির্বাচনের লক্ষ্য—মনোনয়ন অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডেলিগেট সংগ্রহ। রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন এক হাজার ২৩৭ জন ডেলেগেটের। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এই দলের প্রার্থীদের অর্জিত ডেলিগেটের সংখ্যা—ট্রাম্প (২৭৪), ক্রুজ (১৪৯), রুবিও (৮২), কেইসিক (২৫) ও কারসন (৮)।

অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রয়োজন দুই হাজার ৩৮৩ জন ডেলিগেটের। তার মধ্যে হিলারি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছেন এক হাজার ১ এবং স্যান্ডার্সের ঝুলিতে জুটেছে ৩৭১। হিলারি অবশ্য নিয়মিত ডেলিগেটের বাইরেও সুপার ডেলিগেট হিসেবে পরিচিত দলীয় নেতাদের জোর সমর্থন পেয়ে গেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close