অন্যকিছু

জেনে নিন কোন রাশির মেয়েরা কেমন

অন্যকিছু ডেস্ক: আপনার জীবনে একটি নারী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাকে আপনি কোন ভাবেই বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে এটা ঠিক যে প্রত্যেকটি মানুষেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। নারীদের বেলায় সেটা আরও বেশি প্রযোজ্য বটে। কিন্তু একটা এমন উপায় আছে যাতে করে আপনি সেই নারীর মন পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন। আসুন জেনে নেই কি সেই উপায়? সেটি হলো ওই নারীর রাশি।

প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিত্ব আলাদা। কিন্তু রাশির উপর ভিত্তি করে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। লিঙ্গ ভেদে এই বৈশিষ্ট্য আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। যেমন মেষ রাশির নারী যে কাজটি করবে, মেষ রাশির পুরুষ হয়তো সেই কাজটি করবে না। এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে জেনে নিন কোন রাশির নারীরা সাধারণত কেমন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে থাকেন।

মেষ রাশি (২১ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল)

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেষ রাশির নারী নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করে । তাদের সহজাত নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা থাকে। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতা তাদের মাঝে দেখা যায় । প্রতিটা দিন কর্মচঞ্চল করে রাখার ব্যাপারে তাদের কোন জুড়ি নেই। কখনও কখনও তারা নিজের ক্ষমতার বেশি কাজের ভার নিয়ে ফেলে ।

অনেক সময় দেখা যায় একটা কাজ শেষ না করেই আরেকটা শুরু করে দেয়। মেষ রাশির নারীরা জীবনের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে থাকেন । একটা ভালো কাজের সুযোগ পেলেই তারা সেটা করে ফেলবে, এতে তার নিজের লাভের কথা ভাবেন না। তারা নিজের মতামত জানানোর ব্যাপারে একেবারেই ঠোঁটকাটা । মেষ নারী কখনও কখনও এতই সফল হয়ে ওঠে যা অন্যরাও তার মতো হতে চাইলেও হতে পারে না।।

প্রেমের ক্ষেত্রে মেষ রাশির নারীরা:

মেষ রাশির প্রতীক আগুনের উপাদানে চালিত হয় । এর দ্বারা বোঝা যায়, মেষ রাশির নারীর প্রেমও হয় তেমনই উষ্ণ। মেষ নারী প্রেমের ক্ষেত্রে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে থাকে কিন্তু তার সঙ্গীকেও শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হয় । মেষ নারীর পুরুষ সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব দুর্বল হলে খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মেষ রাশির নারীর সাথে তর্ক বিতর্ক হলে তেমন বিচলিত হবার কিছু নেই। এই তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমেও সম্পর্ক আরও মজবুত হয়ে উঠতে পারে।

বৃষ রাশি (২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে)

প্রথম দর্শনে বৃশ রাশির নারীকে মনে হয় খুব শান্তশিষ্ট ও মিষ্টি প্রকৃতির। সাধারণত তিনি আপনার সাথে এমন মিষ্টি আচরণই করবেন, কিন্তু তিনি যখন রেগে যাবেন তখনই তার আসল রূপ দেখতে পাবেন।

বৃষ রাশি নারীর মেজাজ:

এদেরকে দেখতে নম্র মেজাজের দেখালেও এদের ভিতরে লুকায়িত রয়েছে আগুনে মেজাজ। এর আওতায় না পড়ার চেষ্টা করুন। তবে বৃষ নারী ভালোবাসার ছোট্ট ছোট্ট উপহার পেতে পছন্দ করেন। তাকে উৎসর্গ করতে পারেন নিজের লেখা একটি কবিতা অথবা আন্তরিক অনুভতির সহিত অন্যরকম কিছু ফুল। এতে দেখবেন রাগ গলে পানি হয়ে যাবে।

বৃষ রাশি নারীর বৈশিষ্ট্য:

