অন্য পত্রিকা থেকে

ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অর্থ ও কর ফাঁকির এক কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ধনী এবং ক্ষমতাশালীরা কিভাবে সম্পদকে আড়াল করতে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন তার গোপন ডকুমেন্ট ফাঁস করেছে পানামার আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা। এমন ডকুমেন্টের সংখ্যা এক কোটি ১৫ লাখ। এ তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান, ধনী ও বিভিন্ন পর্যায়ের শক্তিধর ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাজা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। তাদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১২ জন। এ ঘটনাকে পানামা পেপারস নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে ১৪৩ জন রাজনীতিক, তাদের পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠজনরা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, ইরাকের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আয়াদ আলাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ছেলে আলা মোবারক, আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্দুর ডেভিড গানলাউগসন।

এছাড়া এ সুবিধা নিয়েছেন বৃটেনের হাউজ অব লর্ডসের ৬ জন সদস্য, রক্ষণশীল দলের সাবেক তিনজন এমপি, বৃটিশ রাজনৈতিক দলগুলোতে ডোনেশন দেয়া কয়েক ডজন ডোনার। আছেন চীনের সুপ্রিম কাউন্সিল পলিটব্যুরোর বর্তমান ও সাবেক কমপক্ষে আট সদস্যের পরিবার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয়েছে, পানামাভিত্তিক আইনী প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা ১১ মিলিয়ন বা এক কোটি ১০ লাখ এমন ডকুমেন্ট হস্তান্তর করেছে জার্মান পত্রিকা সুধেটশে জেইটাং-এর কাছে। এ পত্রিকাটি পরে তা শেয়ার করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিতেটিভ জার্নালিস্টসের সঙ্গে। এসব ডকুমেন্ট এখন বিচার বিশ্লেষণ করছে বিবিসি প্যানোরমা, গার্ডিয়ান সহ ৭৮টি দেশ।

বলা হয়েছে, ওই আইনী প্রতিষ্ঠানটি তার ক্লায়েন্টদের অর্থ পাচার, অবরোধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে এবং ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। এমনটা তারা করে এসেছে ৪০ বছর। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন অন্যায় করার অভিযোগ তোলা হয় নি। ওই ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের বর্তমান ও সাবেক ৭২ রাষ্ট্রপ্রধান। এর মধ্যে আছেন স্বৈরশাসকরাও।

এতে দেখা যায়, এমন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তার পরিবার, লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।

এতে আরও দেখা গেছে, রাশিয়ার একটি ব্যাংক শত কোটি ডলার অর্থ পাচার করেছে। এ ব্যাংকি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের খুব ঘনিষ্ঠ। ব্যাংকটির নাম ব্যাংক রোসিয়া।

দেখা গেছে তারা উপকূলীয় বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে টাকা পাচার করেছে। এমন কোম্পানির মধ্যে দুটির মালিক হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। তার নাম সের্গেই রোলদুগিন। টিনেজ বয়স থেকেই পুতিনের সঙ্গে তার সখ্য।

ওইসব প্রকাশিত ডকুমেন্টে দেখা যায়, সন্দেহজনক বেশ কিছু চুক্তির মাধ্যমে রোলদুগিন শত কোটি ডলার মুনাফা করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close