অন্য পত্রিকা থেকে

টাকা উদ্ধারে ৭ সদস্যের টাস্কফোর্স

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ৭ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের মূল দায়িত্ব থাকবে চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উপায় নির্ধারণ করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ এ টাস্কফোর্সকে সব ধরনের সব ধরনের সহায়তা দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে গতকাল

এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ৭ সদস্যের এ আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’-এর মহাব্যবস্থাপককে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া এ কমিটির সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে টাস্কফোর্সের জন্য ছয় দফা কার্যপরিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- চুরিকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোর আইনগত অবস্থা পর্যালোচনা। যেসব দেশে চুরিকৃত অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা গ্রহণ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা। চুরিকৃত অর্থ ফেরত আনার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং প্রয়োজনে এসব সংস্থার সহায়তা গ্রহণ।

অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সময়ে সময়ে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত নির্দেশনা বা পরামর্শ পর্যলোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। এছাড়া প্রয়োজনে সব সদস্যের সম্মতিতে এক বা একাধিক সদস্য টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে কার্যপরিধিতে। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চুরির টাকা উদ্ধারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তরফে ৭ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গঠিত টাস্কফোর্সকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রক্ষিত অর্থ চুরি হয়। ফিলিপাইনের দৈনিক দ্য ইনকোয়েরারের হিসাব মতে, এর পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। প্রথম দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো কিছু না জানালেও বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জানাজানি হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ড. আতিউর রহমান। দায়িত্ব অববেহলার জন্য বরখাস্ত করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা ও মো. আবুল কাসেমকে। ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্টি একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close