বৃষ রাশির নারীর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা খুবই একগুঁয়ে হয়ে থাকে। তারা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য কোমরে কাপড় বেঁধে লাগেন । মানসিক শক্তির দিক দিয়েও তারা যথেষ্টই কঠোর। তবে যেমন কঠোর আবার তেমনিই মমতাময়ী হয়ে থাকেন।

বৃষ রাশি নারীর বিচক্ষণতা এবং ধৈর্যশীলতা:

বৃষ নারী হয়ে থাকেন বিচক্ষণ এবং ধৈর্যশীল। এ কারণে তার সফলতা আসে প্রচুর। বৃষের উপাদান হলো মৃত্তিকা, আর তাই তার মাঝে মাতৃসুলভ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে শান্তিতে থাকতেই পছন্দ করেন বৃষ নারী। জীবনে নিরাপত্তার অনুভুতি পেতেও তিনি পছন্দ করেন। সাধারণত বৃষ নারী একই ভুল বার বার করেন না।

বৃষ রাশি নারীর ভালোবাসা:

বৃষ নারীর দিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ধীরস্থির এবং মিষ্টি ভাব নিয়ে অগ্রসর হোন । তারা একটু সময় নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পছন্দ করেন। তাকে প্রেমের ক্ষেত্রে তাড়া না দেওয়াই ভালো। কিছু সীমানা মেনে চলেন তারা এবং পুরুষ সঙ্গীরও উচিত এই সীমানাকে শ্রদ্ধা করে চলা।

মিথুন রাশির মেয়ে (২১ মে থেকে ২১ জুন)

মিথুন রাশির একজন নারীকে বুঝে ওঠা খুবই কঠিন। আকাশের মেঘ ধরে রাখা যেমন কঠিন, মিথুনের মন বোঝাও তেমনি কঠিন। কারণ একজন নয়, তার মাঝে দেখতে পাবেন বহু নারীর ছায়া। মিথুন রাশির নারীর চরিত্রে কেউ কেউ বিরক্ত হতে পারেন, কিন্তু তারা নিজেদের ব্যক্তিত্বে স্বতন্ত্র। চোখের পলকে তার রূপ বদলাতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু নিয়ে তার মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তার মাঝে সৃজনশীলতা লক্ষ্য করা যায় । আশাবাদী মনোভাব থাকার কারণে যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি মানিয়ে নিতে পারেন। মিথুন রাশির প্রতীকে রয়েছে দুইটি সত্ত্বা। মিথুন রাশির নারীর ব্যক্তিত্বে একটি নয়, বরং দুই বা তারও বেশি স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। এ কারণে তার ব্যক্তিত্ব অস্থিতিশীল মনে হতে পারে।

প্রেমের ক্ষেত্রে মিথুন রাশির নারীরা:

প্রেমের ক্ষেত্রে একটু খুঁতখুঁতে হতে পারেন মিথুন নারী। তবে তিনি নিজের পছন্দের সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে নিজের অনুভূতি প্রকাশে তখন আর কোনও রকমের সংকোচ করেন না । আর এই সম্পর্ক সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

কর্কট রাশির মেয়ে (২২ জুন থেকে ২২ জুলাই)

কর্কট রাশির নারীর চরিত্রে চাঁদের প্রভাব প্রবল।কর্কট রাশির নারীর মেজাজ চাঁদের কলা কমা-বাড়ার মতই ওঠানামা করে । সাধারণত তিনি যথেষ্ট সহজ সরল এবং শান্তিপ্রিয় হয়ে থাকেন। তবে তার অনুভুতি অনেক অনেক জটিলও হতে পারে । সবগুলো রাশির মধ্যে কর্কট নারীর বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা সবচেয়ে কঠিন। এরা হয়ে থাকে খুবই স্পর্শকাতর। বিশেষ করে এদের সমালোচনা করার ব্যাপারে খুব সাবধান থাকুন। কারণ এই সমালোচনা তারা সারা জীবন মনে রাখবে।

