অন্য পত্রিকা থেকে

দোটানায় দুই মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: দণ্ডপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হক এখনও দোটানায়। তারা কি পদত্যাগ করবেন?

নাকি পদত্যাগ না করলেও চলবে। রোববার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত তারা দারুণভাবে পেরেশানিতে ছিলেন। এই পেরেশানির অন্যতম কারণ মন্ত্রিসভার বৈঠক। এই বৈঠকে কি তারা যোগ দেবেন?

এই যখন অবস্থা তখন তারা শীর্ষপর্যায়ের মনোভাব জানার চেষ্টা করেন। জানতে চান, কী করবেন? জবাবে নাকি বলা হয়- দেখছি। এরপর তারা বৈঠকে যোগ দেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অবশ্য তাদের নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

তকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তাদের সহকর্মীরা বলেছেন, পদত্যাগ দুই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেছেন, দুই মন্ত্রীর শপথ ভঙ্গ হয়নি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, দুই মন্ত্রী আদালত অবমাননা আইন লঙ্ঘন করেছেন। আদালত তাদের সাজা দিয়েছেন। কারাদণ্ডও সাজা, জরিমানাও সাজা। দুনিয়ার যে কোনো সভ্য দেশে মন্ত্রীরা এমন আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতেন।

রোববার সকাল সকালই খারাপ খবর পান দুই মন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট দণ্ড দেয়ায় তাদের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। দাবি উঠে তাদের অপসারণের। এ অবস্থায় গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। সকাল থেকেই সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি জামায়াতের হরতাল থাকায় সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

আবদুল গণি রোডে সচিবালয়ের সামনের অংশটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখানে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চতুর্থ তলায় মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকটি শুরু হয় সকাল ১১টায়। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দুই মন্ত্রীকে যে জরিমানা করা হয়েছে, তাতে সংবিধানের কোনো ধারা লঙ্ঘিত হয়নি।

সেই সঙ্গে তাদের শপথ ভঙ্গ হয়নি। এ কারণে তাদের পদত্যাগ করতে হবে না। তারা যদি পদত্যাগ করেন তা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, এটা সম্পূর্ণ তাদের নৈতিকতার বিষয়।

তবে সরকার ও দলের সর্বোচ্চ ফোরাম তাদের বক্তব্য ভালোভাবে নেয়নি। আমরা তো একেক সময় একেক কথা বলবো না। দেশের প্রধান বিচারপতি প্রতিষ্ঠান। তার ব্যাপারে কোনো সুইপিং রিমার্কস করা সঙ্গত নয়, সমীচীন নয়। আদালত নিয়ে মন্তব্যে দুই মন্ত্রীর শপথ ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের আইনমন্ত্রীকে দেখিয়ে দেন।

তিনি বলেন, শপথ থাকে কি থাকে না- আইনমন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। আমি আইন পড়িনি, কাজেই আইন সম্পর্কে জানি না। দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত কি না- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, আমার একজন কলিগের পদত্যাগ আমি দাবি করবো- এটা তো ঠিক না। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

একই প্রসঙ্গে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক মানবজমিনকে বলেন, দুই মন্ত্রীর জরিমানা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি। মন্ত্রিসভার নিয়মিত বিষয় নিয়ে কেবল আলোচনা হয়েছে।

এদিকে পদত্যাগ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যা করণীয় তাই করবো। এ ঘটনায় আপনি পদত্যাগ করবেন কিনা প্রশ্নে মন্ত্রী হাসতে হাসতে জানান এটা কি ধরনের প্রশ্ন?

এরপর আর কোনো উত্তর না দিয়েই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। অপরদিকে খাদ্যমন্ত্রী বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেন, আদালতের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও হাতে পাইনি।

রায় দেখে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর রায়ের আগে উচ্চ আদালত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য রাখেন এ দুই মন্ত্রী। তাদের বক্তব্যে আদালত অবমাননা হয়েছে মর্মে তাদের তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বক্তব্যের বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্ট।

২৭শে মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে তাদের সাত দিন কারাগারে থাকতে হবে।

এদিকে গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃত) কাউন্সিল আইন ২০১৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি গভর্নিং বডি সংযুক্তির মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

এ ছাড়া রেলওয়ে কনটেইনার পরিবহন সার্ভিসকে স্বতন্ত্র কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার জন্য কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম জানান, বৈঠকের শুরুতে আমেরিকায় একটি সংস্থার জরিপে বিশ্বের ৫০ জন মহান নেতার তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ম হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close