ইউরোপ জুড়ে

ইউরোপে হামলা চালাতে ৪০০ জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আইএস

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ইউরোপকে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিতে ৪০০ জঙ্গীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। এ সংগঠনটি ব্রাসেলস ও প্যারিস হামলার মতো আবারো ভয়াবহ হামলা করবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বলা হচ্ছে, এক্ষেত্রে তাদের হয়তো স্থান, কৌশল বা সময়ের শুধু পরিবর্তন হবে। এমন আশঙ্কার কথাই বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। জঙ্গি চক্রটি ইরাক এবং সিরিয়ায় ঘাঁটি গড়তে না পারায় ইউরোপে নিজেদের বিস্তারে তৎপর রয়েছে। ইউরোপিয়ান এবং ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এবং একজন ফরাসী আইনজ্ঞ জঙ্গি সংগঠনটির গতিবিধি নজরদারি করছেন অনেকদিন ধরে।

তারা বলছেন, জঙ্গিরা সিরিয়া, ইরাক এবং হয়তো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু অংশে তাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে । সেখানে জঙ্গিদের পশ্চিমা দেশগুলোতে আক্রমণের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গত ১৩ই নভেম্বরে প্যারিস সন্ত্রাসী হামলা হয়। এরপর সম্প্রতি পুলিশের কাছে ধরা পড়ে জঙ্গি দলের প্রধান সালাহ আবদেসলাম। পুলিশের কাছে সে স্বীকারোক্তিতে বলে যে, ৯০ জঙ্গিকে নিয়ে সে ইউরোপে প্রবেশ করে। তারা ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। তবে প্যারিস হামলার জন্য দায়ী ভয়ঙ্করতম সন্ত্রাসী সালাহ আবদেসলামকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করে ব্রাসেলসের গোয়েন্দা সংস্থা।

তাদের মতে, আবদেসলামের উদেশ্য সফল হয়নি । তারই ফলশ্রুতিতে ব্রাসেলস বিমানবন্দরে এবং পাতাল রেল স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩৫ জনের প্রাণহানি হয় এবং গুরুতর আহত হন ২৭০ জন। আবদেসলামকে গ্রেপ্তার করার পর চারদিনের মাথায় এ বোমা হামলা চালানো হয়। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। পালিয়ে যাওয়া জঙ্গির পরনে ছিল সাদা জ্যাকেট। ঘটনাস্থলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে এভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে বহির্গমনের দিকে যাচ্ছিল। এখন আতঙ্ক হচ্ছে পালিয়ে যাওয়া এই জঙ্গিকে নিয়ে। এখনও তার পরিচয় জানতে পারেনি বেলজিয়ামের পুলিশ। ফলে সে আরও হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের। তাই তার পরিচয় বের করতে পুলিশ আবদেসলামকে যেভাবে ধরেছে, সেই পথই অবলম্বন করবে বলে জানিয়েছে। প্যারিস হামলার পর আবদেসলাম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

এরপর সে ব্রাসেলসের মোলেনবিকে লুকিয়ে ছিল, যেখানে তার শৈশবের এবং প্রতিবেশী বন্ধুদের নিয়ে নতুন করে জিহাদী সংগঠন গড়ে তোলে। মোলেনবিক শহরটি জঙ্গিদের আস্তানা হিসাবে ব্যাপক পরিচিত। আবদেসলাম আরো সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনাই শুধু করছিল না, একই সঙ্গে সে সর্বত্র জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিল, যারা আত্মঘাতী যে কোন হামলার জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। প্যারিস হামলার মতো ব্রাসেলসে দুটি হামলা করেছে তারা। এ ধরনের আক্রমণের প্রশিক্ষণই তাদের দেয়া হয়েছে।

ফরাসি সিনেটর নাথালী গৌলেট জিহাদিদের কর্মকান্ডের অন্যতম একজন পর্যবেক্ষক। তিনি বলেন, আবদেসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জিহাদিরা জানতে পেরে ব্রাসেলসে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। আবদেসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জঙ্গিরা ভয় পায় নি । তাদের কর্মকান্ড কোন অবস্থাতেই বন্ধ হবে না এমনটি আশঙ্কা করছে বেলজিয়ামের সিনেটর নাথালী গৌলেট।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close