কর্কট নারীর অনুমান শক্তি

বুদ্ধির পাশাপাশি কর্কট রাশির নারীর অনুমানশক্তিও হয় খুব প্রখর। কর্কট রাশির নারী কোনও ব্যক্তির ব্যাপারে খুব কম জেনেও সে আসলে ভালো না খারাপ তা ধারনা করে নিতে পারে এবং এই ধারনা সাধারণত ঠিক হয়ে থাকে। অন্যদের ব্যাপারে সহানুভূতি দেখাতেও এরা সিদ্ধহস্ত।

প্রেমের ক্ষেত্রে কর্কট নারী:

কর্কট রাশির নারীকে প্রেমের ব্যাপারে একটু সময় দিতে হবে। হুট করে তারা প্রেমে জড়িয়ে পড়তে রাজি নয়। সঙ্গীকে তারা খুব সহজে বিশ্বাস করেন না। এছাড়া অল্পতেই কষ্ট পান তারা। এসব কারণে সম্পর্কের প্রথম দিকে একটু ঝড়ো হলেও পরবর্তী ধীরে ধীরে সম্পর্ক অনেক মিষ্টি হয়ে ওঠে।

সিংহ রাশির মেয়ে (২৩ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট )

সিংহ রাশির নারীর মধ্যে সিংহের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। তারা সাধারণত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন । তাকে বেশি না ঘাঁটানোই ভালো। তারা নাখোশ হয়ে গেলে আগে উপহার এবং মিষ্টি মিষ্টি কথা দিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। তারা হয়ে থাকেন যেমন বুদ্ধিমতী, তেমনি শক্তিশালী চরিত্র এবং সৃজনশীলতা তাদের মাঝে লক্ষ্য করা যায়।

প্রেমের ক্ষেত্রে সিংহ নারী

প্রেমের ক্ষেত্রে এই রাশির নারী কোনও ভাবেই ছাড় দিতে রাজা না। তাকে যদি খুশি করতে পারেন তাহলেই আপনার সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে প্রেমের গল্পের মতই রোমান্টিক ও ড্রামাটিক। তিনি সঙ্গীর জীবনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকতে চান এবং একই সাথে তিনি সঙ্গীকে তার প্রাপ্য গুরুত্ব দিতেও পিছ পা হন না।

কন্যা রাশির মেয়ে (২৩ আগস্ট থেকে ২২ সেপ্টেম্বর)

এই রাশির নারী হবে একেবারেই নারীসুলভ এবং চুপচাপ, অবলা প্রকৃতির? এটা কখোনোই ভাবা যাবে না। কেউ এমন ভাবলে সবচেয়ে বেশি ভুল করবেন। কন্যা রাশির নারীরা অন্যান্য রাশির চাইতে একটু চুপচাপ হলেও তারা একেবারে শান্তশিষ্ট তাও নয়। কেউ কেউ খুবই গোছালো। কেউ কেউ আবার ভয়াবহ রকমের অগোছালো। এসব নারীদের মাঝে নিজেকে “নিখুঁত” করে গড়ে তোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। নিজেকে আরও বেশি উন্নত করে তুলতে গিয়ে তারা অনেক সময় জীবনকে জটিল করে ফেলেন । কন্যা রাশির প্রতীক হলো কুমারী এবং এই কারণে তার মাঝে দেখা যায় একটু লাজুক বৈশিষ্ট্য। তারা সময়ের কাজ সময়ে করতে ভালোবাসেন । ভালোবাসেন প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে।

প্রেমের ক্ষে্ত্রে কন্যা

প্রেমের ক্ষেত্রে কন্যার মাঝে দেখা যায় প্রচ্ছন্ন সংকল্প এবং শক্তি। তিনি ছলনার প্রেমের ধার ধারেন না। তিনি সত্যিকারের ভালবাসায় বিশ্বাসী। ভালোবাসার নামে ভুলেও তার হৃদয় নিয়ে খেলতে যাবেন না। তিনি খুব সহজে প্রেমে পড়েনও না । আবার একবার প্রেমে পড়লে তিনি সেই সম্পর্ককে করে তোলেন দীর্ঘস্থায়ী।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close