আরববিশ্ব জুড়ে

হজ্জ্বে এ বছর হাজী পাঠাবে না ইরান

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: এ বছর সৌদি আরবে হজ্জ্ব করতে নিজেদের নাগরিকদের পাঠাবে না ইরান। দেশটির এক কর্মকর্তার বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাধর এ দুই দেশের মধ্যকার বর্ধিষ্ণু উত্তেজনার নতুন লক্ষণ এটি। গত বছর হজে প্রায় ২৪২৬ জন হাজীর মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ৪৬৪ জন ছিলেন ইরানের নাগরিক। ইরানের দাবি, সৌদি আরবের অসক্ষমতার দরুনই পদদলিত হয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়।

খবরে বলা হয়, শিয়া শক্তি ইরান ও সুন্নি ক্ষমতাধর রাষ্ট্র সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক মাস ধরে নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে আলাপ-আলোচনা চলছিল। কিন্তু এখনও কোনো সমাধান বেরিয়ে আসেনি। ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামিক গাইডেন্সবিষয়ক মন্ত্রী আলী জান্নাতি এসব বলেছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম আইআরএনএ-এ প্রকাশিত এক খবরে মন্ত্রী বলেন, সৌদিরা নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানিয়ান হাজীদের জন্য ভিসা, নিরাপত্তা ও পরিবহনের বিষয়ে আমাদের প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেনি।

সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে ২রা জানুয়ারি সৌদি আরবে প্রখ্যাত শিয়া নেতা নিমর আল-নিমরের ফাঁসি কার্যকরের পর। এ ফাঁসি কার্যকরের প্রতিক্রিয়া ইরানে বেশ তীব্র হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সৌদি কূটনৈতিক ভবনের বাইরে প্রতিবাদকারীরা অবস্থান নেয়। এ প্রতিবাদ এক পর্যায়ে সহিংস হয়ে উঠে। প্রতিবাদকারীরা দূতাবাসে প্রবেশও করে। ফলশ্রুতিতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমপর্ক বাতিল করে সৌদি আরব।

এছাড়া, এই দুই দেশ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধেও একে অপরের শত্রু। ইরান সমর্থন করে শাসক বাশার আল আসাদকে। অপরদিকে বিদ্রোহীদের সহায়তা করে সৌদি আরব। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধেও এ দু’টি দেশ পরসপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৮৭ সালে ইরানের প্রতিবাদরত হাজীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে সৌদি পুলিশের। তখন ৪০২ জন নিহত হয়। ইরানের দাবি, তাদের ৬০০ হাজী ওই সংঘর্ষে নিহত হয়। এছাড়া পুলিশ হাজীদের দিকে মেশিনগান থেকে গুলি ছুড়েছে বলেও দাবি করে ইরান। পরবর্তীতে ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালে হজ বয়কট করে ইরান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close