অন্য পত্রিকা থেকে

বাংলাদেশ থেকে কার্গো বন্ধের নেপথ্যে কারণ

নিউজ ডেস্ক: ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের দেওয়া সব শর্ত পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।

বিমান এমডি সম্মত না হলে কিছুই হবে না

বিমান এমডি জামাল উদ্দিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সরাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর গুড লিষ্টে তার নাম। বিমানবাহিনীতে থাকা অবস্থায় যে সততার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, অবসর জীবনে এসে সেই সততায় নানা কারণে ভাটার টান দেখা দিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও অনেকে এখনো জামাল উদ্দিনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু ব্রিটিশ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা দল এবং তারও আগে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পরিদর্শক দল সকলেই বর্তমান এমডি সহ বিমান প্রশাসনের উপর বেজায় নাখোশ এবং হতাশ।এতো হতাশ যে, কার্গোর যাবতীয় সামগ্রি খোলামেলা অবস্থায় নিরাপত্তার কোন বালাই ছাড়া বাইরের লোক দ্বারা বিমানের এক দুজন কর্মকর্তার দায়সারা নির্দেশে কার্গো প্লেনে উঠিয়ে দেয়া হতো। যা পরিদর্শক দল সরে জমিনে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।

এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় বাইরের লোকদের দ্বারা কার্গোর প্যাকেটগ্রুলো বিমানে উঠানোর ঘটনা তাদের কাছে ছিলো বিশ্বের আশ্চর্য ঘটনাগুলোর অন্যতম। এতে যে কোন অঘটন ও ব্যান্ড আইটেম কার্গোতে চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল দেখে ব্রিটিশ নিরাপত্তা দল বিমান প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেন বিমানের নিজস্ব লোকজন ও নিরাপত্তা চেকিং এর মাধ্যমে যেন কার্গোর প্যাকেট ও মালামাল বিমানে উঠানো হয়। শুধু তাই নয়, মালামাল হাইজিন ও নিরাপদ অবস্থায় যেন সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়। সেজন্য বিমানের নিজস্ব লোকবল বিমান বন্দরে কার্গো সেকশন, ডিসপাচ সেকশনে নিয়োগ দেয়া হয়।

বিমান এমডি ব্রিটিশ নিরাপত্তা দলের এই সুপারিশ মানেননি। বিমানের নিজস্ব লোক বিমানবন্দর কার্গোতে পাঠাননি, নিয়োগও দেননি। অথবা তিনি তাদের সাথে একমত হতে পারেননি। কেন পারেননি- সেই ব্যাখ্যাও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই।

নিরাপত্তা পরিদর্শকদল বিমানমন্ত্রী, এবং ধীরের ধীরে অর্থমন্ত্রীর সাথেও দেখা করেন। উভয় মন্ত্রী নিরাপত্তা পরিদর্শক দলের সুপারিশ সমূহ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও বিমান এমডি জামাল উদ্দিন সরাসরি প্রাইম মিনিস্টারের লোক এই ক্ষমতার অজুহাতে কোন মন্ত্রীর কথাই তোড়াই কেয়ার করেন।

বিমান এমডি নিজের ইগো, ক্ষমতার দাপট আর বোধগম্য কারণেই কার্গো সেকশনে বিমানের নিরাপত্তা দল নিয়োগ দেবেননা বুঝাই যাচ্ছে। মন্ত্রী মেনন বলছেন ব্রিটিশ সরকারের সব দাবীই পূরণ করা হবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবী পূরণ করা যায়নি এমডির অনীহার কারণে। ব্রিটিশ সরকারের দাবী কিভাবে পূরণ করবেন- যেখানে এমডি রাজী নন- সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন সেখানেই।

প্রধানমন্ত্রী কি এই এমডিকে শেষ পর্যন্ত বাধ্য করবেন মানাতে ? উত্তর পাড়ার লোকদের ও বিশেষ বাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে সফট কর্ণার। বিশেষ ক্ষমতাও তাদের হাতে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় কি কিছু করবেন- কোটি কোটি পাউন্ডের ব্যবসা রক্ষা ও লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close