দুনিয়া জুড়ে

আইএসের যুদ্ধে বাংলাদেশি জিহাদি আবু জানদাল নিহত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইসলামিক স্টেট আইএস এ যোগ দেয়া এক বাংলাদেশি যুদ্ধে মারা যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংগঠনটির মুখপত্র অনলাইন ম্যাগাজিন-দাবিক। দাবিকের সর্বশেষ সংখ্যায় নিহত ওই বাংলাদেশীর পরিচয়ে বলা হয়েছে।

তিনি বিডিআর বিদ্রোহে নিহত একজন সেনা কর্মকর্তার ছেলে। সিরিয়ায় যাওয়ার আগে তিনি দেশে জিহাদী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা করতেন।

আইএস-এ যোগ দিতে সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য তিনি জাল কাগজপত্র দিয়ে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যের এক সম্মেলনে যোগ দেন। সেখান থেকেই পরে সিরিয়া চলে যান। শেষ পর্যন্ত আইএস’র হয়ে এক যুদ্ধে প্রাণ হারান তিনি। ম্যাগাজিনটিতে বাংলাদেশি তরুণের নাম বলা হয়েছে আবু জানদাল আল বাঙালি।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যে গুটিকয়েক ব্যক্তি আইএসে যোগ দিতে সিরিয়া গিয়েছেন, তাদের মধ্যে আবু জানদাল একজন। তিনি ঢাকার ধনী এক পরিবারের সন্তান। তার পিতা ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে প্রাণ হারান তিনি। জানদালকে নিয়ে লেখা দাবিকের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, জানদাল কিশোর বয়স থেকেই ‘প্রকৃত ইসলামে’র ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

শায়েখ আনওয়ার আল-আওলাকিসহ অন্যান্য মুসলিম জ্ঞানীদের বক্তৃতা শুনতেন তিনি। নিয়মিত ধর্মচর্চার পাশাপাশি জানদাল বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গেও এসব বিষয়ে আলোচনা করতেন। স্থানীয় জিহাদী ও মুসলিম কারাবন্দীদের জন্য আর্থিক সহায়তাও করতেন তিনি। বলা হয়, সিরিয়ায় আইএস খেলাফত ঘোষণা করার পর প্রথম যারা এতে সমর্থন করেছেন, তাদের মধ্যে জানদাল একজন। শুরু থেকেই তিনি আশেপাশের মানুষদের কাছে এই খেলাফতের বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন।

তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল সিরিয়ায় গিয়ে সরাসরি ‘জিহাদে’ অংশ নেয়া। মধ্যপ্রাচ্যের একটি সম্মেলনে যোগ দেয়ার সূত্র ধরে তিনি সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ওই সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করেন জানদাল এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্যের ওই সম্মেলনে যোগ দেন। সেখান থেকে সিরিয়ার যাওয়ার পরিকল্পনা করলে তা জানাজানি হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর সঙ্গে সম্পর্কিত তার এক মামা তার সিরিয়া যাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। সিরিয়ায় গিয়ে জানদাল যোগ দেন সেখানকার জিহাদীদের সঙ্গে।

দাবিকের দাবি, সিরিয়ায় আইএস-এ যোগ দেয়া বাঙালি জিহাদীদের মধ্যে জানদালই ছিলেন কনিষ্ঠ। তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ একদিন হবে আইএস’র মূল ঘাঁটি। সিরিয়ায় নানা ধরনের জিহাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকা জানদাল পরে আইন ইসার এক লড়াইয়ে সামিল হন। সেই লড়াইয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

দাবিকের ওই নিবন্ধে বলা হয়, জিহাদি কার্যক্রমের সর্বোচ্চ পর্যায় আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত আবু জানদাল আল-বাঙালি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close