অন্য পত্রিকা থেকে

১৫ দিনের জামিনে মুক্ত সিসিকের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক

নিউজ ডেস্ক: মা আমেনা খাতুন গুরুতর অসুস্থ। ভর্তি সিলেটের মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে। কথা বলতে পারছেন না। চোখও বুজে আসছে। এই অবস্থায় ১৫ মাস কারাবাসের পর ১৫ দিনের জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সিলেটের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনি মুক্তি পান। তবে মুক্তি পেলেও নিজে অসুস্থ থাকার কারণে গতকাল রাত পর্যন্ত হাসপাতাল ছাড়েননি আরিফুল হক চৌধুরী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪৭ নম্বর কক্ষে তিনি অবস্থান করছিলেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আরিফুল হক চৌধুরী হাসপাতাল ছাড়বেন না। এ কারণে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সিলেট এসে পৌঁছতে পারেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা হামলার আসামি হয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। ২০১৪ সালের ২১শে ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের তৎকালীন মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন।

ফলে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় তিনি আসামি হন। চার্জশিট দাখিলের পর দিনই আরিফুল হকসহ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

এরপর ২০১৪ সালের ৩০শে ডিসেম্বর হবিগঞ্জ আদালতে জামিন নিতে হাজির হন আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দি হওয়ার পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রণালয় তাকে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মা আমেনা খাতুন বয়সের ভারে ন্যুব্জ।

এই অবস্থায় গেলো ১৫ মাস ধরে ছেলে আরিফুল হক চৌধুরী কারাবন্দি রয়েছেন। এই সময়ে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন আমেনা খাতুন। কারাবন্দি থাকায় আরিফুল হক চৌধুরী মায়ের সান্নিধ্যে আসতে পারেননি। মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চলতি মাসের ২২শে মার্চ হাইকোর্ট থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৫ দিনের জামিন পেয়েছিলেন আরিফ। তবে বিস্ফোরক মামলা থাকার কারণে তিনি মুক্তি পাননি। এ মামলায় রোববার সকাল ১১টায় হবিগঞ্জ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন আরিফুল হক চৌধুরী। হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাবুল্লাহ তার ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।

গতকাল সকালে আরিফুল হক চৌধুরীর জামিনের কাগজপত্র হবিগঞ্জ থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে পৌঁছে। ঢাকায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে নিজের অসুস্থতার কারণে কারারক্ষীদের হেফাজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪৭ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।

গতকাল বিকাল ৪টার দিকে তার কেবিনের সামনে থেকে কারারক্ষীদের সরিয়ে নেয়া হয়। এবং কারা কর্তৃপক্ষ আরিফুল হক চৌধুরীকেও জানিয়ে দিয়েছে জামিনের কথা। তিনি বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুতরাং জামিন পেলেও তিনি ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। রাতে হয়তো ডাক্তাররা তাকে দেখে পরামর্শ দেবেন। এরপর তাকে সিলেট নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হবে। মুক্তি পাওয়ার পর থেকে আরিফুল হক চৌধুরী তার মায়ের কাছে আসার জন্য ছটফট করছেন বলেও জানান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close