অন্য পত্রিকা থেকে

বাংলাদেশের পরাজয় কিছু প্রশ্ন

সাজেদুল হক: আবেগ বনাম ক্লাস। শেষ পর্যন্ত ক্লাসেরই জয়। ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান রূপকথার গল্প নয়। দীর্ঘ সংগ্রাম আর মানুষের ভালোবাসায় বাংলাদেশ ক্রিকেট আজকের অবস্থানে। রোববার বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালের আগে এগিয়ে ছিল কে? কারা ছিল ফেভারিট? নিশ্চিতভাবেই দলটির নাম ছিল ভারত। কোয়ালিটি ক্রিকেটারের দিক থেকে বাংলাদেশ থেকে এখনও অনেকটাই এগিয়ে দলটি। আর সেটি টি-টোয়েন্টি হলে ব্যবধান আরও বেশি। শেষ পর্যন্ত ভারতেরই জয় হয়েছে। এবং এ জয় নিশ্চিতভাবেই কাউকে হতবাক করেনি। ভাগ্যও ভারতের পক্ষে ছিল। মহাগুরুত্বপূর্ণ টস জিতে খেলার অর্ধেকটাই জিতে যান ধোনি।

তবে ক্রিকেট সব সময় ফেভারিটের তত্ত্ব মেনে চলে না। তাই তো মানুষের এত উন্মাদনা। এত আবেগ। রবিবাসরীয় ফাইনালের আগে সারা বাংলাদেশ আবেগে ভাসলেও মাঠের খেলায় নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন টাইগাররা। এ ফাইনালের পর আমজনতা থেকে ক্রিকেটবোদ্ধা- সবার মাঝেই বেশ কিছু বিষয় আলোচিত হচ্ছে।

১. এ টুর্নামেন্টের পেস সহায়ক উইকেট দলগুলোর জন্য চমক হিসেবেই এসেছিল। দুনিয়ার অন্যতম সেরা ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ কেবল পেস সহায়ক উইকেটেই কিছুটা সমস্যায় পড়ে। কিন্তু রোববার খেলা হয়েছে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে, যা ভারতীয়দের জন্য ছিল আশীর্বাদ। এ ধরনের উইকেটে বিশ্বের যে কোনো বোলিংকেই ছারখার করে দিতে পারেন কোহেলি-ধোনিরা।

২. ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে চার পেসার নিয়ে খেলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবু হায়দার রনি ফাইনালের চাপ নিতে পারেননি।

৩. সবচেয়ে বেশি যা দুঃখজনক, খেলোয়াড়দের শরীরি ভাষায় জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়নি। প্রথম বল থেকেই তাদের মনে হয়েছে হাল ছেড়ে দেয়া নাবিক।

৪. বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও কাল প্রশ্ন রয়ে গেছে। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহর অসাধারণ একটি ইনিংসই বাংলাদেশকে খেলায় ফেরায়। অথচ ১৫ ওভার ম্যাচ বিবেচনায় তাকে যদি আরও কিছুটা আগে পাঠানো হতো তবে পুরো দৃশ্যপটই ভিন্ন হতে পারতো।

. সাব্বির-সাকিব খুবই বিরক্তিকর ব্যাটিং করেছেন। তারা এমনভাবে খেলেছেন যেন এটি ২০ ওভারের ম্যাচ। তাদের স্লো ব্যাটিং ছিল গতকালের ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট।

৬. ভারত ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরুর দিকে ম্যাচ বাংলাদেশের গ্রিপেই ছিল। রোহিত শর্মাকে আউট করার পাশাপাশি রানরেটও ছিল নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আবু হায়দার ও সাকিব আক্রমণে আসার পরই সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। এ সময় অধিনায়ক মাশরাফির অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজানোরও মূল্য দিতে হয় বাংলাদেশকে।

৭. এ ম্যাচে খুবই এলোমেলো বোলিং করেছেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ম্যাচ খেলার মতো সাকিব যথেষ্ট ফিট ছিলেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শেষ কথা: ফাইনাল বাদে পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচেও অসাধারণ ছিলেন মাহমুদুল্লাহ ও তাসকিন। সামনেই ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি। ভালো রসদ নিয়েই ভারত গেল বাংলাদেশ। তবে খেলা শেষ পর্যন্ত বিনোদনই। একটি জয় কিংবা পরাজয়ে কোনো কিছুই শেষ হয় না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close